রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভেস্তে গেল ইয়াবা বন্ধের উদ্যোগ
মংডুতে চলতি মাসে বৈঠক হবার কথা ছিল
পিনাকি দাসগুপ্ত০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভেস্তে গেল ইয়াবা বন্ধে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের উদ্যোগ।  চলতি মাসে মিয়ানমারের মংডুতে এ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিয়ানমার থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আপাতত বৈঠকে বসা তাদের পক্ষে সম্ভব না।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মরণ নেশা ইয়াবা ট্যাবলেট মূল উত্সস্থল মিয়ানমার। নৌ পথে গত দেড় দশক ধরে মিয়ারমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে ইয়াবার চালান। এ নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বহুবার  আলোচনা ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনার উদ্যোগ নিলে এতদিন মিয়ানমারের কাছ থেকে কোনো ফলপ্রসূ সাড়া মেলেনি।  মিয়ানমারের সরকার পরিবর্তনে তাদের অবস্থানের কিছুটা পরিবর্তন ঘটে।  মিয়ানমারের নারকোটিকস বিভাগ তাদের অতীত অবস্থান থেকে সরে এসে গঠনমূলক আলোচনা উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যু গোটা পরিকল্পনাকে অনিশ্চিত অবস্থানে নিয়ে গেছে। আগামীকে এ নিয়ে আলোচনা হবে কি না তাও বলা যাচ্ছে না।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চলতি বছরের ১২-১৩ সেপ্টেম্বর  মিয়ানমারের ইংয়াগুনে বিমসটেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি টিম। বৈঠকে ইয়াবা বন্ধসহ বেশ কিছু আলোচনা হয়। আলোচনায় নভেম্বর  ইয়াবা বন্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য  মংডুতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। এর আয়োজক ছিল ইউএনওডিসি (ইউনাইটেড নেশন অব ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ)।

ইংয়াগুনে অনুষ্ঠিত বিমসটেক বৈঠকে অংশগ্রহণকারী মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক  (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম বলেন, ইয়াবা বন্ধে মিয়ানমারের কাছ থেকে এভাবে কখনও প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। তাদের কথায় আমরাও আশান্বিত হয়েছিলাম। রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে ওই সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে। আর কবে হবে তা বলা  বলা মুশকিল।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কী ইয়াবার চালান আসা  কমেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা প্রতিদিন ইয়াবার চালান বহন করতো তাদেরটা কিছুটা কমেছে। কিন্তু চালান বন্ধ হয়নি। আগে আসতো ঢাকার দিকে। এখন নৌপথে দেশের অন্যান্য এলাকায় চলে  যাচ্ছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, তিন দিন আগেও কোস্টগার্ডের সদস্য কক্সবাজার থেকে দেড় লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করেছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিচালক ( অপারেশন ও গোয়েন্দা) পুলিশের ডিআইজি সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইয়াবা বন্ধের ব্যাপারে অতীতে মিয়ানমারের কাছ থেকে খুব একটা দৃশ্যমান কিছু দেখা যায়নি। এমনকি মিয়ানমারে যারা ইয়াবা তৈরি এবং  বাজারজাত করে তাদের নাম ঠিকানাসহ তালিকা দেওয়া হয়েছিল। আমরা ধরে নিয়েছিলাম, মিয়ানমারের নারকেটিকস বিভাগ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু তালিকা প্রদানের প্রায় এক বছর পর মিয়ানমারের নারকোর্টিকস দফর থেকে চিঠি দিয়ে আমাদেরকে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ থেকে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে তাতে সঠিকভাবে নাম ঠিকানা লিপিবদ্ধ করা হয়নি। ফলে কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন