বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ
দুশ্চিন্তায় পাট রপ্তানিকারকরা, অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
আহসান হাবীব রাসেল০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর এন্টি ডাম্পিং শুল্ক (বাজার দখলে কম দামে পণ্য ছাড়ার শাস্তিস্বরূপ শুল্ক) আরোপের সুপারিশ করেছে ভারতের ডাম্পিং নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘এন্টি ডাম্পিং এন্ড অ্যালাইড ডিউটিস (ডিজিএডি)’। বাংলাদেশ পাটপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতে ডাম্পিং করছে এমন অভিযোগে ৫ থেকে ৩৫ শতাংশ (কোম্পানি ও পণ্যভেদে) এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করার সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে ভারতের পক্ষ থেকে এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানিকারকরা।

ঢাকা চেম্বার জানিয়েছে, বাংলাদেশ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের পাটপণ্য ভারতে রপ্তানি করেছে। ভারতে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ২০ শতাংশেরও বেশি হলো পাট ও পাটজাতপণ্য। এ অবস্থায় ভারত সরকার এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করলে ভারতে বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি ডলারের পাটপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে এবং প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাংলাদেশি পাটের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অথচ যেসব ভিত্তিতে সাধারণত এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয় বাংলাদেশের পাটপণ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের কিছু হয়নি। তাছাড়া এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ হলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে যাবে। বেকার হয়ে যাবে অনেক শ্রমিক। তাই পাট শিল্পের উদ্যোক্তারা অতি দ্রুত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এ শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স এসোসিয়েশন-এর চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেন বলেন, এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পাট রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যাবে। ফলে পাট শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অনেক পাটকল বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া পাট রপ্তানি কমে গেলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেড়ে যাবে। এসব বিবেচনায় সরকারকে কূটনৈতিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে যেন এ শুল্ক আরোপ না করা হয়।  উদ্যোক্তারা বলছেন, বর্তমানে ভারতে পাট ও পাটজাতপণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে বাংলাদেশ। শাস্তিমূলক এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হলে সুতা রপ্তানিতে টনপ্রতি ৯৭ থেকে ১৬২ ডলার এবং চট ও বস্তায় ১২৫ থেকে ১৩৯ ডলার পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে। এতে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি ব্যাপকভাবে মার খাবে। এদিকে নেপালের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ করেছে ভারত। শেষ পর্যন্ত নেপালের পাটপণ্যে ১ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের জন্য পণ্যভেদে শুল্ক হার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ধার্য করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপেও বৈষম্য করা হচ্ছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

ট্যারিফ কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসার পর ভারতের কাস্টমস, এক্সসাইজ অ্যান্ড গোল্ড (নিয়ন্ত্রণ) অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের (সিইজিএটি) কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তারা। এ জন্য বিভিন্ন হারে ফি জমা দিতে হবে। এরপর আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত জানাবে সিইজিএটি।  কমিশনের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র, পাট মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এন্টি ডাম্পিং শুল্কের বিরুদ্ধে ভারতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোক্তা। পাট শিল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এন্টি ডাম্পিং তদন্ত শুরু হওয়ার পর ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের অভিযুক্ত কয়েকটি কারখানা পরিদর্শন করেছে। তদন্তকালে তারা কোম্পানির নিরীক্ষিত হিসাব এবং রপ্তানি ও উত্পাদন সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই বাছাই করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের ডাম্পিং সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা খুবই কম, ফলে ডিজিএডি’র তদন্তের ফলাফল এন্টি ডাম্পিং শুল্কের পক্ষে গেছে। আগামীতে সব শিল্প উদ্যোক্তাদের এ বিষয়ে অবহিত করা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন