উত্তর কোরিয়ার ফাঁদে পা দিচ্ছেন ট্রাম্প!
ইত্তেফাক ডেস্ক১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
উত্তর কোরিয়ার ফাঁদে পা দিচ্ছেন ট্রাম্প!
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে আলোচনায় বসার এক আমন্ত্রণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রহণ করার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রথম উত্তর কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হবে। তবে এমন নয় যে এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উত্তর কোরিয়া বৈঠকের আমন্ত্রণ জানালো। এর আগে কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমন্ত্রণ পেলেও গ্রহণ করেননি। কিন্তু ট্রাম্প গ্রহণ করেছেন। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ট্রাম্প কী তাহলে উত্তর কোরিয়ার পাতানো ফাঁদে দিতে যাচ্ছেন? খবর সিএনএন ও বিবিসি’র

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নীতিই উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে বাধ্য করেছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বিষয়টি সহজভাবে নিচ্ছেন না। সিউল থেকে বিবিসির সংবাদদাতা লরা বিকার বলছেন, এই রাজনৈতিক জুয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়তো কিম জং উনই যিনি এখন পর্যন্ত কোনো কথাই বলেননি। কিম যদিও বলেছেন, তিনি ‘পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ’। কিন্তু বিশ্লেষক ব্রুস বেনেট বলছেন, এটা মনে রাখতে হবে যে কিম বারবার এটাও বলেছেন যে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবেন না।

এছাড়া হয়তো উত্তর কোরিয়ায় বন্দী আমেরিকানদের মুক্তি, দু’পক্ষের মধ্যে একটা শান্তি চুক্তি এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো উঠতে পারে। উত্তর কোরিয়া নিশ্চয়ই চাইবে যে তাদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক। তবে কী পরিমাণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে তা আগে থেকে বলা কঠিন। ব্রুস বেনেট বলছেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর এখন এত কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে যে তার ফলেই তারা আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য হয়েছে। এমন খবর বেরিয়েছে যে উত্তর কোরিয়ার হাতে অক্টোবর মাস নাগাদ আর হয়তো কোনো নগদ অর্থ থাকবে না। মনে হয় উত্তর কোরিয়া সত্যি সমস্যায় পড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো তার অনভিজ্ঞতার কারণে ঝুঁকি নিতে যাচ্ছেন। উত্তর কোরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারলে তাদের মর্যাদা বাড়বে বলেই মনে করে। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ২০০০ সালে উত্তর কোরিয়া সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি। যুক্তরাষ্ট্র ওই সময় চেয়েছিল উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপনাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে। বিল ক্লিনটন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেডিলিন অলব্রাইটকে পাঠিয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ায়। এটা দেখতে যে উত্তর কোরিয়া আসলেই ক্ষেপনাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করবে কিনা। অলব্রাইট দেখতে পান উত্তর কোরিয়ার বাস্তবে সেরকম কোনো প্রস্তুতিই নেই। তখন বিল ক্লিনটন আর সফরে যাননি।

প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ ক্লিনটনের পররাষ্ট্র নীতি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেন। তত্কালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল দেখতে পান যে, উত্তর কোরিয়া ইউরেনিয়াম কর্মসূচি বাড়িয়েছে। এরপর দুই দেশের আলোচনার সিদ্ধান্ত ভেস্তে যায়। বুশ তারপরও আলোচনার চেষ্টা চালান। তবে বুশ এতে দুই কোরিয়া, জাপান, রাশিয়া এবং চীনকে যুক্ত করেন। তিনি এটা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ নিয়ে উস্কানিমূলক কিছু করবে না এবং কোনো ধরনের সুবিধা নেওয়ারও চেষ্টা করবে না।

বারাক ওবামা ক্ষমতায় এসে সব মার্কিন শত্রুদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছিলেন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার উস্কানিতে তিনি পা দেননি। তিনি বলেছিলেন, আগে উত্তর কোরিয়া অঙ্গীকার রক্ষা করবে। তারপর বৈঠক হবে। তবে বিল ক্লিনটন ২০০৯ সালে উত্তর কোরিয়া সফর করেছিলেন কারাগারে থাকা দুই মার্কিন সাংবাদিককে মুক্ত করতে। ২০১০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারও পিয়ংইয়ং সফর করেছিলেন। তিনি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত মার্কিনীকে সঙ্গে করে নিয়ে ফিরেছিলেন। কিম ও ট্রাম্পের বৈঠকের ফল সম্পর্কে বেনেট বলেন, সম্ভবত দু’পক্ষই কিছু ছাড় দিয়ে কিছু পাওয়ার মতো একটা আপোষ রফায় পৌছাতে পারবে, এমন সম্ভাবনা আছে। সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তাহলো বৈঠক হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়া।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন