সব মানুষই সমান, ধর্ম আমাদের আলাদা করতে পারে না
বিশ্বকে এক রোহিঙ্গার বার্তা
ইত্তেফাক ডেস্ক১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
মোহাম্মদ সোয়ে। বয়স ৩৩ বছর। রাখাইন রাজ্যের বুথিডং শহরের বাসা থেকে ১০ দিন আগে পালিয়েছিলেন। তিনি একদিকে বিশ্বকে তাদের জীবন নিয়ে বার্তা দিয়েছেন এবং অন্যদিকে তাদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছেন। তার এই বর্ণনা প্রকাশ করেছে কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা।

মোহাম্মদ সোয়ে জানান, বুথিডং শহরে আমার পেশা ছিল কৃষি। অন্যসব রোহিঙ্গার মতোই আমি সেখানে থাকতাম। কিন্তু রোহিঙ্গা হওয়ার কারণে আমরা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাইনি। তাই পুলিশ, সামরিক বাহিনী কিংবা ভাল কোনো অফিসে চাকরির সুযোগ আমার বা আমাদের হয়নি। আমাদেরকে হয় কোনো ফার্মে কিংবা জঙ্গল থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছে। আমাদের জীবন চলেছে ‘দিন আনা দিন খাওয়া’র মতো করে। কিন্তু তারপরও আমরা কোনো স্বাধীনতা ভোগ করতে পারিনি। আমরা সবাই কেবল কোনোমতে জীবনধারণ করেছি।  সোয়ে জানান, দুই সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের লোকেরা আসে। তারা এসেই আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। একের পর ঘর-বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমার ভাই মুখে গুলি খেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আমরা দৌঁড়ে পালাই। না হলে ওখানে আমাদেরও জীবন দিতে হতো। আমরা জানতাম না আমরা কোথায় যাচ্ছি। টানা ১০ দিন আমরা হাঁটতে থাকি। অবশেষে বাংলাদেশে এসে পৌছাই।

মোহাম্মদ সোয়ে বলেন, আমার মায়ের বয়স ৮০ বছর। পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং তার শ্বাসকষ্ট আছে। পুরো পথ তাকে বহন করে নিয়ে আসতে হয়েছে আমাকে। তিনটি নদী আমরা নৌকায় পার হয়েছি, বাকি পথ হেঁটে। পথে সেনাবাহিনীকেও অতিক্রম করতে হয়েছে। তারা আমাদের দেখে গুলি করেছে। আমরা জঙ্গলের মধ্যে শুয়ে পড়েছি। সেখানে অনেক বন্যপ্রাণী ছিল। তাই আসতে আমাদের অনেক বাধা পার হতে হয়েছে, কিন্তু আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিল সীমান্ত পার হওয়া। বাংলাদেশে এসে নিরাপদবোধ করছি। এখন মিয়ানমার ফিরে গেলে আমাদের মৃত্যুকে বরণ করতে হবে।

সোয়ে জানান, বাংলাদেশে আমরা নতুন। এখানকার জীবন সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। তারপর আমরা আবার অশিক্ষিত। মিয়ানমারে যদি শান্তি ফিরে আসে তাহলে সেখানেই আমরা ফিরে যাবো। কারণ সেখানকার পরিবেশ-পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা জানি। তিনি বলেন, আমরা জানি বিশ্ব রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের চিত্র দেখছে। কিন্তু তারা মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে না। কিন্তু কেন? বিশ্বের কাছে আমার আবেদন, সব মানুষই সমান। ধর্ম আমাদের আলাদা করতে পারে না। বৌদ্ধদের মতো আমাদেরও তো রক্ত-মাংসের শরীর। তারা যদি মিয়ানমারে শান্তিতে বাস করতে পারে তাহলে আমরা পারবো না কেন? জন্মের সময় তো আমরা সবাই সমান অধিকার নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন