রাসেলের বিচ্ছিন্ন পা জোড়া লাগেনি
গ্রীনলাইন বাসের চালকের রিমান্ড না-মঞ্জুর
বিশেষ প্রতিনিধি৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
রাসেলের বিচ্ছিন্ন পা জোড়া লাগেনি
চিকিত্সকরা তিন ঘণ্টা অস্ত্রোপচার করেও প্রাইভেটকার চালক রাসেলের বিচ্ছিন্ন পা জোড়া লাগাতে পারেননি। রাসেল বর্তমানে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। শনিবার রাতেই রাসেলের অস্ত্রোপচার হয়। এ দিকে রাসেলের পা বিচ্ছিন্নের ঘটনায় গ্রীন পরিবহনের চালক কবির হোসেনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ঘটনার সময় রাসেলের সঙ্গে থাকা এপিআর এনার্জি কোম্পানির সিকিউরিটি বিভাগের ক্লোজ প্রোটেকশন অফিসার আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, রাসেল এখনো শঙ্কামুক্ত নন। অপর দিকে রাসেলের ভাই আরিফ সরকার জানিয়েছেন, গতকাল পর্যন্ত গ্রীন লাইন পরিবহনের মালিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অপর দিকে অভিযুক্ত চালক কবির হোসেনের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ড্রাইর্ভাস ইউনিয়ন।

রাসেল সরকারের পা হারানোর ঘটনায় গ্রীন লাইন বাসের চালক কবির হোসেনকে আসামি করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে। গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মামলা করেন রাসেল সরকারের বড় ভাই  আরিফ সরকার।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান বলেন, কবির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রবিবার ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাইদ রিমান্ড না-মঞ্জুর করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তিনদিন জেলগেটে কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

এপিআর এনার্জি কোম্পানির সিকিউরিটি বিভাগের ক্লোজ প্রোটেকশন অফিসার  আরিফ হোসেন বলেন, ঘটনার পর রাসেলকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল  কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি দেখে নেওয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে। পরে উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে নেওয়া হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। তিনি বলেন, শনিবার রাত ৮টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা তার অস্ত্রোপচার করেন চিকিত্সকরা; কিন্তু তার পা জোড়া লাগাতে পারেননি। রাসেলকে  হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে ওয়ার্ডে নেওয়া হয়েছে। চিকিত্সকেরা রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করায় আত্মীয়-স্বজনও চুপচাপ তাকে দেখে চলে আসছেন।

অপর দিকে রাসেলের ভাই আরিফ সরকার ক্ষুব্ধ কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, যে বাস আমার ভাইয়ের এত বড় ক্ষতি করল, সেই বাসের কেউ এখন পর্যন্ত আমাদের খবরও নিতে আসেনি। ভাই কি মরেছে না বেঁচে আছে, সে কথাও তাদের কেউ জিজ্ঞেস করেনি। সারাটা জীবন যে তাকে পঙ্গু হয়ে থাকতে হবে, সে কথাও কি তারা একবার ভেবেছে?

তিনি আরো বলেন, আটকের পর গ্রীন লাইন বাসের চালকের সঙ্গে গতকাল (শনিবার) আমার দেখা হয়েছিল। তাকে আমি বারবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কেন তিনি আমার ভাইয়ের পায়ের ওপর বাস চালিয়ে দিলেন; কিন্তু  তিনি কোনো জবাব দেননি।

রাসেলের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, তার অবস্থা বেশি ভালো না। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে তিন ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে। তিনি জানান, রাসেল কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। চুপচাপ শুয়ে থাকছেন। মুখে কিছু না বললেও দেখলে বোঝা যায় যে, ভবিষ্যত্ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।

চালকের কঠোর শাস্তি দাবি

গ্রীন লাইন পরিবহনের চালক কবির হোসেনের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ড্রাইর্ভাস ইউনিয়ন। গতকাল রবিবার তেজগাঁওস্থ ড্রাইর্ভাস ইউনিয়নের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মোঃ মনির। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, গ্রীন লাইনের চালক কবির ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে প্রাইভেটকার চালক রাসেলের অঙ্গহানি ঘটিয়েছে। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

উল্লেখ্য, শনিবার বিকাল ৩টার দিকে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ধোলাইপাড় ঢালে রাসেলের বাম পায়ের ওপর দিয়ে বাস চালিয়ে দেন কবির হোসেন। এতে তার পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাসেলের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায়। তার বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। পরিবার নিয়ে রাসেল সরকার মোহাম্মদপুরের সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় থাকেন। সেখানে থাকেন তার স্ত্রী মীম আক্তার আর সতের মাস বয়সী ছেলে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন