বিপিসি’র এলপিজি প্ল্যান্টে উত্পাদন অর্ধেকে নেমেছে
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রামের ইষ্টার্ন রিফাইনারী ও সিলেটের কৈলাশটিলায় স্থাপিত বিপিসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন এলপিজি প্ল্যান্টে উত্পাদন ধস নেমেছে। যান্ত্রিকত্রুটির কারণে কৈলাশটিলা প্ল্যান্টে গত প্রায় ২০ দিন যাবত উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। আর মেরামত কাজের পরও ইষ্টার্ন রিফাইনারীর এলপিজি প্ল্যান্টে উত্পাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের গ্যাস ফিল্ড থেকে কনডেনসেট কম পাওয়া যাচ্ছে। তাই এলপি গ্যাস উত্পাদন কমে গেছে। এই প্ল্যান্ট দু’টি বাজারে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। এখন এলপি গ্যাসের বাজার বেসরকারী কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি ও বাজারজাত নীতিমালা না থাকায় বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মর্জির উপর বাজার দর নির্ভর করছে।

জানা যায়, সিলেটের এলপিজি প্ল্যান্টে উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। এই প্ল্যান্টে মাসে উত্পাদন ক্ষমতা ৯০০ মেট্টিক টন। কিন্তু গত জানুয়ারীতে উত্পাদন হয়েছে ৪৫০ মেট্টিকটন। দেশের গ্যাস ফিল্ড থেকে কনডেনসেট কম পাওয়ায় উত্পাদন কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবী করেছেন। তাদের দাবী গ্যাস ফিল্ড থেকে কনডেনসেট বেসরকারি কোম্পানিগুলো নিয়ে নিচ্ছে। আবার গ্যাস ফিল্ড গুলোতে উত্পাদন কমে যাওয়ায় কনডেনসেটের উত্পাদনও কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বিপিসি’র এলপিজি প্ল্যান্ট গুলোতে। এদিকে ইষ্টার্ন রিফাইনারীর এলপিজি প্ল্যান্টে উত্পাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। জানা যায়, ২/৩ মাস আগে এই প্ল্যান্টে ওভারহোলিং কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু তার পরেও উত্পাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। সরকারি দু’টি এলপিজি প্ল্যান্টে এই দুরাবস্থা নিয়ে কেউ মুখ খুলছে না। জানতে চাইলে এলপি গ্যাস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ফজলুর রহমান খান ইত্তেফাককে বলেন, ‘যান্ত্রিকত্রুটির কারণে কৈলাশটিলা প্ল্যান্টে উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে উত্পাদন হয়েছে মাত্র ৪৫০ মেট্টিক টন। মেরামত কাজের পরও ইষ্টার্ন রিফাইনারীর প্ল্যান্টে মাসে ৬০০ টনের বেশি উত্পাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। প্ল্যান্টের উত্পাদন ক্ষমতা তার দ্বিগুণ।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৈলাশটিলার প্ল্যান্টের অবস্থা নাজুক। রক্ষণাবেক্ষনে ত্রুটির কারণে মেশিন গুলো ক্রমশ: জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। মেরামত কাজেও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ইষ্টার্ন রিফাইনারী প্ল্যান্টের ওভারহোলিংয়ের পরও কেন উত্পাদন বাড়ছে না তা নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে।

দেশে এলপি গ্যাসের বাজার বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না বিপিসি’র এলপিজি। বিপিসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা প্রতি সিলিন্ডার ডিলারদের নিকট ৬৭৫ টাকায় বিক্রি করে থাকে। আর ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাজারে চড়া দামে সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে।

বিপিসি’র গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে ডিলারদের নানা অভিযোগ রয়েছে। সিলিন্ডার গুলো জরাজীর্ন ও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এতে নিত্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। এলপি গ্যাস লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ইতিমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ৩০ হাজার সিলিন্ডার পরিত্যক্ত করা হয়েছে। নতুন করে ২০ হাজার সিলিন্ডার ক্রয় করা হয়েছে। বর্তমানে বিপিসি’র সাড়ে ৪ লাখ সিলিন্ডার রয়েছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন