সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে তোফা ও তহুরা
তাদের বাবাকে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
বিশেষ প্রতিনিধি১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
সফল অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা হওয়া শিশু তোফা ও তহুরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গতকাল রবিবার বিকাল ৪টার দিকে মা-বাবার সঙ্গে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয় তারা। এর আগে সকালে তাদের ছাড়পত্র দেয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ ছাড়পত্র তুলে দেন। পরে শিশু দুটিকে নিরাপদে বাড়ি পাঠাতে হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। রাতেই তোফা ও তহুরা বাড়ি পৌঁছে যায়।

বিদায় অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তোফা-তহুরার বাবা রাজু মিয়াকে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমরা চাই তারা (তোফা-তহুরা) ভালো থাকুক। মানসম্মত ও উন্নত চিকিত্সায় তারা বড় হয়ে উঠুক। এই কৃষক পরিবার এখন কোথায় যাবে? আমি অবশ্যই পরিবারটিকে দেখব। পরে তহুরাকে কোলে নিয়ে আদরও করেন মন্ত্রী। গোলাপি রঙের জামা পরেছিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা হওয়া তোফা ও তহুরা। সঙ্গে ম্যাচিং করা সব জিনিস। একজন মায়ের কোলে, আরেকজন বাবার কোলে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিত্সকেরা তোফা ও তহুরাকে নতুন জীবন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও দেশবাসীর পক্ষ থেকে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত চিকিত্সক দলকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

পিঠের নিচ থেকে কোমরের নিচ পর্যন্ত পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে জন্মেছিল গাইবান্ধার তোফা-তহুরা। গত ১৬ জুলাই ‘পাইগোপেগাস’ শিশু তোফা-তহুরাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ১ আগস্ট চিকিত্সকদের ২০ থেকে ২২ জনের একটি দল দীর্ঘ নয় ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে জোড়া লাগা তোফা ও তহুরাকে আলাদা করেন। গতকাল চিকিত্সকদের দেওয়া নতুন জামা, চুড়ি, জুতা আর মাথায় ব্যান্ড তোফা-তহুরাকে পরানো হয়। এছাড়া তাদের মা সাহিদা বেগকে নতুন শাড়ি এবং বাবা রাজু মিয়াকে দেওয়া হয় নতুন লুঙ্গি-শার্ট।

শনিবার রাতে তোফা-তহুরার চিকিত্সার তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক সাহনূর ইসলাম তাদের সবাইকে নতুন পোশাক উপহার দেন। অধ্যাপক সাহনূর ইসলাম বলেন, বাড়ি চলে গেলেও তারা আমাদের নিয়মিত ফলো-আপে থাকবে। এক মাস পর পর শিশু দুটিকে ঢাকায় এনে দেখানোর জন্য তাদের মা-বাবাকে বলা হয়েছে। ছয় মাস পর তাদের আরেকটি অপারেশন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তোফা ও তহুরার সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য ঢামেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগ থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকে একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্ট নাম্বার- ১৩৯১৫১৭৩৭৪০, ইমামগঞ্জ শাখা। বিদায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব সিরাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন