ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী চাপ বাড়ছে
লঞ্চের টিকিট কালোবাজারে, বিমান ও বাসের টিকিটও মিলছে না
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
g শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস

ঢাকা-বরিশাল রুটে বেড়ে গেছে যাত্রীদের চাপ। মূলত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন ছুটি এবং নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা লোকজনের টিকিটের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না আকাশ, নৌ ও সড়ক পথের পরিবহন ব্যবস্থা। ফলে উভয় প্রান্তেই সব রুটে টিকিট সংকট দেখা দিয়েছে। তবে কাউন্টারে না মিললেও লঞ্চের টিকিট বাড়তি দামে কালোবাজারে পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  জানা গেছে, বরিশাল-ঢাকা রুটে চলতি মাসজুড়েই বিমান, লঞ্চ, ওয়াটার ওয়েজ ও বাসের টিকিট পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি যাতায়াত করে থাকে নৌপথে। কিন্তু এ পথে বিলাসবহুল লঞ্চের টিকিট মিলছে না কাউন্টারগুলোতে। কালোবাজারে টিকিট পাওয়া গেলেও তার দাম নিচ্ছে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি।

স্থানীয় বিআইডব্লিউটিসি’র সহ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ জানান, বরিশালে ডিসেম্বর মাসজুড়েই বেশি চাহিদা রয়েছে কেবিনের টিকিটের। মঙ্গলবার ঢাকা থেকে সংস্থার এমভি লেপচা ও বরিশাল প্রান্ত থেকে এমভি মাহসুদ যাত্রী পরিবহন করলেও কেবিনের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে কয়েকদিন পূর্বে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যাত্রী চাপের পুরোপুরি সুযোগ নিচ্ছেন কালোবাজারিরা। অসংখ্য যাত্রীর অভিযোগ টিকিটের জন্য লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে ধরনা দিলেও বিশেষ সুপারিশ ছাড়া কেউই টিকিট পাচ্ছেন না। কাউন্টারগুলো থেকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে ডিসেম্বর মাসের টিকিট নেই, সকল টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। অথচ লঞ্চ টার্মিনালে ৪ গুণ বেশি দাম দিয়ে টিকিট পেয়েছেন কেউ কেউ। নগরীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান লেনী জানান, দিনভর সুন্দরবন-সুরভী লঞ্চের কাউন্টারে ধরনা দিয়ে টিকিট মেলেনি। তবে লঞ্চ টার্মিনালের কালোবাজারে টিকিট পেলেও দাম অতিরিক্ত থাকায় তা কিনতে পারেননি তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লঞ্চ মালিক, কাউন্টারের স্টাফ ও লঞ্চের স্টাফরা তাদের পরিচিত কিংবা বিশেষ তদ্বিরের লোক ছাড়া কেবিনের টিকিট দিচ্ছেন না। সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১২শ’ টাকা হলেও কালোবাজারে আজ বুধবারের টিকিট বিক্রি হয়েছে দু’হাজার টাকায়। বৃহস্পতিবারের টিকিট ৩ হাজার টাকা হাঁকলেও দরদাম করে দু’শ টাকা কম দিয়ে কিনেছেন তোহা নামের এক যাত্রী। দুজন চিহ্নিত কালোবাজারির কাছে পূর্ব থেকেই পারাবতসহ বিলাসবহুল সুরভী, কীর্তনখোলা, সুন্দরবন লঞ্চের টিকিট মজুদ রয়েছে। চাপ বাড়লেই তাদের টিকিটের দামও বাড়তে থাকে।

সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন ইত্তেফাককে জানান, পুরো মাস যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি জানান, টিকিটের বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ৮ থেকে ৯ গুণ বেশি। তাই সকলের মন রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, কেবিনের চাহিদা বাড়লেও ডেকের যাত্রী আগের মতোই রয়ে গেছে, তাই ইচ্ছা থাকলেও লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো যাচ্ছে না।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন