হাওরে আগাম জাতের ধান রোপণের পরামর্শ পানিসম্পদ মন্ত্রীর
ফসল রক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে খুশী হাওরবাসী
হাওরে আগাম জাতের ধান রোপণের পরামর্শ পানিসম্পদ মন্ত্রীর
পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, এবার হাওর রক্ষার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। হাওরের কাজের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর মনিটরিং ও নির্দেশনায় হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রী আগাম জাতের ব্রি-ধান ২৮ ফলানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, এই জাত বর্ষা নামার আগে পাকে এবং কেটে ঘরে তোলা যায়। তাই কৃষকদের এ জাতের ধান চাষ করা উচিত। বেশি ফলনের আশায় নিচু এলাকায় অন্য জাতের ধান চাষ করা ঠিক নয়। গতকাল বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউজে হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা প্রতিরোধের জন্য ভেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজের সমাপ্তি ও পরবর্তী করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রশাসন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি, উপকারভোগী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি এ মতবিনিময় করেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য টাকা দিয়েছেন, লোকবলও দিয়েছেন—আমরা চেষ্টা করেছি। হাওর রক্ষার জন্য বলেছিলাম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সুনামগঞ্জে নিয়ে আসব। সেটি করেছি। এ সময় মন্ত্রী হাস্যরস করে বলেন, “আমরা ‘মিছা কথা’ বলি না”। আমরা আমাদের কথা রেখেছি। আমরা যথেষ্ট পরিমাণ অফিসার পাঠিয়ে ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাঁধের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছি।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করেন। তার উপর আল্লাহর অশেষ রহমত আছে। আমরা তার নির্দেশনায় দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, প্রকৃতির উপর কারো হাত নেই। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে এবার কাজ করা সম্ভব হয়েছে। বাঁধের কাজে সবাই সহযোগিতা করায় মন্ত্রী শুকরিয়া আদায় করেন। 

আনোয়ার হেসেন মঞ্জু আরো বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়ে এখানকার মানুষের ধারণা ছিল— ‘বর্ষার আগে টাকা দেয়, তিন মাসে সেই টাকা শেষ করে নেয়।’ এবার সেই দুর্নাম গুছানোর চেষ্টা হয়েছে। 

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে বাঁধ নির্মাণে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো তার প্রশংসার দাবিদার সরকারের ঊর্ধতন মহল, পিআইসি ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তিনি বলেন, আগামীতেও সকল উন্নয়ন কাজে জনসাধারণ এভাবে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসলে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা সর্বসম্মতভাবে একমত পোষণ করে বলেন, এবার যেভাবে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ হয়েছে, এমনতর কাজ এলাকার মানুষ আগে কখনো দেখেনি। অনেকেই বাঁধের কাজকে অবিশ্বাস্য ও অভূতপূর্ব সাফল্য উল্লেখ করে বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরের উন্নয়ন হলে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নপূরণ হয়ে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। তারা শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত পদক্ষেপে এবার সুষ্ঠুভাবে বাঁধের কাজ হয়েছে। যা সুনামগঞ্জের মানুষ চিরদিন স্মরণ রাখবে।

সভায় বাঁধের কাজের অগ্রগতি নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। সভায় জানানো হয়, এ পর্যন্ত হাওর রক্ষা কাজের ৯৪ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি আছে শুধু কিছু বাঁধের গায়ে দুর্বাঘাস লাগানো। সভায় জানানো হয়, এবছর হাওর রক্ষা বাঁধের জন্য ১২৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এক হাজার চারশত কিলোমিটার ভেড়িবাঁধের মধ্যে এবার ৭৭৩ দশমিক ১৬ কিলোমিটার বাঁধের সংস্কার ও নির্মাণ কাজ করা হয়। তাছাড়া বহু স্লুইস গেইটও মেরামত করা হয়।  

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক বলেন, গত বছর যে প্রলয় হয়েছে তার জন্য আপনারা কষ্ট পেয়েছেন। একই সাথে কষ্ট পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তার নির্দেশনা ছিল হাওরের মানুষ যেন কষ্ট না পায়। তাই তিনি একটি টিম গঠন করেন। সেই টিমে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাহেবসহ আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কাজ করেছি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. এমরান হোসেনের সঞ্চালনায় মতবিনিমিয় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন— পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শামছুন নাহার বেগম শাহানা, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার,  অতিরিক্ত সচিব ইউসুফ হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান, পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুবকর সিদ্দিক ভূইয়া, জামিল চৌধূরী, দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ত আবুল কালাম, সুনামগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হোসেন আহমদ রাসেল, হাওর বাঁচাও, সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন কমিটির  সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, এডভোকেট শফিকুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক, আবদুস শহীদ, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেটস্থ চিফ ইঞ্জিনিয়ার জুলফিকার আলী হাওলাদার, সিলেটস্থ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম শহীদুল ইসলাম, জেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক ও জেলা সভাপতি ইফতেখার আহমদ লিমনসহ সুনামগঞ্জের সবকটি উপজেলার ইউএনও ও কর্মকর্তারা। বিকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে তাহিরপুর, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাই ও শাল্লা উপজেরার ভেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি নেত্রকোনা জেলার খালিয়া জুড়ি, মোহনগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার নবনির্মিত বাঁধ পরিদর্শন করেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন