গাজীপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচারণায়
গাজীপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচারণায়

আসন্ন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। সিটির প্রতিটি ভোট কেন্দ্র ঘিরে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীর সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে নির্বাচনী টিম। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব টিম কাজ করবে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে। গাজীপুর সিটিতে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে লড়ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম আর ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন হাসান উদ্দিন সরকার। গতকাল রবিবার প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে দুই দলের প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়ে যান। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম গতকাল তার সমর্থনে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নগপাড়া কমিউনিটি সেন্টারে জেলা ‘    যুবলীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি ২৫, ২৬, ২৭ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। অপরদিকে হাসান উদ্দিন সরকার দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ২৪ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ চালান।

ইসির তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এই সিটিতে ৭ মেয়র প্রার্থী, ৩৪০ জন নারী ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গতকাল রবিবার এই সিটির নির্বাচনী এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাচনী মাঠে রণ প্রস্তুতি নিয়ে নেমেছে দেশে প্রধান দু’দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রতীক হিসেবে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ‘নৌকা’ আর ‘ধানের শীষ’ হওয়ায় খানিকটা জাতীয় নির্বাচনের আমেজ বিরাজ করছে। দুই দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে উভয় দলই জনমত যাচাইয়ের মাধ্যম মনে করছে এই সিটি নির্বাচন। তবে প্রচারণার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন, আর রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগী হওয়ায় এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। ফলে নির্বাচনী প্রচারণায় বিকল্প কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সংসদ সদস্য নন এবং রাষ্ট্রীয় কোন পদে নেই এমন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সমন্বয়ে চলছে আওয়ামী লীগের প্রচারণার কাজ।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগসহ সহযোগি সংগঠনের নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নন দলের এমন কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রধান করে প্রচারণা টিম গঠন করা হয়েছে। একটি প্রধান প্রচারণা টিমের পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্র টার্গেট করেও টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষাসহ দলীয় প্রার্থী জয়লাভের জন্য কাজ করবে।

ইতিমধ্যে দলীয় প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা আবু কাউছারের নেতৃত্বে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। গত বুধবার থেকে তারা গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছেন।

গত শনিবার সকালে সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগ যৌথ সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাম্মদ হোসেন, বাহাউদ্দিন নাছিম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান, কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কবীর, কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশরাফ সিকদার প্রমুখ।

দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নেতা-কর্মীদের বলেন, আমি আপনাদের ভাই, আমাকে কেউ ভুল বুঝবেন না। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে নৌকার জন্য ভোট চাই। রাস্তায় রাস্তায় না ঘুরে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে যান। মান-অভিমান ভুলে সবাই একসঙ্গে কাজ করুন।

সভায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয়, ৫৭টি ওয়ার্ডের জন্য ১১৬টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতি কমিটি ১০ সদস্যের। সভায় মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দল তাকে না দিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে দলীয় মনোনয়ন দেয়। পরে আজমত উল্লাহ খানকে জাহাঙ্গীর আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানও করা হয়েছে আজমতকে। ইতোমধ্যে আজমত প্রকাশ্যে জাহাঙ্গীরের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। তবে আজমত নামলেও তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের একটি বড় অংশ এখনও হাত গুটিয়েই বসে আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টির সুরাহা করার জন্য গতকাল রবিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে তলব করা হয় গাজীপুর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম ও আজমত উল্লাহ খান। কেন্দ্রীয় নেতারা উভয়কে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, দলের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। 

এদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের ভাই নূরুল ইসলাম সরকারকে নিয়ে খানিকটা বিপাকে রয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আহছানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় নুরুল ইসলাম সরকারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিপক্ষ এ বিষয়টি ভোটারদের কাছে তুলে ধরছে। এছাড়া মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরেও রয়েছে অসন্তোষ। কারণ আগের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমএ মান্নান বিপুল ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। মেয়র থাকাকালে দীর্ঘদিন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন। কিন্তু এবার মনোনয়ন চেয়েও তিনি পাননি। বর্তমানে তিনি মেয়র পদে আসীন। তাই নির্বাচনী আচারণবিধি অনুযায়ী তিনি কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারাভিযানে নামতে পারছেন না। তবে তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তার সমর্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ না নিয়ে নীরব রয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন