পাহাড়ে চাঁদাবাজির ভাগ নিয়ে ভাঙল ইউপিডিএফ
নতুন করে আতঙ্ক
আবুল খায়ের২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং

অনগ্রসর জনগোষ্ঠী বিবেচনায় পাহাড়ি জনসাধারণকে করের আওতা থেকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। তবে কর দিতে না হলেও সন্ত্রাসী সংগঠনের চাঁদার হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছে না পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ। আঞ্চলিক পাহাড়ি সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজি থেকে রেহাই নেই পাহাড়বাসীর। কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সব শ্রেফণ পেশার মানুষকেই এ চাঁদার টাকা গুনতে হয়। প্রকাশ্যে চিঠি বিলিয়ে চাঁদা আদায় করে সংগঠনগুলো।

পাহাড়ে এখন চারটি সংগঠন আধিপত্য বিস্তার করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে সশস্ত্র তত্পরতা ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে আসছে তিনটি আঞ্চলিক পাহাড়ি  সংগঠন জনসংহতি সমিতি বা জেএসএস (সন্তু), জেএসএস (সংস্কার) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)। তবে ইউপিডিএফ ভেঙ্গে নতুন আরেকটি আঞ্চলিক সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে। নতুন সংগঠনের নাম ‘ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক’। গত ১৫ই নভেম্বর খাগড়াছড়ি শহরের খাগড়াপুরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি। পাহাড়ে এখন চারটি সংগঠনের দাপট। চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংগঠনের নেতাদের মধ্যে অন্তর কোন্দলে ইউপিডিএফ ভেঙ্গে দুই ভাগে বিভক্ত।

সমপ্রতি সংগঠনটি ভাঙার কারণ জানিয়ে পার্বত্যবাসীর কাছে ‘খোলা চিঠি’ নামে একটি প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে। নতুন সংগঠনটিও নিজেদের টিকে থাকার জন্য নিজেদের দল ভারি করতে নানা রকম কার্যক্রম চালাচ্ছে। সশস্ত্র তত্পরতা ও চাঁদাবাজির কারণে পার্বত্য এলাকায় নিরীহ মানুষের মাঝে নতুন আতঙ্ক দেখা গেছে।

পাহাড়ের সংগঠনগুলো নিজেদের শক্তি বাড়াতে মরিয়া। দল ভারি করতে নিজেদের দিকে লোক টানে সংগঠনগুলো। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে চাঁদার নামে সংগ্রহ করে অর্থ। শক্তি বাড়াতে তারা সংগ্রহ করে অস্ত্র। চাঁদাবাজি এবং সশস্ত্র তত্পরতার মাধ্যমে নিজেদের শক্তির জানান দেয় সংগঠনগুলো। আবার চাঁদার ভাগাভাগি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র সৃষ্টি হয় অন্তর কোন্দল। আর এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বলি হয় নিরীহ মানুষ। প্রতি মাসেই দু-এক জনের

মৃত্যুর খবর শোনা যায়। ফলে পাহাড়ের নিরীহ বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিস্তার করছে।    

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ প্রায়ই অভিযান চালায়। মাঝে-মধ্যে চাঁদাবাজদের আটক করলেও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। অভিযান কঠোর হলে নতুন উপায়ে চাঁদা আদায় করা হয়। এদিকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা না দিলে হত্যা, অপহরণের পাশাপাশি নানাভাবে হয়রানির শিকার হয় সাধারণ মানুষ। নারীদের ধরে নিয়ে করা হয় পাশবিক নির্যাতন। 

১৯৯৭ সালে সরকারের সাথে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পর ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউপিডিএফ। পরবর্তীতে জেএসএস’র একটি অংশ মূল দল থেকে ছুটে গিয়ে জেএসএস (সংস্কার) নামে সাংগঠনিক তত্পরতা শুরু করে। পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন ও স্বাধীন জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠার নামে সংগঠনগুলো সশস্ত্র তত্পরতা চালাচ্ছে। আর চাঁদাবাজির মাধ্যমে গড়ে তুলছে টাকার পাহাড়।

পাহাড়বাসী জানায়, শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ে উপজাতি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটছিল। একপর্যায়ে প্রতিবেশীসুলভ ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কও গড়ে উঠে। কিন্তু পাহাড়ি সংগঠনগুলোর লাগামহীন চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তত্পরতার কারণে এখানকার মানুষের মাঝে অনাস্থা ও অবিশ্বাস ও আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে। অবাধ সশস্ত্র তত্পরতা আর লাগামহীন চাঁদাবাজিতে শান্তিচুক্তির প্রত্যাশা ধুলিস্যাত্ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ এখানকার মানুষজনের।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন