মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া
এমপি গাজী দস্তগীরের অফিসে গুলি, একজন গুলিবিদ্ধ
এপিএসসহ আটক ৮
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
এমপি গাজী দস্তগীরের অফিসে গুলি, একজন গুলিবিদ্ধ
রাজধানীর পুরানা পল্টনে নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীরের অফিসে গুলির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কালভার্ট রোডের ৩৭/২, একটি দশ তলা ভবনের দোতালায় গাজী গ্রুপের অফিসে গুলির ঘটনায় মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া (২১) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলির ঘটনার পরপর ওই অফিসের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পুলিশ সংসদ সদস্যের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) কামরুজ্জামানসহ ৮ জনকে আটক করে। ঘটনার সময় সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর জাতীয় সংসদে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত জাতীয় সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। তবে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ৭ টার দিকে গুলিবিদ্ধ মোশারফকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তার পেটে একটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে আল আমিন ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, মোশাররফ ছাত্রলীগের কর্মী। তাকে গুলি করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আনোয়ার  হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, একটি পক্ষ থেকে গুলি করা হয়েছে। তবে রাইফেল নাকি শটগান ব্যবহার করা হয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ঐ অফিস থেকে ৮ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গাজী দস্তগীর গাজী ট্যাংক ও গাজী গ্রুপের মালিক। তার স্ত্রী হাছিনা গাজী তারাবো পৌরসভার মেয়র।  তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৩৭/২, পল্টন টাওয়ারের দোতালায় গাজী গোলাম দস্তগীরের অফিস। এখানে মূলত তার গাজী ট্যাংকের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই অফিসে তার একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী কামরুজ্জামানও বসেন। গতকাল সন্ধ্যায় কামরুজ্জামানের অফিসে এই ঘটনা ঘটে।

সংসদ সদস্যের এপিএস কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, মোশাররফসহ ১০-১২ জন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে এমপির সঙ্গে দেখা করতে অফিসে আসেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। হঠাত্ করেই একটি গুলি এসে মোশাররফের শরীরে লাগে। পরে তাকে ঢামেকে নেয়া হয়।

তবে ঐ ভবনের সামনে একটি চায়ের দোকানদার সাংবাদিকদের জানান, সন্ধ্যার দিকে একটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে অন্তত ২০/২২ জন যবুক ঐ ভবনের সামনে নামে। তারা ঐ অফিসে প্রবেশ করার অন্তত আধঘন্টা পর তিনি শব্দ শুনতে পান। এরপরই ঐ ভবন থেকে লোকজন বেরিয়ে আসতে শুরু করে। কিছু সময় পর এক যুবককে কয়েকজন ধরাধরি করে নীচে বের করে আনে। তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে রওনা দেয়। তখন তিনি জানতে পারেন, অফিসের ভিতর গুলির ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, গুলির ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাজী গ্রুপের অফিসটি বন্ধ করে দিয়েছে। সেখান থেকে কামরুজ্জামানসহ ৮ জনকে আটক করে পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।  

গুলিবিদ্ধ মোশারফ হোসেনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতায়। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশংকাজনক।

পল্টন থানার ওসি রফিকুল ইসলাম এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটকের কথা স্বীকার করে বলেন, এক পক্ষ থেকেই সেখানে গুলি করা হয়েছে। তবে কারা গুলি করেছে-সে ব্যাপারে কোন তথ্য মেলেনি।

উল্লেখ্য,২০১০ সালের ১৩ আগষ্ট জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওনের অফিসের সামনে তার গাড়িতে দেহরক্ষী ইব্রাহিম হোসেনকে তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
পড়ুন