বস্তির দুঃখ লাঘবকারীকে মেয়র নির্বাচিত করব
খুলনা সিটির ১০১৯টি বস্তির সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের ভাবনা
এনামুল হক, খুলনা অফিস৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
বস্তির দুঃখ লাঘবকারীকে মেয়র নির্বাচিত করব
বিগত নির্বাচনগুলোর মতো এবারের নির্বাচনেও বস্তিবাসীদের ভোট প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। সে কারণে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী প্রতিদিনই বস্তিবাসীদের কাছে ছুটছেন। তারা বস্তিবাসীর পানীয়জলের সংকট নিরসন, মশক নিধন, নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ও ড্রেন পরিষ্কার এবং জলাবদ্ধতা দূরসহ মাদক আখড়া উচ্ছেদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে বস্তিবাসী ভোটাররা বলছেন, প্রার্থীরা যতই মন ভোলানো প্রতিশ্রুতিই দিক না কেন- তারা এবারের নির্বাচনে সত্ ও  যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করতে চান। তবে কোন প্রার্থীকে মেয়র পদে ভোট দেয়ার জন্য যোগ্য মনে করছেন; সে ব্যাপারে মুখ খুলতে অনেকটাই কৌশলী ভূমিকা নিচ্ছেন বস্তিবাসী ভোটাররা। তারা বলছেন- যিনি বস্তির দুঃখ ও মাদক আখড়া নির্মূল করতে পারবেন তারা তাকেই ভোট নিয়ে নির্বাচিত করবেন। কেসিসি’র সূত্র মতে, খুলনা নগরীতে ১ হাজার ৯১০টি বস্তি রয়েছে। এই বস্তিগুলোতে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ দরিদ্র মানুষের বসবাস।

নগরীর প্রাণকেন্দ্র সিমেট্রি রোড সংলগ্ন মুড়িপট্টি বস্তিতে ৩৮৫টি ঘর রয়েছে। এই বস্তির প্রধান সমস্যা বিশুদ্ধ খাবার পানির। এরসঙ্গে নিত্যসঙ্গী ড্রেনের ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ। আর তারা রাতে ঘুমাতে পারেন না মশার কামড়ে। এ বস্তির বাসিন্দা অশীতিপর বৃদ্ধা গীতা রানী ঘোষ বলেন, বাবা গত ১০ বছরে আমাদের এই বস্তিতে মশা মারার ওষুধ ছিটানো হইছে কী না তা আমার মনে পড়ে না। আর রাতে মশার কামড়ে ঘুম আসতে চায় না। আছে জলের কষ্ট । আমরা যে জল খাই তা লবণ জল। শুধু গীতা রানী নয়, তার মতো এমন অভিযোগ সকল বস্তিবাসীর। এ বস্তির বাসিন্দা মর্জিনা, নাসিমা ও পারুল খাতুনও বলেন, যে টিউবওয়েল আছে তা দিয়ে খালি লবণ পানি ওঠে। তা মুখে দেয়া যায় না। তারপরও খাতি হয়। এখন ইলেকশন তাই প্রতিদিনই কোনো না কোনো মেয়র প্রার্থী আসতেছেন। সব সমস্যা সমাধানের কথা বলতেছেন। কিন্তু কাউরেই আমরা কথা দিচ্ছি না। যে প্রার্থী আমাদের সমস্যার সমাধান করতি পারবে, আমরা তারেই ভোট দেব।

নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমজীবী বলেন, তাদের বস্তি এলাকায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। সন্ধ্যার পর তাদের পুরো বস্তি এলাকা মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। আর এসব মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে কথিত নেতা ও পুলিশের। তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারে না। যে মেয়র প্রার্থী মাদকমুক্ত করতে পারবেন সেই প্রার্থীকেই আমরা ভোট দেব।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ইত্তেফাককে বলেন, আমি মেয়র থাকাকালে কেসিসিতে দারিদ্র্য বিমোচন নামে একটি ফান্ড ছিল। যা দিয়ে ড্রেন, কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছিল। ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করা হতো। বিদেশি ফান্ড থেকে টাকা আনতে গেলে তত্পরতা দেখাতে হয়। তা বর্তমান বিএনপির মেয়র পারেননি। পানির সমস্যা সমাধানে ওয়াসার জন্যও ২৬ কোটি টাকার ব্যবস্থা করেছিলাম। মশা নিধনের জন্যও নগরীতে নিয়মিত মশা মারার ওষুধ ছিটানো হতো। এখন শুনছি তা আর হয় না। তবে আমি মেয়র নির্বাচিত হলে এ সব সমস্যার কার্যকর সমাধান করব। আর মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।

অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমি খুলনাকে পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন ও একটি আধুনিক নগরী গড়ে তুলতে যা যা করা দরকার তার জন্য সব কিছু করব। নগরীর জলাবদ্ধতা ও মশক নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা করা হবে। আর মাদক ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় এ শহর থেকে তাদের চিরতরে নির্মূল করা হবে।

প্রধান দুই মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগ: গতকাল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নগরীর ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিসহ দুর্নীতিমুক্ত খুলনা সিটি গড়ে তুলতে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। অপরদিকে, বিএনপির মেয়র প্রার্থী গতকাল ফেরিঘাট মোড়, দেবেন বাবু রোড, সঙ্গীতা হল সংলগ্ন মার্কেট, ২০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় তিনি মাদক ও চাঁদাবাজদের উচ্ছেদ প্রতিশ্রুতি দেন।

নৌকায় ভোট চাইলেন খুলনার সচেতন সাংবাদিক সমাজ: এদিকে গতকাল রাজপথে নেমে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইলেন খুলনার সচেতন সাংবাদিক সমাজ। খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে এই প্রচারণা কর্মসূচি উদ্বোধন করেন মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। তারা নগরীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আশরাফ উল হক, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক প্রবর্তন সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ার, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেন মিন্টু, শেখ আবু হাসান, এ কে হিরু ও এস এম নজরুল ইসলাম, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মল্লিক সুধাংশু, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল প্রমুখ।

ধানের শীষের প্রচারণায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম: গতকাল ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। ফোরামের সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট এস আর ফারুক, অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা, অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাসুম আল রশিদ, অ্যাডভোকেট চৌধুরী আব্দুস সবুর প্রমুখ।

৪/৫টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে : ইসি

এদিকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত্ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, পরীক্ষামূলকভাবে ও জনগণকে অবহিতকরণের লক্ষ্যে এবারের খুলনা সিটি নির্বাচনে একটি ওয়ার্ডে অথবা ৪/৫টি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভোট কেন্দ্রগুলোকে সিসি টিভির আওতায় আনার জন্য কাজ করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন ও গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রের জন্য ২২ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অস্ত্রসহ মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি ভোটার ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। গতকাল খুলনা সার্কিট হাউজের লবিতে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন ।

এরআগে তিনি বেলা ১১টায় স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় মিলিত হন। তিনি আরো বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করার কোন পরিকল্পনা কমিশনের নেই। তবে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যা যা প্রয়োজন সে ধরনের সকল প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। আগামী ১৩ মে বিজিবি মোতায়েন করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ, বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, খুলনার রেঞ্জ ডিআইজি দিদার আহমেদ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির, জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান, র্যাব-৬ এর অধিনায়ক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন