পরিবর্তিত সীমানার ৩৮ সংসদীয় আসনের ৩১টিতে আপত্তি
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
সাইদুর রহমান

৩৮টি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যে খসড়ার গেজেট প্রকাশ করেছিল তার ৩১টি আসনে আপত্তি এসেছে। মন্ত্রী-এমপি থেকে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি ছাড়াও সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা এই আপত্তি জানিয়েছেন। পাশাপাশি খসড়া সীমানার পক্ষে ইসিকে অভিনন্দন জানিয়ে পত্র দিয়েছেন অনেকেই। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপির নেতারাও অভিনন্দন পাঠানোর তালিকায় রয়েছেন। তবে ২০০৮ এবং ২০১৩ সালের চেয়ে এবার ইসির প্রকাশিত খসড়া সীমানা নিয়ে আপত্তি কম। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

৩৮টি সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনে গত ১৪ মার্চ ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানার খসড়া প্রকাশ করেছিল ইসি। খসড়ার ওপর আপত্তি, সুপারিশ দেওয়ার জন্য ১ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।

ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ে প্রায় ৬৬২টি আবেদন এসেছে। ইসি যে ৩৮টি আসনের সীমানায় পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে তার ২৯টির বিষয়ে আপত্তি এসেছে। আর ইসি এবার পরিবর্তন করেনি এমন ২৬টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে।

ইসির পরিবর্তন প্রস্তাবে আপত্তি রংপুর-১ ও ৩, নীলফামারি-৩, কুড়িগ্রাম-৪, পাবনা-১, ২, মাগুরা-১, ২, খুলনা-৪, সাতক্ষীরা-৩, ৪, জামালপুর-৪, ঢাকা-২ ও ৩, ৭ ও ১৪, ১৯, নারায়ণগঞ্জ ৩, ৪, ৫, শরীয়তপুর ২, ৩, মৌলভীবাজার-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, কুমিল্লা ১, ২, ৬, ১০, নোয়াখালী ৪, ৫, চট্টগ্রাম-৭। আবার ইসির পরিবর্তনের পক্ষে পাবনা-১, কুড়িগ্রাম-৩, ৪ সাতক্ষীরা-৪, জামালপুর-৪ ও ৫, ঢাকা-৩ ও ১৯, শরীয়তপুর-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, ৬, কুমিল্লা ১, ২, ১০।

ইসি সংশ্লিষ্টদের মতে, যেসব আসনে নির্বাচন কমিশন এবার পরিবর্তন করেনি, সেই আসনে নতুন করে পরিবর্তন করার ঝুঁকি নিতে চান না। কেননা এতে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হবে। যৌক্তিক ৬টি কারণ দেখিয়ে মাত্র ৩৮টি আসনে পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রশাসনিক ইউনিট খণ্ডিত ছিল, সেগুলো অখণ্ডতার আওতায় আনা হয়েছে। সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদ্য এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রেজা ও এ কে ফজলুল হক এই দুটি আসনে পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবে আপত্তি দিয়েছেন। তারা চান ২০০৮ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যেভাবে আছে, সেভাবে থাকুক। একইভাবে সাতক্ষীরা-৩ আসন বহাল রাখার পক্ষে আবেদন করেছেন সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক)।

ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীরেন শিকদার, মাগুরা-১ এর সংসদ সদস্য এ টি এম আব্দুল ওয়াহাব, ঢাকা-১৪ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন। কুমিল্লা-৬ এর সরকার দলীয় এমপি আ ক ম বাহাউদ্দীন আপত্তি দিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১৪ শাহ আলম ও জালাল আহমদ নামের দুজন ২০০৮ এর সীমানায় ফিরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। ঢাকা-২ আসনটি ২০০৮ সালের পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ায় কেরানীগঞ্জ উপজেলার ভাইস-চেয়ারম্যান এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির সহ-সভাপতি নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন পাঠিয়েছেন। একইভাবে পত্র পাঠিয়েছেন ঢাকা অন্ধ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আজগর আলী মাইজভাণ্ডারী। ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫৫টি আসনের সীমানা নিয়ে আপত্তি এসেছে ওইসব আসন থেকে। ৬৬২টি পক্ষে-বিপক্ষে আবেদনের মধ্যে বিপক্ষে এসেছে ৪৯৪টি এবং পক্ষে এসেছে ১৬৮টি।

এবারই আপত্তি কম :বিগত কয়েক বছরের সংসদীয় সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর এবারই প্রথম কম আপত্তি এসেছে। বর্তমান কমিশনের প্রস্তাবিত সীমানার পক্ষে অনেক আবেদনও পড়েছে। ২০০৮ সালের এটিএম শামসুল হুদা কমিশন ৮৪টি আসনের খসড়া প্রকাশ করলে প্রায় ৪ হাজার আপত্তি পড়েছিল। উচ্চ আদালতে ১৩ মামলাও হয়। বিগত কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশনের আমলে ৫৩টি আসনে খসড়ায় আপত্তি এসেছে ৮ শতাধিক। কিন্তু এবার তুলনামূলক কম আপত্তি এসেছে বলে জানিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা। তারা ইত্তেফাককে বলেছেন, নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলামের একক প্রচেষ্টার কারণে এবারের সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে বেশিরভাগই সন্তুষ্ট।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন