এবার ফার্মার্স ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ইত্তেফাক রিপোর্ট২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং

এবার নতুন প্রজন্মের আরেক ব্যাংক ফারমার্স ব্যাংকের এমডি এ কে এম শামীমকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল তার অপসারণের চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামী তিন বছর কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এমডি হিসেবে যোগদান করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ঋণ কেলেঙ্কারি ও অব্যবস্থাপনার কারণে চাপের মুখে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর পদত্যাগ করেন।

গত ৫ ডিসেম্বর একইভাবে নতুন প্রজন্মের এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডি   দেওয়ান মুজিবুর রহমানকেও অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ৭ ডিসেম্বর তিনি আদালতে রিট করেন এবং উচ্চ আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা স্থগিত করে তাকে স্বপদে বহাল করেন। পরে অবশ্য ব্যাংকটির বোর্ড তাকে তিন মাসের জন্য বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। এ দুটি ব্যাংকের এমডিকে প্রায় একই রকম অপরাধে অপসারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া গত বছরের ৩০ জুন অগ্রণী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদ এবং ২০১৪ সালের ২৫ মে বেসিক ব্যাংকের এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফারমার্স ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে আমানতকারীদের স্বার্থের প্রতিকূলে গিয়েছে। সে বিষয়টি আমরা দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করেই ফারমার্স ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ করা হয়েছে। আগামী তিন বছর ওই ব্যাংক বা অন্য কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনায় তিনি অংশ নিতে পারবেন না। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আবেদন করতে পারবেন।

গত ২৬ নভেম্বর এ কে এম শামীমকে অপসারণে নোটিস দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য দুটি কারণ উল্লেখ করা হয়; প্রথমত, ব্যাংকে তারল্য ব্যবস্থাপনা করতে এমডি ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে ব্যাংকটি নগদ জমা বা সিআরআরের এবং সংবিধিবদ্ধ জমা বা এসএলআরের অর্থ রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা না মেনে ব্যাংকটি ঋণ বিতরণ করেছে। এ কে এম শামীমকে কেন অপসারণ করা হবে না, তা জানতে ১০ দিনের সময় বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠির জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় চূড়ান্ত শুনানির জন্য তা স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। এ কমিটি ১৩ ডিসেম্বর তার শুনানি করে। শুনানিতে তিনি অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। সব প্রক্রিয়া শেষ করে গতকাল ৪৬ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গভর্নর তাকে অপাসারণের সিদ্ধান্ত নেন। আগামী ২৮ ডিসেম্বর তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে গত ২৭ নভেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও একই সঙ্গে পরিচালক পদ ছেড়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীকেও পদত্যাগ করতে হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানসহ ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটি, নিরীক্ষা কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এদিকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ প্রাইম ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান খসরুকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার নিয়োগের অনুমোদন নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন