চট্টগ্রামে প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিকে নার্সের চরম সংকট
চট্টগ্রামে প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্রশিক্ষিত নার্সের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সরকারিভাবে নার্স নিয়োগের পর প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে নার্স সঙ্কট আরো প্রকট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়। এতে রোগীরা প্রচুর টাকা খরচ করেও মানসম্মত সেবা পাচ্ছে না। অথচ প্রাইভেট এসব ক্লিনিক ও হাসপাতালে সার্ভিস চার্জের নামে রোগীদের কাছ থেকে মোট চিকিত্সা খরচের ২৫ শতাংশ বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে সরকারিভাবে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ১৫৬টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে। তবে বাস্তবে এর সংখ্যা আরো বেশি বলে জানা যায়। সরকারি নীতিমালা মোতাবেক প্রতি ১০ জন রোগীর জন্য সার্বক্ষণিক ৩ জন চিকিত্সক ও ৬ জন ডিপ্লোমাধারী নার্স থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোর জন্য প্রচুর প্রশিক্ষিত নার্সের প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন যাবত প্রাইভেট এসব চিকিত্সা কেন্দ্রের সেবার মান নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষ নার্স না থাকায় রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান অনুপাতে প্রশিক্ষিত ‘দক্ষ নার্সের সঙ্কট রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ডিসেম্বরে সরকারিভাবে ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতে বিএসসি ও ডিপ্লোমাধারী যে সমস্ত নার্স প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছিল তারা সরকারি চাকরিতে সুযোগ পাওয়ার পর চলে গেছে। ফলে অদক্ষ লোক নিয়ে নার্সের কাজ করা হচ্ছে। এতে অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা ভুল চিকিত্সা সেবার শিকার হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যালের সামনে অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআর। এটি এখন ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে দক্ষ নার্সের সঙ্কট রয়েছে। জানতে চাইলে সিএসসিআর’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জামাল আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রাইভেট খাতে দক্ষ জনবলের সঙ্কট রয়েছে। সরকারিভাবে নার্স নিয়োগের পর প্রশিক্ষিত নার্স পাওয়া যাচ্ছে না। যারা ছিল তারাও সরকারি চাকরি পাওয়ার পর চলে গেছে। এই সঙ্কট কাটাতে আরো ৩/৪ বছর অপেক্ষা করতে হবে। পত্রিকায় একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দক্ষ নার্স পাওয়া যাচ্ছে না।’

নগরীর মেহেদীবাগ এলাকায় অবস্থিত ম্যাক্স হসপিটাল। এটি ১০০ বেডের হসপিটাল। প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার রঞ্জন প্রসাদ দাশগুপ্ত ইত্তেফাককে বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনবলের সঙ্কট দীর্ঘদিনের। ডিপ্লোমা ও বিএসসি নার্স পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ১৮ মাস মেয়াদী ধাত্রী বিদ্যা বিষয়ে কোর্স চালু রয়েছে। তাদেরকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে নার্সের কার্যক্রম চলছে চট্টগ্রামের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে।’

চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান খুবই কম। জানা যায়, নগরীর আন্দরকিল্লায় জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল কয়েক বছর আগে ১৮ মাস ও ৩ বছর মেয়াদী ধাত্রী বিদ্যা ও ডিপ্লোমা নার্স কোর্স চালু করেছে। প্রতি ব্যাচে ৫০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত একটি মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউট রয়েছে। জানা যায়, ১৯৯৯ সালে সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে। এতোদিন এখানে ১৮ মাস মেয়াদী মিডওয়াইফারি কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। চলতি বছর থেকে ‘নার্সিং ও মিডওয়াইফারি’ নামে ৩ বছর মেয়াদী কোর্স চালু করা হয়েছে। প্রতি ব্যাচে ৩৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রামে সরকারিভাবে একটি নার্সিং কলেজ রয়েছে। এখানে ৩ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্সে ২৫ জন ও বিএসসি নার্সিং কোর্সে ১০০ শিক্ষার্থীর আসন রয়েছে।

চট্টগ্রামে বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাব নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও সন্তুষ্ট নয়। তাদের মতে বেসরকারি এসব চিকিত্সা কেন্দ্র মান রক্ষা করতে পারছে না। দক্ষ জনবল, প্রয়োজনীয় চিকিত্সা সরঞ্জাম নেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে। জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রাইভেট ক্লিনিক ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাবগুলো সঠিক মান রক্ষা করতে পারছে না। এখানে নানাভাবে অনিয়ম ও রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের লোকেরা আমাদের সম্মান করে, কিন্তু ভয় করে না। কারণ আমরা তাত্ক্ষণিক শাস্তি দিতে পারি না। তাই প্রাইভেট চিকিত্সা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদ সৃষ্টি করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিত্সার মান উন্নত হবে ও রোগীরা উপকৃত হবে।’

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন