নারী বিচারকরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন :স্পিকার
অধিকসংখ্যক নারী বিচারপতি নিয়োগে সচেষ্ট থাকব :প্রধান বিচারপতি
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং

ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, অধিকাংশ নারী বিচারক তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। উচ্চ আদালতে আরও অধিক সংখ্যক নারী বিচারপতি নিয়োগে আমরা সচেষ্ট থাকব। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া নারীরা যাতে ফতোয়ার শিকার না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের যুগান্তকারী রায় রয়েছে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ মহিলা জাজ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক দেয়া সংবর্ধনার জবাবে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে যে নারী বিচারকরা রয়েছেন তারা অত্যন্ত দক্ষতা, যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সাথে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিচারকাজ পরিচালনা করে যাচ্ছেন। নারীদের জন্য অনুকূল কর্ম পরিবেশ, নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও তাদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে ভূমিকা রাখার আহবান জানান তিনি। রাজধানীর বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্পিকার বলেন, বিচারপ্রার্থী জনগণের জন্য বিচারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিচারের দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে। তাহলেই দেশে ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। স্পিকার বলেন, বাংলাদেশে নারীরা জাতীয় উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা প্রমান করেছে। এ অগ্রযাত্রায় নারীদের পিছনে থাকার সুযোগ নেই। দৃঢ মনোবল ও প্রত্যয় নিয়ে নারীরা এগিয়ে গেলে- এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। তিনি উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

প্রধান বিচারপতি বলেন, স্বাধীনতার আগে বিচার বিভাগে নারীর কথা ভাবাই যেত না। আজ তা পরিবর্তন হয়েছে এবং নারী-পুরুষের সমতা নির্ধারণে অগ্রগতি হচ্ছে। জেলায় আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে নারী বিচারকদের অগ্রাধিকার দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনই বিচারক হলে তাদের একই কর্মস্থলে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। সঙ্গত কারণে সেটা সম্ভব না হলে পার্শ্ববর্তী জেলায় পদায়ন করা হবে। এছাড়া জেলা ও দায়রা জজ, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও আরও নারী বিচারক নিয়োগের বিষয়টি ‘সক্রিয়ভাবে বিবেচনা’র আশ্বাস দেন প্রধান বিচারপতি।

মহিলা জজ এসোসিয়েশনের সভাপতি ও ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজীনা ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, হাইকোর্টের বিচারপতি জিনাত আরা, বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক ও ঢাকার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জেসমিন আরা বেগম এবং প্রধান বিচারপতির সহধর্মিনী সামিনা খালেক বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান বিচারপতিকে এসোনিয়েশনের পক্ষ থেকে ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। প্রসঙ্গত অধস্তন আদালতে ১ হাজার ৬৭৩ জন বিচারক রয়েছেন। এর মধ্যে ৪৩৩ জন নারী বিচারক। আর হাইকোর্টে রয়েছেন ৫ জন। উচ্চ আদালতে নারী বিচারপতি নিয়োগে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের দাবি অনুষ্ঠান থেকে তুলে ধরা হয়।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন