বৈদ্যুতিক মৌচাকের ছবিতে ১৭ বছরেই নামি বিজ্ঞানী
ইত্তেফাক ডেস্ক১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
বৈদ্যুতিক মৌচাকের ছবিতে ১৭ বছরেই নামি বিজ্ঞানী
পাকিস্তানের তরুণ মোহাম্মদ শাহীর নিয়াজী সবে মাত্র ১৭ তে পা দিয়েছেন। অথচ এই বয়সেই শাহীর খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে কম বয়সী বিজ্ঞানী হিসেবে শাহীর জায়গা করে নিয়েছেন দেশটির নামী বিজ্ঞানীদের তালিকায়। ‘ইলেকট্রিক হানিকম্ব’ অর্থাত্ ‘বৈদ্যুতিক মৌচাকের’ ওপর করা তার গবেষণা পত্রটি ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে লন্ডনের রয়েল সোসাইটির বিজ্ঞান জার্নালে। পদার্থ বিজ্ঞানীদের কাছে বৈদ্যুতিক মৌচাক ধারণাটি একটি পুরনো বিষয় হলেও শাহীর-ই সর্বপ্রথম বৈদ্যুতিক মৌচাককে উপস্থাপন করতে পেরেছেন বাস্তবতার নিরিখে। তাত্ত্বিক বৈদ্যুতিক মৌচাকের চিত্র ধারণ করার পাশাপাশি এটি নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা করতেও সমর্থ হয়েছেন তিনি।

বৈদ্যুতিক মৌচাক বিষয়টিকে সহজভাবে বলতে গেলে: দুইটি ইলেকট্রোড- যার একটি চোখা আর আরেকটি সমান, তার মাঝখানে যে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র সেখানে যদি একটি তেলের স্তর স্থাপন করা হয়, তাহলে সেখানে একটি নড়াচড়া তৈরি হয় যে তেলের স্তরটি মৌচাকের আকার ধারণ করে। কখনো কখনো এই প্যাটার্ন রঙিন কাচের জানালার মতো দেখতে হয়। মূলত বৈদ্যুতিক চার্জবিশিষ্ট অণু বা আয়নের চাপের ফলেই এটি হয়ে থাকে। আর এক্ষেত্রে নিয়াজী যা করেছেন তা হলো—তিনি এই আয়নের নড়াচড়ার ছবি তুলতে সমর্থ হয়েছেন। একই  সঙ্গে তেলের উপরের স্তরে যে তাপ সৃষ্টি হয় তা রেকর্ড করতে পেরেছেন। যা আগে কোনো বিজ্ঞানী করতে পারেননি।

গত বছর রাশিয়ায় তরুণ পদার্থ বিজ্ঞানীদের এক প্রতিযোগিতায় দলগতভাবে অংশ নিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন শাহীর। রাশিয়া থেকে ফিরে শাহীর সিদ্ধান্ত নেন তিনি তার এই গবেষণাটি আরো বিস্তৃত করে জার্নালে প্রকাশ করবেন। এটি নিয়ে লেগে থাকেন তিনি। এক বছরের প্রচেষ্টার ফল গবেষণাপত্রটি রয়েল সোসাইটির ওপেন সাইন্সে জমা দেওয়ার পর প্রকাশের জন্য গৃহীতও হয়ে যায়। খুশির খবরটি শাহীর জানতে পারেন ১৭তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক দিন আগেই। এত অল্প বয়সে অনন্য এই অর্জন সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শাহীর বলেন, যে কোনো গবেষকের কাছে তার গবেষণা কর্মটি সন্তানের মতো। আর যখন এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো জার্নালের জন্য নির্বাচিত হয় তখন নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতেই পারেন।

নিজের কাজের তাত্পর্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে শাহীর বলেন, বৈদ্যুতিক মৌচাক থেকে বোঝা যায় যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব কিছুই ভারসাম্য খুঁজছে। এই পরীক্ষায় তেলের স্তর মৌচাকের মতো ষড়ভূজের আকৃতি তৈরি করছে যা কিনা সব চাইতে স্থিতিশীল কাঠামো। তিনি আরো বলেন, এ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এক ফোঁটা তেলকে স্পর্শ না করেই তাতে পরিবর্তন আনা গিয়েছে যা কিনা বায়ো মেডিসিন এবং প্রিন্টিং এ ব্যবহার করা যায় এমন প্রযুক্তি তৈরিতে কাজে লাগানো যাবে।

নিয়াজী স্বপ্ন দেখেন ভবিষ্যতে নামকরা কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন। তিনি বলেন, মাত্র ১৭ বছর বয়সে আইজ্যাক নিউটনের প্রথম গবেষণাপত্রটি গৃহীত হয়েছিল। আর আমি এই স্বীকৃতি লাভ করেছি ১৬ বছর বয়সেই। তাই নিজের স্বপ্নের গণ্ডিকে তিনি নোবেল জয় পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতেও আপাতত কোনো কার্পণ্য করছেন না তিনি। পাকিস্তানের হয়ে আরো একবার নোবেল জয়ের স্বপ্ন দেখেন তরুণ শাহীর।-বিবিসি

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন