যুক্তরাষ্ট্র ও দ. কোরিয়ার রণকৌশল হ্যাক করল উ. কোরিয়া
ইত্তেফাক ডেস্ক১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা দক্ষিণ কোরিয়ার স্পর্শকাতর ও বহু গোপন সামরিক তথ্য চুরি করেছে। তার মধ্যে রয়েছে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে হত্যার একটি পরিকল্পনা এবং যুদ্ধ লেগে গেলে দক্ষিণ কোরিয়া ও অ্যামেরিকার রণকৌশল কি হবে সেসব তথ্য। এদিকে মার্কিন সেনা প্রধান জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপনাস্ত্র সমস্যার সমাধানে ঝুঁকিমুক্ত কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে এক রুশ এমপি বলেছেন, আধুনিকায়নের পর উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপনাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। খবর বিবিসি, সিএনএন ও রয়টার্সের

দক্ষিণ কোরিয়ার একজন এমপি জানিয়েছেন, তার দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তিনি এই খবর পেয়েছেন। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমন এক সময় এ ঘটনার কথা জানা গেল যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে এবং উভয় দেশই একে অপরকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। বলা হচ্ছে, চুরির এই ঘটনা ঘটেছিল গত বছর সেপ্টেম্বরে। সেই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কম্পিউটারগুলোতে একটি সাইবার আক্রমণ হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার ডিফেন্স ইন্টিগ্রেটেড ডেটা সেন্টার নামে এই কেন্দ্রটির তথ্যভান্ডারে হ্যাকার ঢুকতে সক্ষম হয়। বলা হচ্ছে যে তথ্য চুরি হয়েছে তার পরিমাণ ২৩৫ গিগাবাইট - যার ৮০ শতাংশই এখনো চিহ্নিত করা যায়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার সেই সময় এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কথা স্বীকার করে। কিন্তু ঘটনা ঠিক কি ঘটেছিল এবং হ্যাকাররা কি কি তথ্য নিয়ে গেছে তা প্রকাশ করেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিনিধি এবং একজন কংগ্রেসম্যান  রি চিওল-লি ব্যাপারটা ফাঁস করে দিয়েছেন। তিনি বলছেন, যেসব তথ্য চুরি হয়েছে তার মধ্যে কোরিয়া উপদ্বীপে একটি যুদ্ধ এবং উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা ছিল। রি’র এই বক্তব্যের জবাবে এখনো দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার কিছু বলেনি। তিনি বলেন, তার ধারণা - বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং বিশেষ বাহিনীর অপারেশন সম্পর্কে খুঁটিনাটি বিভিন্ন তথ্যও চুরি হয়ে গেছে। এটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে এটাও হতে পারে যে উত্তর কোরিয়া হয়তো প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে ইতোমধ্যেই নিজেদের পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও এনেছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও হয়তো এই নিরাপত্তা ব্যুহ ভাঙা হয়েছে জানতে পেরে তাদের কৌশলেও পরিবর্তন এনেছে। উত্তর কোরিয়া অবশ্য এই হ্যাকিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, দক্ষিণ কোরিয়া সত্যকে অতিরঞ্জিত করছে।

ইউএস আর্মি চীফ অব স্টাফ জেনারেল মার্কি মিলে ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সমস্যা সমাধানে ঝুঁকিমুক্ত কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, কোরীয় উপদ্বীপে কোনো যুদ্ধ হলে তা হবে সবার জন্য ভয়াবহ। কিন্তু তাই বলে এই সমস্যা সমাধানে অনির্দিষ্ট সময় বসে থাকাও ঠিক নয়। আবার একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যদি উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপনাস্ত্র আঘাত হানতে সক্ষম হয় সেটাও ভয়াবহ। তাই মার্কিন সেনাবাহিনী যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন