ফ্লোরিডায় ইরমার আঘাতে ভূমিধসের আশঙ্কা
ইত্তেফাক ডেস্ক১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফ্লোরিডায় ইরমার আঘাতে ভূমিধসের আশঙ্কা
ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাসে সবচাইতে শক্তিশালী ও ভয়ংকর বলে বিবেচিত ঘূর্ণিঝড় ইরমা ফ্লোরিডায় আঘাত হেনেছে। ফ্লোরিডার উপকূলমুখী ও দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এর প্রভাবে দমকা হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড়টি কিউবার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় আঘাত হানে ও ২২ জনের প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইরমা ক্যাটাগরি ৪ থেকে ৩ এ নেমে আসে। তবে ফ্লোরিডা প্রণালীর উষ্ণ পানির উপর দিয়ে আসার সময় ঘূর্ণিঝড় ইরমা আরো শক্তিশালী হয় এবং ক্যাটাগরি ৪ এ উত্তীর্ণ হয়েছে। ১১ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে ভূমিধসের আশংকা করা হচ্ছে। একজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের।

ইরমা শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল নাগাদ, (বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত) ফ্লোরিডার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় আছড়ে পড়বে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে ৪ মাত্রার শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইরমা ঘন্টায় প্রায় ২১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস ও বন্যার কারণে ফ্লোরিডা রাজ্যের কিছু এলাকা বিধ্বস্ত হবে। এক শতাব্দীতে এত মারাত্মক ঝড় আর সেখানে হয়নি। যে পথ দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ইরমা অগ্রসর হচ্ছিল সেটি আরো পশ্চিম দিকে সরে গেছে। এখন ফ্লোরিডা রাজ্যের পশ্চিম তীর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে বলা হচ্ছে। ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ রাজ্যের প্রায় ৪শ’ জরুরি নিরাপদ আশ্রয়স্থলে আশ্রয় নিয়েছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট বলেছেন, সময় ফুরিয়ে আসছে, আপনারা নিরাপদ স্থানে চলে যান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান বলেছেন, ভাগ্য এখন আপনাদের হাতে। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রের পানি ১৫ ফুট উপরে উঠতে পারে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা একটি পিকআপ থেকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। গাছের সঙ্গে গাড়িটি ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হয়। অনেক স্থানে গাছ উপড়ে পড়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইরমার প্রভাবে উপকূলের কাছে বেশ কতগুলো ছোট দ্বীপের অবস্থা খুবই গুরুতর। দ্বীপগুলোর মানুষজনকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। ফ্লোরিডায় অন্তত ৬০ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে-যা ওই অঙ্গরাজ্যের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। কী ওয়েস্টের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এই মুহুর্তে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। অধিকাংশ লোকজন চলে যাওয়ায় রাজ্যের প্রধান শহর মিয়ামি এখন নির্জন ভুতুড়ে শহরের চেহারা নিয়েছে। আবহাওয়াবিদরা ইতোমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছেন, তীব্র বাতাসের ফলে উপকূলে বিধ্বংসী ‘স্টর্ম সার্জ’ আছড়ে পড়তে পারে। ইরমার আঘাতে ফ্লোরিডার পশ্চিমাঞ্চল এখন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে টাম্পা শহরটি অল্পের জন্য বেঁচে যেতে পারে। এদিকে বাহামা দ্বীপপুঞ্জ থেকে আসা বিভিন্ন ছবিতে দেখা যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ইরমার অভিঘাতে সেখানে কোনো কোনো জায়গায় সমুদ্র বহুদূর পর্যন্ত উধাও হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন লং আইল্যান্ড নামে একটি দ্বীপের চারপাশে সমুদ্রের পানি যেন হঠাত্ই শূন্যে মিলিয়ে গেছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন