তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পানির জন্য হাহাকার
নদী ও ব্যারেজ এলাকায় নেই পানি প্রবাহ। সরকারের দিকে তাকিয়ে লাখো কৃষক
ওয়াদুদ আলী, রংপুর প্রতিনিধি১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পানির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। তিস্তা নদীসহ ক্যানেলেও পানি নেই। পানির অভাবে খরস্রোতা তিস্তা এখন অনেকটাই মরা খাল। পায়ে হেঁটে নদী পার হচ্ছে মানুষ। তিস্তার মরণদশার একমাত্র কারণ পানি নিয়ে কোনো চুক্তি না হওয়া। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে রংপুর অঞ্চলের লাখো কৃষক তাকিয়ে আছে সরকারের দিকে।

জানা যায়, উজানে গজলডোবা ব্যারেজ দিয়ে ভারত তিস্তার পানি আটকে জলবিদ্যুত্ ও সেচ পরিচালনা করছে। ফলে বাংলাদেশে পানি কমে তিস্তা ধু ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে তিস্তার পানি বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তিস্তা অববাহিকার ৫ হাজার ৪২৭টি গ্রামের মানুষ তিস্তার ওপর নির্ভরশীল। দুই দেশই তিস্তার পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সময়ে নদীর ওপর ও আশপাশে অবকাঠামো তৈরি করেছে। ভারত জলবিদ্যুত্ ও সেচ কাজে তিস্তার পানি ব্যবহার করে। বাংলাদেশ শুধু পরিকল্পিত সেচের জন্য তিস্তার পানি ব্যবহার করে। তবে শুষ্ক মৌসুমে ভারতের পানি প্রত্যাহারের কারণে বাংলাদেশে তিস্তার পানি কমে গেছে। ফলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১২টি উপজেলার কৃষি উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়াও, ছোট ছোট নদীগুলোর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ওইসব নদীতে ইতোপূর্বে স্থাপিত সেচ যন্ত্রগুলো এখন পানি পাচ্ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট সেচ যন্ত্রের আওতাধীন বোরো জমি পানির অভাবে এখন শুকিয়ে যাচ্ছে। বোরো আবাদ পড়েছে হুমকির মুখে। বোরো আবাদের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা পূরণে আশংকা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত ডিসেম্বর থেকে ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, তিস্তা, করতোয়া  ও যমুনাসহ ছোট-বড় সবগুলো নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করে। ফেব্রুয়ারিতে এসে অব্যাহত পানি হ্রাসের ফলে নদীগুলো নিজেদের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে শুষ্ক মৌসুমে বাংলদেশে তিস্তায় পানির প্রবাহ ছিল ৬ হাজার ৫শ’ কিউসেক। ২০০৬ সালে যা নেমে আসে এক হাজার ৩শ’ ৪৮ কিউসেকে। ২০১৪ সালে পানির প্রবাহ দাঁড়ায় ৭শ’ কিউসেকে। জানা যায়, ২০০৬-০৭ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তিস্তার পানি সংকটে বাংলাদেশে ৪২ লাখ ৫৪ হাজার ২১৮ মেট্রিক টন বোরো ধান উত্পাদন ব্যাহত হয়। যার বাজার মূল্যে ২৮ কোটি টাকা। সূত্র আরো জানায়, তিস্তার পানি নিয়ে ২০০৫ সালে জিআরসি’র মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ২০০৬ সালে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও ভারত সরকারের আগ্রহ না থাকার কারণে তা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বৈঠকের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় মার্চের মধ্যে তিস্তা চুক্তির সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নয়াদিল্লীতে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কিছু আলোচনাও হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সান্ত্বনা ছাড়া কিছুই জোটেনি। তিস্তা নিয়ে এ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি।

এ ব্যাপারে কিছু কৃষকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ব্যারেজ প্রকল্পের পানি দিয়ে অল্প খরচে বোরো ধান চাষ করা যায়। কিন্তু এবার মৌসুমের শুরুতেই পানির প্রবাহ নেই বললেই চলে। অন্যদিকে তিস্তা নদী সংলগ্ন লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা, কালিগঞ্জ, নীলফামারীর জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, ডোমার, ডিমলা, রংপুর সদর, তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলায় প্রকল্প এলাকার বোরো ক্ষেত সেচের অভাবে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ডালিয়া ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, তিস্তা পানি স্বল্পতার কারণে এবার রংপুর দিনাজপুরকে সেচের আওতার বাহিরে রেখে মাত্র ৮ হাজার হেক্টর জমিকে সেচের আওতায় আনা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানি পর্যাপ্ত না থাকায় কৃষকরা ঠিক মতো পানি পাচ্ছে না। তাই তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। পানি না পাওয়ার কারণে বিভিন্নভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে এই অববাহিকার মানুষ।

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
পড়ুন