ম্যাচ হারলেও হৃদয় জিতেছে বাংলাদেশ
স্পোর্টস রিপোর্টার১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
ম্যাচ হারলেও হৃদয় জিতেছে বাংলাদেশ
ম্যাচ শেষে রবিচন্দন অশ্বিন বলটা নিয়ে এগিয়ে এলেন মুশফিকুর রহিমের একটা অটোগ্রাফের জন্য। ২৫০তম উইকেট নেওয়া বলটায় মুশফিকের সই নিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চান।

শুধু অশ্বিনের এই উপলক্ষ আছে বলে নয়, ভারতের সর্বস্তরের ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ বলছেন, বাংলাদেশের এই  এক টেস্টের সিরিজটা তাদের জন্য স্মরণীয় এক স্মৃতিই হয়ে থাকছে। শেষ বিচারে বাংলাদেশ ২০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেছে হায়দরাবাদ টেস্টে। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে বিশ্বের সেরা টেস্ট দলের বিপক্ষে ৯ নম্বর দল হিসেবে বাংলাদেশ যে লড়াই করেছে, তাকে জয়ের মতো বড় করে দেখছে ভারতের বিশেষজ্ঞ মহল।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসেই ভারতের বিশাল রানের কাছে পিছিয়ে পড়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল ৪৫৯ রান। ৩ উইকেটে ১০৩ রান নিয়ে গতকাল দিন শুরু করেছিল। বাকি ৭ উইকেটে আর বিরাট কিছু করতে না পারলেও পঞ্চম দিন চা বিরতি পর্যন্ত প্রায় খেলা টেনে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ১৪৯ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে এই অভিযানে সামনে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৯ নম্বরে নামা কামরুল ইসলাম রাব্বি ৭০ বলে অপরাজিত ৩ রান করে বুঝিয়েছেন বাংলাদেশের দৃঢ়তা।

দৃঢ়তা প্রথম ইনিংসে দারুণ দেখিয়েছেন মুশফিকুর রহিম এবং সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজও।

এই দৃঢ়তাই নজর কেড়েছে ভারতের।

দলটির কোচ স্বয়ং অনিল কুম্বলে বলেছেন, ‘আমরা কয়েক বছর আগে টেস্টে যখন বাংলাদেশকে শেষ দেখেছি তার সঙ্গে এই বাংলাদেশের মিল নেই। তারা অসাধারণ প্রতিরোধ করেছে। এটা ভারতের মাটিতে সফরকারী দেশগুলোর কাছ থেকে সাধারণত প্রত্যাশা করা হয় না।’

মানে, এই জায়গাটায় কুম্বলে ভারত সফর করা দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের চেয়ে বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখছেন না।

আরেকটি জায়গায় বাংলাদেশ চমকে দিয়েছে ভারতকে—বাণিজ্য।

মূলত লোকসানের ভয়েই এতদিন বাংলাদেশকে ভারত নিজের দেশের সফরে ডাকেনি। তাদের ধারণা ছিল, বাংলাদেশের খেলা দেখতে মাঠে লোক আসবে না। কিন্তু ভারতীয় দর্শকরা এই ধারণাকে চমকে দিয়েছেন। প্রায় দিন মাঠ বোঝাই করে রেখেছেন দর্শক। এটাকেও বাংলাদেশের ক্রিকেটের জয় হিসেবে দেখছেন অনেকে।

হায়দরাবাদ ক্রিকেট সংস্থার সচিব কে জন মনোজও বিবিসিকে বলছিলেন, বাণিজ্যিক দৃষ্টিতেও এই টেস্টটা যথেষ্ট সফল, ‘ভারতীয় বোর্ড এই দিক থেকে দারুণ হোমওয়ার্ক করেছে এবং টেস্টের মার্কেটিংও খুব ভালো হয়েছে। আর এখানে প্রোডাক্ট যেটা, সেই বাংলাদেশ দলও আগের তুলনায় এখন অনেক উন্নতি করেছে। পাঁচদিন ধরে লড়েছে। টেস্ট ক্রিকেটের জন্য সেটা খুব ভালো বিজ্ঞাপন।’

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
পড়ুন