ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধে বড়পুকুরিয়ার কয়লা সরবরাহ বন্ধ
বিপাকে ইটভাটা মালিক
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
স্থানীয় কয়লা ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধের মুখে ৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা সরবরাহ। টাকা জমা দিয়েও কয়লা নিতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন ইটভাটা মালিকসহ কয়লা ব্যবহারকারীরা। পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছেন খনিতে কয়লা লোডের কাজে নিয়োজিত ৭৫ শ্রমিকসহ ট্রাক শ্রমিকরা।

খনি সূত্র জানায়, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৪ ডিসেম্বর থেকে শুধু কয়লা ব্যবহারকারীদের মাঝে কয়লা বিক্রির ঘোষণা দেয় খনি কর্তৃপক্ষ। এতে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেড লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্স ও ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কয়লার ব্যবসা করে আসা খনি গেটের ১১০ ব্যবসায়ী অকার্যকর হয়ে পড়েন। ঐ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার থেকে তারা কয়লা বিক্রিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। ফলে ঐদিন থেকে বন্ধ হয়ে যায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা সরবরাহ। পাশাপাশি স্থানীয় ট্রাক শ্রমিকরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে খনি কর্তৃপক্ষ কয়লা বিক্রি না করায় কয়লা পরিবহন বন্ধ করে দেয়। এতে খনির কয়লা বিপণন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে।

এদিকে ভরা মৌসুমে টাকা জমা দিয়ে ডিও নেয়ার পরও কয়লা নিতে না পারায় মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন ইটভাটার মালিক ও কয়লা ব্যবহারকারীরা। কয়লা নিতে নাটোর থেকে আসা সিএইচএন ব্রিক্স-এর প্রতিনিধি ইমরুল ইসলাম জানান, গত ৪ ডিসেম্বর ৩০০ টন কয়লা ক্রয়ের জন্য ৩৬ লাখ টাকা জমা দিয়ে খনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ডিও নেন তিনি। এজন্য নাটোর থেকে ৫টি ট্রাক নিয়ে এসেছেন তিনি। কিন্তু গেটে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি কয়লা নিতে না পেরে ৪ দিন থেকে পড়ে রয়েছেন। এতে আর্থিকভাবে লোকসান গুণতে হচ্ছে তাকে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে তাদের ইটভাটায় কয়লার মজুদ শেষের দিকে চলে এসেছে। সময়মতো কয়লা নিয়ে যেতে না পারলে ইটভাটা বন্ধ হয়ে যাবে।

স্থানীয় কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জানান, ‘খনির সূচনা লগ্ন থেকে তারা ট্রেড লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্স ও ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনমূলে কয়লার ব্যবসা করে আসছেন। এখন খনি কর্তৃপক্ষ তাদের নিকট কয়লা বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় ব্যবসায়িকভাবে তারা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা গেটে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের কাছে কয়লা বিক্রি করা না হলে তারা খনি থেকে কয়লা বের হতে দেবেন না। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন তারা।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস.এম.এন আওরঙ্গজেব জানান, তারা সবসময়ই কয়লা বিক্রি করতে প্রস্তুত। তিনি জানান, ব্যবস্থাপনা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু ব্যবহারকারীদের কাছে কয়লা বিক্রির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হলে পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই তা করতে হবে। যেহেতু স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ইতোপূর্বে কয়লা বিক্রিতে সহায়তা করে এসেছেন, সেহেতু তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে কয়লা নিতে আসা শত শত ট্রাককে খনির গেটে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ট্রাক চালকরা জানান, তারা সিলেট, নোয়াখালী, নাটোর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে কয়লা নিতে এসেছেন।    

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন