টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড ১২ গ্রাম, এক জনের মৃত্যু
সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, ফসলের ক্ষতি
ইত্তেফাক ডেস্ক১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড ১২ গ্রাম, এক জনের মৃত্যু
আকস্মিক টর্নেডোতে রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুরে কমপক্ষে ১২টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবারের এ ঝড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু ও কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। সহস াধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও গাছপালা, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক গ্রামে ক্ষতিগ্রস্তরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হলেও এখনো ত্রাণ সহায়তা পাননি ভুক্তভোগীরা।

বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, হঠাত্ বয়ে যাওয়া টর্নেডো উপজেলার ৮ গ্রাম লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য গাছপালা, উড়ে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরসহ               প্রায় দুইশ’ পরিবারের টিনের চালা। দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার আড়ানী ও বাউসা ইউনিয়নের উপর দিয়ে এ ঝড় বয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন জানান, সকাল থেকে অঝরে বৃষ্টি ঝরছিল পুরো এলাকায়। দুপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায় আড়ানী ইউনিয়নের হরিপুর, বেড়েরবাড়ি, ঝিনা, নুরনগর, গোচর ও খয়ের মিল এবং বাউসা ইউনিয়নের দীঘা ও খাগর বাড়িয়া এলাকায়। এই ঝড়ের সময় বাইসাইকেল থেকে পড়ে মারা গেছেন আড়ানী ইউনিয়নের গোচর গ্রামের মৃত আবু তাহেরের ছেলে ছাদের আলী (৫৫)।

বাউসা ইউনিয়ের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, ঝড়টি বয়ে গেছে ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। এতে  মসজিদ ও  মন্দিরসহ প্রায় ২শ’ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতি হয়েছে জমির ফসলসহ অসংখ্য গাছপালার।       

আড়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, ঝড়ে তার এলাকার  ৬টি গ্রাম তছনছ হয়ে গেছে। রাস্তায় গাছপালা ভেঙে পড়ায় যান চলাচল করতে পারছে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো রাতে কোথায় ঘুমাবে তা নিয়ে এখন সবাই দিশাহারা।

এদিকে ঘটনার পর বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাঘা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম। নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি রাজশাহী জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। 

লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার লালপুর ও আড়বাব ইউনিয়নের ৯টি গ্রামের উপর দিয়ে টর্নেডো বয়ে যায়। টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ৪টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এতে  সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে লালপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন।

স্থানীয়রা জানান, পদ্মানদীর চর চাক্লা এলাকা থেকে উত্পত্তি হয়ে লালপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর, বাকনাই, আরাজি বাকনা, মোহরকয়া নতুনপাড়া ও আড়বাব ইউনিয়নের ঢুষপাড়া, রঘুনাথপুর, হাসিমপুর, লক্ষণবাড়িয়া ও রহিমপুর গ্রামের উপর দিয়ে টর্নেডো বয়ে যায়। এতে মোমিনপুর, রহিমপুর, রঘুনাথপুর ও হাসিমপুর গ্রামের ঘরবাড়ি ও গাছপালা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অধিকাংশ বড় গাছ উপড়ে পড়ে। এছাড়া ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজ তাত্ক্ষণিক গ্রামগুলো ঘুরে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল এসলাম জানান, টর্নেডোর আঘাতে আখ, ধান, কলাসহ বিভিন্ন ফল-ফলাদির ক্ষতি হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন