আগ্রাসী বিনিয়োগেই তারল্য সংকট
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ

রেজাউল হক কৌশিক

কিছু কিছু ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান না করেই বড় অংকের এলসি (ঋণপত্র) খুলছে। কিন্তু এলসির দায় মেটানোর সময় তা আর পরিশোধ করতে পারছে না। আবার অন্য খাতেও বেহিসাবি ও আগ্রাসীভাবে বিনিয়োগ করছে ব্যাংকগুলো। ফলে পুরো ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন তারল্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আগ্রাসী বিনিয়োগই তারল্য সঙ্কটের কারণ বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারল্য সঙ্কটে ব্যাংকিং খাত এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, এখন প্রয়োজনীয় খাতেও ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারছে না। আর এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে চেয়ে আছে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, ব্যাংকে নগদ টাকার টানাটানির মাঝেও বাড়ছে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর আগের মাস জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। একইভাবে  ডিসেম্বরে যা ১৮ দশমিক ১৩ শতাংশ ছিল। ঋণ চাহিদার কারণে যেনতেন ঋণ বিতরণ ঠেকাতে গত জানুয়ারিতে ব্যাংকগুলোর ঋণ অনুপাত আমানত (এডিআর) কমানোর মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এডিআর সমন্বয় করার জন্য ব্যাংকগুলো ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পাবে।

আশানুরূপ ঋণ চাহিদা না থাকায় কয়েক বছর ধরে ব্যাংকের কাছে প্রচুর উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল। গত জুনের পর হঠাত্ করে ঋণ চাহিদা বাড়তে শুরু করে। জুলাইতে এসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয় ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। গত নভেম্বরে ১৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশে পৌঁছায়, যা কয়েক বছরের সর্বোচ্চ। গত ৩০ জানুয়ারি প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর ৮৯ টাকা ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়। আগে যা যথাক্রমে ৮৫ ও ৯০ টাকা ছিল। অন্যদিকে যে হারে এলসি খোলা হচ্ছে সামনে এ হার আরো বেড়ে যাবে। গত জানুয়ারিতেও আমদানি ব্যয় বেড়েছে ২৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নিয়মানুযায়ী যত আমানত আসবে তার চেয়ে কম হারে বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু অবস্থা হয়ে গেছে উল্টো। আবার রপ্তানি বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স থেকে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসছে তার চেয়ে আমদানির জন্য এলসি খোলা হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ হারে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতিও বাড়ছে। এসব কারণে চাহিদার ও সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের টাকার সঙ্কট হয়েছে।

আর এ সঙ্কট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও) কমিয়ে দিয়েছে। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নগদ টাকার সঙ্কট কমাতে সরকারি আমানত পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন নিয়মানুযায়ী সরকারি আমানতের ৫০ভাগ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা যাবে। আগে সরকারি আমানতের ২৫ ভাগ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার নিয়ম ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজারে টাকার সঙ্কট হওয়ার পেছনে আগ্রাসী ব্যাংকগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আর এজন্য দায়ী ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা না নিয়ে ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। এক্ষেত্রে শীর্ষ কর্মকর্তা হিসাবে ব্যাংকের এমডি বা সিইওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন