সুন্দরবনের নিরাপত্তায় চালু হচ্ছে ‘স্মার্ট প্যাট্রোল’
১০ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
প্রতি গ্রুপে থাকবে ৮ বনরক্ষী, তিন নৌযান, অস্ত্র, জিপিএস ও সাইবার ট্র্যাকার

এনামুল হক, খুলনা অফিস

আগামী মাস থেকে সুন্দরবনের নিরাপত্তায় শুরু হচ্ছে বিশেষ টহল কার্যক্রম ‘স্মার্ট প্যাট্রোল’। এর মাধ্যমে সুন্দরবনে কার্যকরী টহল নিশ্চিত হচ্ছে কিনা তা জানা যাবে। সেই সঙ্গে বনদস্যু ও জলদস্যুদের তত্পরতা এবং বন অপরাধ কমে যাবে বলে বনবিভাগ আশা করছে।

সুন্দরবন বনবিভাগ সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে সুন্দরবনে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে ‘স্মার্ট প্যাট্রোল’ পরিচালিত হয়েছে। সেসময় বনদস্যু ও জলদস্যুদের তত্পরতা হ্রাস এবং বন অপরাধ অনেকটাই কমে যায়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সুন্দরবন বনবিভাগ গত এপ্রিল মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ‘স্মার্ট প্যাট্রোল’ ব্যবস্থা নিয়মিত চালুর জন্য প্রস্তাব পাঠায়। প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয় গ্রহণ করে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে ‘স্মার্ট প্যাট্রোল’ কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দেয়।

জানা গেছে, প্রতিটি ‘স্মার্ট প্যাট্রোল’ গ্রুপে ৮ জন করে বনরক্ষী দায়িত্ব পালন করবেন। এক একটি গ্রুপে তিনটি করে নৌযান থাকবে। এরমধ্যে একটি থাকবে মাদার ভেসেল। বাকি দুটি নৌযানের মধ্যে একটি স্পিডবোট ও একটি ফাইবার বোট। এছাড়া তাদের নিরাপত্তার জন্য চারটি করে আগ্নেয়াস্ত্র দেওয়া হবে। প্রতিটি গ্রুপ বনের মধ্যে ১২ থেকে ১৪ দিন টহল দিবে। এই টহলের সময় তারা প্রয়োজনে পুলিশ, র্যাব ও কোস্টগার্ডসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে পারবে। প্রতিটি টহল গ্রুপের সঙ্গে থাকবে গ্লোবাল পজিসনিং সিস্টেম (জিপিএস) এবং সাইবার ট্র্যাকার। জিপিএস ও সাইবার ট্র্যাকারে তাদের টহলকালীন সকল কর্মকাণ্ডের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। পরবর্তীতে মেমোরি কার্ডের সাহায্যে তাদের টহল সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হবে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে গোটা সুন্দরবন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতায় নেই। ফলে সুন্দরবনের অধিকাংশ জায়গাতেই নেই ইন্টারনেট সুবিধা। এ কারণে বনে টহল দলের তত্পরতা সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না। তবে ভবিষ্যতে ইন্টারনেট সুবিধা চালু হলে ‘স্মার্ট প্যাট্রোল’ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

বনবিভাগ সূত্র জানায়,  অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে বর্তমানে বন অভ্যন্তরে সঠিকভাবে টহল দেওয়া সম্ভব হয় না। চলতি অর্থবছরে (২০১৭-১৮) এ খাতে বরাদ্দ পাওয়া যাবে মাত্র ১০ লাখ টাকা। অথচ একটি নৌযান সুন্দরবনে একবার টহল দিয়ে ফিরে আসতে খরচ হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। ফলে ১০ লাখ টাকা বছরের মাত্র ১৫ দিনের খরচ। ‘স্মার্ট প্যাট্রোল’ প্রকল্পটি অনুমোদিত হওয়ায় এ খাতে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে। এতে বনে নিয়মিত টহল ও নজরদারি করা অনেকটাই সুবিধা হবে।

খুলনার বন সংরক্ষক (সিএফ) আমির হোসাইন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, সরকার ‘স্মার্ট প্যাট্রোল’ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুও গত ২৯ জুলাই বাগেরহাটে বাঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘স্মার্ট প্যাট্রোল’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। বন সংরক্ষক আশা প্রকাশ করে বলেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনে বনদস্যু ও জলদস্যুদের তত্পরতা হ্রাসসহ বনে অপরাধের সংখ্যা অনেক কমে যাবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১০ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৭
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
পড়ুন