দেশে মৌলবাদীদের হাতে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা
ড. আবুল বারকাতের নতুন গবেষণা গ্রন্থের তথ্য
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতির মোট সম্পদের পরিমাণ ছয় লাখ ৫৫ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। আর এসব সম্পদ থেকে তিন হাজার ১৬২ কোটি টাকা বাত্সরিক আয় হয়। যা মোট সম্পদের দশমিক ৪৮ শতাংশ। ‘বাংলাদেশের মৌলবাদ জঙ্গিবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতির অন্দর-বাহির’ বইয়ে এ হিসাব দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার এ বইয়ের প্রকাশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান ছিল। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত এর লেখা এ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করার কথা ছিল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন নি। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভাষা সংগ্রামী, কবি ও প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক। বইটি প্রকাশ করেছে মুক্তবুদ্ধি প্রকাশনী।

বইয়ে ১৪৮ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, মৌলবাদের অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব খাত ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা ও লিজিং কোম্পানি থেকে বেশি আয় হয়। এ খাত থেকে ২০১৬ সালে ৮৭৮ কোটি টাকা আয় হয়েছে। ওই বছরে এ খাতে মোট সম্পদ ছিল দুই লাখ দুই হাজার ২২৯ কোটি টাকা। এছাড়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ঔষধ শিল্প, ডায়ানস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত, রিয়েল এস্টেট, সংবাদ মাধ্যমসহ অসংখ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে মৌলবাদীদের হাতে।

বক্তারা যা বলেন: বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আহমদ রফিক বলেন, মৌলবাদ সারা বিশ্বেই আজ প্রধান সমস্যা। এটা দূর করতে প্রধান কাজ হবে পারিবারিক শিক্ষা। শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই তরুণ-তরুণীরা হতাশ হয়ে মৌলবাদে জড়াবে না। এটা না হলে কোন শাসনই মৌলবাদ বন্ধ করতে পারবে না। 

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘মৌলবাদ নির্মূল করতে রাষ্ট্রকে ধর্মাশ্রয়ী হলে চলবে না। ব্যাংক চোরদের স্বাস্থ্য ঠিক করতে নতুন করে ১০ হাজার কোটি টাকা কেন দেওয়া হচ্ছে। এটা কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ?’ নাট্যকার মামুনুর রশীদ বলেন, চাঁদাবাজির (রেন্ট সিকার) মধ্যে মৌলবাদ ঢুকে গেছে, এর রাজনীতিকরণ হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, এর জন্য কারা দায়ী?

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংকটির ৯৯ শতাংশ কর্মকর্তা মওদুদী দর্শনে বিশ্বাসী। ৩০০ নির্বাচনী আসনকে লক্ষ্য করে ব্যাংকটি জনবল নিয়োগ দিয়েছে।’

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আমীর-উল-ইসলাম বলেন, মৌলবাদ দূর করতে শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। এছাড়া মৌলবাদ দমন করা সম্ভব হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান শফিক উজ জামান বলেন, আবুল বারকাত নিজ উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে নতুন এ বই লিখেছেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ইউজিসি অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, বইটিতে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের ১৩৩ জঙ্গি সংগঠনের বার্ষিক মুনাফা ৩ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। ফলে এখনই সাবধান না হলে অচিরেই বিপদ আসবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন