ইসি রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে চায়
ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা শনাক্তে ৩২ উপজেলাকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা
সাইদুর রহমান১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ছবিসহ বায়োমেট্রিক করার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলমান ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে কমিশন বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়ার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসাবে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিচ্ছে ইসি। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা সুরক্ষা বিভাগের অধীন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে সীমানা দিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ছবিসহ বায়োমেট্রিক গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে চাই। কেননা যাদের বায়োমেট্রিক নেয়া হবে-তাদের সনাক্ত করতে আমাদের সুবিধা হবে। এ জন্য কমিশনের সম্পৃক্ত হওয়া জরুরি। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে, চারটি জেলার ৩২টি উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়। আর এই ৩২টি উপজেলাকে বিশেষ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওইসব এলাকায় চলমান ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে যাতে রোহিঙ্গারা ভোটার না হতে পারে-সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কমিশন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশেষ কমিটির মাধ্যমে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইসি। এরপরও ভুয়া বাবা-মা, নাগরিক সনদ দেখিয়ে ভোটার হওয়ার তত্পরতা চালাচ্ছে রোহিঙ্গারা। ওইসব এলাকার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি-২০১৭ এর আওতায় ভোটার আবেদন ফরম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই, অনুসন্ধান, পরিদর্শনসহ নিবন্ধন কার্যক্রমের সময়সীমা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ দিন বৃদ্ধি করে চলতি বছরের ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫ নভেম্বর ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা ছিল। সম্প্রতি দেয়া ইসির এক চিঠিতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত চারটি জেলার ৩২টি উপজেলাকে আমরা বিশেষ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছি এবং এসব এলাকার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছি। ওই বিশেষ কমিটির অনুমোদন ছাড়া কেউ ভোটার হতে পারবেন না। রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার হতে না পারেন তার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে।

ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে কোনোভাবেই যাতে রোহিঙ্গারা অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে সেজন্য এর আগে দুইবার সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছিল ইসি।

কিন্তু তারপরও উল্লেখিত এলাকাগুলোতে রোহিঙ্গারা ভুয়া বাবা-মা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে জাল/ভুয়া জন্মসনদ ও নাগরিকত্ব সনদ সংগ্রহ করে ভোটার হওয়ার তত্পরতা চালাচ্ছে যা কমিশনের নজরে এসেছে। আর রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার এ কাজে কারো সংশ্লিষ্টতা পেলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা করার জন্যও মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি।

২৫ জুলাই থেকে বাড়ি বাড়ি ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের আগেই চার জেলার (কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম) ৩০টি উপজেলাকে বিশেষ এলাকা হিসেবে ঘোষণা দেয় কমিশন। কিন্তু সম্প্রতি চট্টগ্রামে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করার পর চট্টগ্রামের আরো দুইটি উপজেলাকে বিশেষ এলাকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইসি।  এ দুটি উপজেলা হলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলা।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত চার জেলা

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত চার জেলার ৩২টি উপজেলাকে কঠোর পর্যবেক্ষণে রেখেছে ইসি। এসব বিশেষ এলাকার মধ্যে কক্সবাজার জেলার ৮টি, বান্দরবানের ৭টি, রাঙামাটির ৮ ও চট্টগ্রামের ৯টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হলো, কক্সবাজার সদর, চকোরিয়া, টেকনাফ, রামু, পেকুয়া, উখিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া। বান্দরবান সদর, রুমা, থানচি, বোয়াংছড়ি, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি। রাঙামাটি সদর, লংগদু, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বরকল। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগড়া, বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া ও কর্ণফুলী।

বিশেষ এলাকার বিশেষ কমিটি

বিশেষ এলাকার বিশেষ কমিটির ১৪ জন সদস্য হলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রতিনিধি, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিনিধি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ (পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে), হেড ম্যান (পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে), কারবারি (পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে) ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন