স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করবে ৪ বিদেশি কোম্পানি
মাহবুব রনি১৪ নভেম্বর, ২০১৬ ইং
স্থলভাগে চারটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সরকার। এগুলো নির্মাণে ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার পৃথক চারটি কোম্পানিকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। একইসঙ্গে মহেশখালীতে আরেকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে ভারতীয় কোম্পানি রিলায়েন্সের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে পেট্রোবাংলাকে অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

দেশে প্রথমবারের মত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে গত জুলাই মাসে চুক্তি করে জ্বালানি বিভাগ। এলএনজি আমদানির উদ্যোগ গ্রহণের ছয় বছর পর দ্রুততম সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এ চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৮ সালের প্রথমার্ধেই মহেশখালীতে নির্মিতব্য এ টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত গ্যাস পাওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যতম বিকল্প হিসেবে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ব্যবহার বাড়াতে চায় সরকার। ভবিষ্যতে বিদ্যুত্ ও শিল্প উত্পাদনসহ উত্পাদনশীল খাতে এ ব্যয়বহুল জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। আগে স্থলভিত্তিক দুইটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও এখন তা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এরই অংশ হিসেবে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনালগুলো নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

গত বুধবার জ্বালানি বিভাগের এক সভায় স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, নতুন চারটি স্থল টার্মিনাল নির্মাণে চারটি কোম্পানির সঙ্গে অবশ্য পালনীয় নয় এমন সমঝোতা স্মারক (নট বাইন্ডিং এমওইউ) স্বাক্ষর কিংবা যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠনে চুক্তি করবে পেট্রোবাংলা। এ ব্যাপারে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

স্থলভাগে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কোম্পানিগুলো হলো- ভারতের পেট্রোনেট, চীনের হুয়ানকিং কন্ট্রাক্টিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (এইচকিউসি), সিঙ্গাপুরের সেম্বকর্প ইউটিলিটিজ পিটিই ও হংকং-সাংহাই মানজেলা পাওয়ার এবং মালয়েশিয়ার গ্লোবাল এলএনজি ও পেট্রোনাস মালেশিয়া। পেট্রোবাংলা নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বিদ্যুত্ জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ আইন-২০১০ এর অধীনে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য দরকষাকষি শুরু করবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার এলএনজি আমদানিতে জোর দিয়েছে। ওই নির্বাচিত চারটি কোম্পানি ছাড়াও আরো ১০টি দেশি-বিদেশি সংস্থা এলএনজি টার্মিনাল করার বিষয়ে সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে। টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি এলএনজির আমদানি মূল্য নির্ধারণের নীতি নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য জ্বালানি সচিবকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব বাজারে এলএনজির দর কম। এই দর অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ সুলভেই এলএনজি কিনতে পারবে। এলএনজি আমদানির জন্য ২০১১ সালেই কাতারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে সরকার। এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে দেরি হওয়ায় এখনো চূড়ান্ত চুক্তি সই হয়নি।

এদিকে চট্টগ্রামের মহেশখালীতে সমুদ্রে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে ভারতের রিলায়েন্সের সঙ্গে চুক্তি করতে পেট্রোবাংলাকে অনুমতি দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এ টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। এর ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস দিয়ে রিলায়েন্স ৭৫০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুেকন্দ্র পরিচালনা করবে। বাকি গ্যাস পেট্রোবাংলার কাছে বিক্রি করতে চায় রিলায়েন্স। বিদ্যুত্ জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বিশেষ আইনের আওতায় এ বিষয়টিও নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে জ্বালানি বিভাগ। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন দর কষাকষি শেষে পেট্রোবাংলা ও রিলায়েন্সের মধ্যে গ্যাস ক্রয় চুক্তি (জিপিএ) স্বাক্ষর হবে।

গত ৮ অক্টোবর জ্বালানি বিভাগের উপসচিব জনেন্দ্র নাথ সরকার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পেট্রোবাংলাকে অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, জ্বালানি বিভাগের ১৮ সেপ্টেম্বরের পরিপত্র অনুযায়ী গঠিত সাধারণ প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটির মাধ্যমে জিপিএ স্বাক্ষরের বিষয়ে নেগোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

গত বছর রিলায়েন্স বাংলাদেশে তিন হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুত্ কেন্দ্র এবং বছরে ২০ লাখ টন এলএনজি (দিনে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস) সরবরাহের সক্ষমতা সম্পন্ন একটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দেয়।  তাদের প্রস্তাব গত ৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক অনুমোদন লাভ করে। তিন হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুত্ কেন্দ্র ও এলএনজি টার্মিনালের জন্য কোম্পানিটি বাংলাদেশে মোট ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে বলে বিনিয়োগ বোর্ডকে জানিয়েছিল।

গত আগস্টে এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনায় বছরে ১২৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের ব্যয়ের হিসেব দিয়েছে ভারতীয় রিলায়েন্স। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, টার্মিনাল পরিচালনায় রিলায়েন্স প্রস্তাবিত ব্যয়টি বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। মহেশখালীতে নির্মিতব্য দেশের প্রথম ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে পেট্রোবাংলা যে চুক্তি করেছে তাতে বছরে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০ মিলিয়ন ডলার। রিলায়েন্সের প্রস্তাব এর চেয়ে সাড়ে ৩৪ মিলিয়ন ডলার বেশি।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন