জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন কর্মকর্তা দুদকের হাতে আটক
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
দুর্নীতির অভিযোগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সহকারী রেজিস্ট্রার ও সহকারী পরিচালককে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—প্রক্টর ও উপ-রেজিস্ট্রার এইচ এন তায়েহীদ জামাল, সহকারী রেজিস্ট্রার (আইন শাখা) সিদ্দিকুর রহমান স্বপন ও সহকারী পরিচালক (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) শেখ মো. মোফাজ্জল হোসেইন। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গণনিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সিলেকশন গ্রেড দিয়ে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা রয়েছে। মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন কর্মকর্তাকে আটকের পর তাদের জয়দেবপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গতকাল তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তিনজনকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন।

প্রক্টর গ্রেফতারের ব্যাপারে দুদক সূত্র জানায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবৈধভাবে সিলেকশন গ্রেড প্রদান করে সরকারের ১ কোটি ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৪ টাকা ক্ষতির অভিযোগে ২০১২ সালে আব্দুল হাফিজ নামের এক ব্যক্তি মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলাটি উচ্চ আদালত গেলে আদালত দুদককে তদন্তের নির্দেশ দেয়। দুদক তদন্ত করে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল সোমবার ভোরে দুদকের ঢাকা-২ এর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এর নের্তৃত্বে মামলার  তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক ফজলুল বারী মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের বাসা থেকে গ্রেফতার করে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার

এদিকে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারীকে ঘুষের টাকাসহ আটক করার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জয়নাল আবেদীনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অপর দিকে এ ঘটনায় সরাসরি অভিযুক্ত অফিস সহকারী আব্দুল আজিজকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. সাফায়েত মাহবুব চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এছাড়া ঘটনা তদন্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দুদক কর্মকর্তাদের উপর হামলার ব্যাপারে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় ৩০৭ নম্বর কক্ষে অফিস সহকারি আজিজকে নগদ ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক করেন দুদকের (সিলেট) আঞ্চলিক পরিচালক শিরিন পারভীনের নেতৃত্বে একটি দল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের হামলায় আহত হন দুদকের তিন কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ সময় উপস্থিত থাকলেও তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দুদক কর্মীরা। এ ঘটনায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন দুদকের সিলেট কার্যালয়ের পরিচালক শারমিন পারভীন।

‘প্রত্যাহার নয়, পদোন্নতি’

সিলেট অফিস জানায়, প্রত্যাহারের খবরকে ‘গুজব’ বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। তিনি লেখেন—‘‘সিলেট থেকে আমার পদোন্নতিজনিত বদলির আদেশ হয়েছে গত ৭ ফেব্রুয়ারি। সেদিন আমি ফেসবুকে সংবাদটি শেয়ার করি। অন্যদিকে, সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুদকের সঙ্গে অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটে এর  ২দিন পর। একটি মহল প্রচার করছে সেদিনের ঘটনার জের ধরেই নাকি আমাকে  প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ আমি যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি নিয়ে সিলেট থেকে যাচ্ছি।’’ পোস্টের সাথে পদোন্নতির আদেশের একটি কপিও সংযুক্ত করে দেন তিনি। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম চৌধূরী (সার্বিক) জানান, জেলা প্রশাসকের পদোন্নতি হয়েছে তাই তিনি মঙ্গলবার সকালে চলে যাবেন।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
পড়ুন