সোনার মানুষ হওয়ার ডাক থাকবে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায়
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
রাবেয়া বেবী

‘সোনার মানুষ’ হওয়ার আহ্বান জানানো হবে এবারের বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রায়। আনন্দ-উল্লাস করে নতুন বাংলা বছরকে বরণের পাশাপাশি সামাজিক অপশক্তিকে প্রতিরোধ করার জন্য প্রতিবছরই একটি বার্তাবহন করে এই শোভাযাত্রা। এজন্য লালনের ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ গানের এই লাইনকে প্রতিপাদ্য করে এগিয়ে চলছে বাংলা নববর্ষ-১৪২৫ বরণের প্রস্তুতি। দেশে শিশু নির্যাতন বাড়ছে বলে এবার শোভাযাত্রায় পাখি ও পাখির ছানাকে নেওয়া হয়েছে শিশুকে নিরাপদে রাখার রূপক হিসেবে।

গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা দেশীয় নানা মোটিভ নিয়ে মাটি, কাগজ আর রঙের খেলায় মেতে উঠেছেন। অনন্যা, জয়তু, দুর্বা, সোনালীরা পরম আনন্দে সরায় রং করছেন, মাটির মুখোশ গড়ছেন আর একদল শিল্পী। তারা সবাই নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করছেন বর্ষবরণ উত্সবের অন্যতম আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রার নানা উপকরণ। তাদের মধ্যে উত্সাহের কমতি নেই এতটুকু।

গত ১৫ মার্চ শিল্পী রফিকুন নবী এই কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রতি বছর চারুকলা ইনস্টিটিউটের এমএফএ’র শেষ ব্যাচ থাকে এই শৈল্পিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে্। সরা বা মুখোশ তৈরির পাশাপাশি বিক্রিও হচ্ছে এখানে। মাস্টার্স শেষ করা স্টলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফাহমিদা আক্তার জানান, এখন পর্যন্ত তার ছোট সরা বিক্রির হার ভালো। বড় সরাও বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, তার কাছে ১০০ টাকার তুহিন পাখি থেকে শুরু করে ১৫শ’ টাকার সরা আছে। পাশেই পেইন্টিং বিক্রির দায়িত্বে নিয়োজিত প্রশান্ত সাহা জানান, এক একেকটি পেইন্টিং বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায়। স্যারদের আঁকা ছবির দাম একটু বেশি। তবে গুণগত বিবেচনায় তা কমই, কারণ স্যাররা এত কমে ছবি বিক্রি করেন না।

এবার এই শৈল্পিক কার্যক্রমের আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন শিশির ভট্টাচার্য। যুগ্ম আহ্বায়ক হচ্ছেন ২০তম ব্যাচের আসিফ আজাদ বান্টি। বান্টি বলেন, এবার সবচেয়ে বড় মোটিভ হচ্ছে টেপা পুতুল। দেশে শিশু নির্যাতন বাড়ছে বলে পাখি ও পাখির ছানাকে নেওয়া হয়েছে শিশুকে নিরাপদে রাখার রূপক হিসেবে। জেলে, জাল আর মাছও থাকবে এবারের শোভাযাত্রায়। প্রতিদিনই বাড়ছে তাদের কাজের পরিধি। এখন মুখোশ, সরা, পাখি, মাছ, প্যাঁচা, মঙ্গলঘট আর ছোটখাটো পটসহ নানা শিল্পকর্ম তৈরি আর বিক্রি হচ্ছে। এসব শিল্পকর্ম বিক্রি হওয়া অর্থ ব্যয় হবে এই শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে। কর্মরত শিক্ষার্থীদের খাওয়া-দাওয়া, কাগজ-কালি সব কেনা হয় এই টাকায়।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন