চট্টগ্রাম কাস্টমসে দুর্নীতি রোধে ক্লোজ ডোর সিস্টেম
চলতি সপ্তাহেই চালু হতে পারে
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। আমদানি-রপ্তানি পণ্যের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এর কক্ষ তথা হলরুমে এবার সিএন্ডএফ’র লোকজন নির্দিষ্ট কাউন্টারের মাধ্যমে তাদের বিল অব এন্ট্রি বা কাগজপত্র জমা দিবেন। কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এসেসমেন্ট শেষে যথারীতি কাউন্টারের মাধ্যমেই তা সিএন্ডএফ কিংবা আমদানি ও রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধির নিকট তা সরবরাহ করবেন। এ সপ্তাহ থেকেই তা কার্যকর করা হবে বলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. আবদুল্লাহ জানিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের এসেসমেন্ট করার সময়ই সরাসরি অর্থের লেনদেন হয়ে থাকে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া গত ৩০ জানুয়ারি দুদকের একজন কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস পরিদর্শনশেষে সিএন্ডএফ’র লোকজনের অবাধে কর্মকর্তাদের নিকট পৌঁছার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের প্রতিটি পর্যায়ে দুর্নীতি রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হলরুমে প্রবেশ বন্ধ করার কথা বললে সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ না করে কতিপয় শর্ত যুক্ত করে দিয়েছে। সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাচ্চু বলেছেন, এক্ষেত্রে সকালে পেপার জমা দেওয়া হলে কতক্ষণে তার এসেসমেন্ট কাজ সম্পন্ন হবে সে সময় নিশ্চিত করে দিতে হবে। অন্যথায় কমিশনার তার ইচ্ছে অনুযায়ী নতুন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে অনিশ্চিত সময়ের জন্য আমরা অপেক্ষা করতে পারব না।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্লক ক্লোজ ডোর সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। কাস্টমসের নির্দিষ্ট কার্ডধারী ছাড়া অন্য কেউ ওই ব্লকে প্রবেশ করতে পারেন না। চট্টগ্রাম কাস্টমসে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত (আনঅফিসিয়াল) ২৫০ জন ‘ফালত’ুকে ইতোমধ্যে বিতাড়ন করা হয়েছে। এদের অনেকে ১০/১২ বছর ধরে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিল। তাদের মাধ্যমেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

বন্দরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের মাত্র পাঁচটি স্কেনিং মেশিন রয়েছে। তাও অনেক পুরনো। এগুলো থেকে ভালো ফলাফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন যে পরিমাণ বিল অব এন্ট্রি জমা পড়ে তার খুবই স্বল্পসংখ্যক কায়িক পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলা হয়, এর মাত্র ১৮ থেকে ২০ ভাগ পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। কাস্টমস তার রিস্ক ম্যানেজমেন্টের আওতায় সুনির্দিষ্ট কিছুসংখ্যক আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের কাগজের ব্যাপক পরীক্ষা করে থাকে। একাধিকবার বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত সিএন্ডএফ কিংবা প্রতিষ্ঠান এবং কিছু নির্দিষ্ট দেশ ও নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে কম্পিউটারের মাধ্যমে পেপারগুলো পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়ে থাকে। তবে কাস্টমসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামীতে সুনামের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানসমূহকে তাদের নিজেদের উদ্যোগে কাগজপত্রের এসেসমেন্ট করে পণ্যের শুল্ক প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কাস্টমসের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রয়োজনের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ লোকবল নিয়ে সকল পণ্যের পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। কারণ প্রতিদিন সব মিলিয়ে ৪/৫ হাজার বিল অব এন্ট্রি জমা হচ্ছে। এই বিশাল বিল অব এন্ট্রির এসেসমেন্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। অনেক সময় পণ্যের খালাস হয়ে গেলেও অভিযোগ পাওয়া যায়, সঠিকভাবে এসেসমেন্ট করা হয়নি। এর প্রেক্ষিতে পণ্য ক্লিয়ারেন্স অডিটের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে শুল্ক আদায় করা হয়। গত এক বছরে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিটের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সরকারের শুল্ক বৃদ্ধি এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে বন্দরে ১২টি স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। কাস্টমসের ৫৫ ধরনের কাজ কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ করে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬/৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বহিষ্কার ও ওএসডি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার এএফএম আবদুল্লাহ খান ‘ইত্তেফাক’কে জানান, কাস্টমসের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে অনেক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অনেকগুলো ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি বলেন, এরপরও কেউ অপরাধ করলে তার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
পড়ুন