নাটোরের খুন হওয়া তিন যুবলীগ কর্মী
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়েই তাদের তুলে নেওয়া হয়েছিল
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
নাটোর শহরের কানাইখালী এলাকার নিহত তিন যুবলীগ কর্মীকে তুলে নেওয়া হয়েছিল রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া এলাকা থেকে। একটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কতিপয় ব্যক্তি গত শনিবার রাত ১১টার দিকে তাদের তুলে নিয়ে যায়। সাদা ও কালো রঙের দুটি মাইক্রোবাসে তাদের তুলে নেওয়া হয়। এরপর সোমবার সকালে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের রঘুনাথপুর গ্রামের কলাবাড়ি এলাকার একটি আমবাগান থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনজনের কপালেই গুলির গভীর ক্ষত চিহ্ন ছিল। পুলিশের ধারণা, মৃত্যু নিশ্চিত করতে খুব কাছ থেকে তাদের গুলি করা হয়েছে। এ সব তথ্য স্থানীয় এবং চারঘাট ও পুঠিয়া থানা পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নিহতরা হলেন নাটোর সদর উপজেলার কানাইখালী এলাকার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে রেদওয়ান আহমেদ সাব্বির (৩২), মাওলানা লুতফর হাজির ছেলে আবু আব্দুল্লাহ (৩০) ও উত্তর চৌকিরপাড়া এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে সোহেল আহমেদ (৩২)। সাব্বির নাটোর পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বাকি দুজন কর্মী ছিলেন।

সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে চারঘাটের নিমপাড়া এলাকায় এক বাড়ি থেকে মাদক সেবন করে মোটরসাইকেলে নাটোরে ফেরার পথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের গাড়িতে তুলে নেয়। এ সময় স্থানীয়রা অপহরণকারী মনে করে পুঠিয়া ও চারঘাট থানায় ফোনও করেন। পরে পুলিশ খবর নিয়ে জানতে পারে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া দলের সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এরপর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে আর বেশি দূরে এগোয়নি। পরে পুঠিয়া বাজার হয়ে ঝলমলিয়া দিয়ে তাদের নাটোরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঝলমলিয়া বাজারে অপেক্ষা করার সময় স্থানীয় দুইটি মাইক্রোবাসে কয়েকজন লোককে বসে থাকতে দেখে স্থানীয় এলাকাবাসীর মনেও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ সময় তারা এক আওয়ামী লীগ নেতাকেও বিষয়টি জানান। পরে ওই নেতা থানাসহ বিভিন্ন স্থানে ফোন করেন। তবে তাকেও পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয় মাইক্রোবাসের ওই যাত্রীরা একটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। নাটোরের তিনজনকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় ঝলমলিয়া বাজারে দায়িত্বরত টহল পুলিশের সদস্য কেন তিনজনকে আটক করা হয়েছে, জানতে চাওয়ায় এ নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ওই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কথা কাটাকাটিও হয়।

কিছুক্ষণ পরে যুবলীগের তিন নেতাকর্মীকে নিয়ে নাটোরের দিকে রওনা দেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরপর নাটোরের তকিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে নিয়ে যাওয়া হয় যুবলীগের ওই তিন নেতাকর্মীকে। পরে সেখানে তাদের মোটরসাইকেলটি রেখে মাইক্রো দুটি শহরের দিকে চলে যায়।

প্রসঙ্গত, নিহত সাব্বিরের মা রুখসানা বেগম গত রবিবার নাটোর সদর থানায় দায়ের করা জিডিতে উল্লেখ করেছেন, তকিয়া বাজার থেকে তার ছেলেসহ তিনজনকে তুলে নিয়ে গেছে একটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এ দিকে নিমপাড়া থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘এই ধরনের কোনো ঘটনার কথা আমি শুনিনি। যদি ঘটে থাকে, তা হলে খোঁজ নিয়ে বলবো।’

অন্যদিকে নাটোরের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, যুবলীগের নিহত তিন নেতাকর্মীর মধ্যে সাব্বির ছিলেন দুর্ধর্ষ ক্যাডার। এর আগেও তাকে একটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেছিল। তবে জেলার প্রভাবশালী একজন এমপি তাকে জোর করে ছাড়িয়ে নেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন