একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
মহাজোটে কঠিন সমীকরণ বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার
চট্টগ্রাম মহানগরীর চার আসন
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগরীর চারটি আসন নিয়ে আওয়ামী লীগসহ মহাজোট কঠিন সমীকরণে রয়েছে। একদিকে দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং প্রার্থিতার লম্বা তালিকা। অন্যদিকে মহাজোটের শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টি ও জাসদের দাবির মুখে কঠিন অবস্থায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। কারণ ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহানগরীর ৪টির মধ্যে ২টিই আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কোতোয়ালী আসন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু এবং অন্যটি জাসদের কার্যনির্বাহী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদলকে। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও মহাজোটের অবস্থান অটুট থাকলে এ দু’টি আসনের ব্যাপারে তাদের দাবি জোরালো হবে বৈকি। অথচ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীগণ ৪টি আসনেই মনোনয়ন নিজেদের ঘরে রাখতে চেষ্টা-তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু এ সকল আসনে দলীয় প্রার্থী চাইলেও নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিভক্তির রাজনীতির কারণে প্রার্থী মনোনয়ন কঠিন ব্যাপার। শুধুমাত্র দলের মনোনয়ন পেলেই হবে না। দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করানো কঠিন ব্যাপার। কারণ মহানগরীর নেতৃত্ব পর্যায়ের বিভক্তি তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। যার প্রতিফলন সামপ্রতিক সময়ে একজন কলেজ ছাত্রের হত্যাসহ ইতোপূর্বেকার কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষ দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে হয়েছে বলে দলীয় নেতা-কর্মীরাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অবহিত। যতই নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে ততই বিভক্তি আরো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে নগরীতে বিরোধ শুরু হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের গৃহকর নিয়ে। একদিকে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দন  চৌধুরী অন্যদিকে নগর সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন। গৃহকর বৃদ্ধির প্রতিবাদ করছেন মহিউদ্দিন। এ নিয়ে শুরু হয়েছে উভয়ের মধ্যে বাকযুক্ত। আ.জ.ম নাছির উদ্দিন মেয়র প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই মোটামুটি প্রকাশ্যে দু’জনের বিরোধ চলে আসছে। আর উভয়ের রয়েছে মাঠ পর্যায়ে নেতা-কর্মী। এ দু’জনকে ঘিরে নগরী ও জেলার সংসদ সদস্য এবং শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন। ফলে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলীয় কোন্দল কম-বেশি প্রভাব সৃষ্টি করবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির মধ্যে নেতৃত্বের বিরোধ ও বিভক্তি সেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে। যা এখনও বিরাজমান। চট্টগ্রাম মহানগরীতে মূল দুই নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবদুল্লাহ আল নোমানের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। যদিও ১৯৯১ সালের উপ-নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেয়া আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মনোনয়ন পাওয়ার পক্ষে ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান। সে সময় আমীর খসরু বিএনপিতে নবাগত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অবশ্য তত্কালীন সময় আবদুল্লাহ আল নোমানের মূল বিরোধ ছিল কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সাথে। বর্তমান পর্যায়ে আবদুল্লাহ আল নোমান দলের স্থায়ী কমিটিতে আসতে না পারায় তার অনুসারীদের মধ্যে হতাশা তো রয়েছেই। কিন্তু আগামী নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগরীর চারটি আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে তেমন একটা সমস্যা হবে না বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের অভিমত। কারণ চারটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে শীর্ষ তিন নেতার মনোনয়ন মোটামুটি নিশ্চিত বলে দলীয় লোকজন মনে করেন। শুধুমাত্র একটি আসনে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা নিয়ে টানাপোড়েন ও সমস্যা রয়েছে বলে জানা যায়। এ আসনে নতুন প্রার্থী আসার সম্ভাবনা রয়েছে। (বিস্তারিত দেখুন পৃষ্ঠা ১৪)

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন