বোরোতে ব্লাস্টের আক্রমণ উদ্বেগজনক নয়
অননুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রয়োগের কারণে ব্লাস্ট রোগ
নিজামুল হক ও মুন্না রায়হান৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ব্লাস্ট রোগের কারণে কৃষকরা উদ্বিগ্ন হলেও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, উদ্বেগের কোন কারণ নেই। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা বলেছেন, যে পরিমাণ এলাকা ব্লাস্টের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা বেশি নয়। মোট আবাদি এলাকা বিবেচনায় আক্রান্ত এলাকা খুবই নগণ্য। তাই বিষয়টি উদ্বেগজনক নয়। বিভিন্ন কোম্পানির অননুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করার ফলেই কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, সারাদেশের আক্রান্ত জমিতে ক্ষতির ধরন ও মাত্রা এক রকম নয়। দেশের ১৪টি অঞ্চলে মোট বোরো আবাদি এলাকা ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮১১ হেক্টর যার মধ্যে মাত্র ২ হাজার ৩১৫ হেক্টর অর্থাত্ শতকরা ০.০৪৬ ভাগ ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলে মোট বোরো আবাদি এলাকা ৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৫ হেক্টর, রংপুর অঞ্চলে ৫ লাখ ১৯ হাজার ১৫৯ হেক্টর, দিনাজপুর অঞ্চলে ২ লাখ ৭৮ হাজার ১২৭ হেক্টর, ফরিদপুর অঞ্চলে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫শ হেক্টর। এর মধ্যে ব্লাস্ট আক্রান্ত এলাকা খুবই কম। এসব এলাকায় আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ফলে ক্ষতির মাত্রাও কম বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। দেশের আক্রান্ত ২ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমির ১ হাজার ৮৫৭ টন বোরো ধান বা মোট উত্পাদনের ০.০০৯৩ শতাংশ ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি’) সদর দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে দেশের বিভিন্ন ব্লাস্ট আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করার জন্য প্রধান কার্যালয়ে ৭টি ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে ৯টি দল গঠন করা হয়। এই দল এবং ৯টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে ১৪টি ব্লাস্ট আক্রান্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্লাস্টের ক্ষতির পরিমাণ পর্যালোচনা করেন।

ধান বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শীষে ব্লাস্ট রোগটি হওয়ার সাথে সাথেই কৃষকের ক্ষতি হয়ে যায় সে জন্য আগাম ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা উচিত। অনেক কৃষক শীষ ব্লাস্ট রোগ দমনের জন্য আগাম ছত্রাকনাশক ব্যবহার করেছেন এবং তারা ক্ষতিগ্রস্ত হননি। তবে বিভিন্ন কোম্পানি কৃষকদেরকে অননুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রয়োগে প্রভাবিত করায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। কৃষকরা অননুমোদিত ও অকার্যকর ছত্রাকনাশক ব্যবহার করেন, ফলে অনেক সময় শীষ ব্লাস্ট রোগ সফলভাবে দমন করা সম্ভব হয় না।

এবার যে কারণে ব্লাস্ট : ব্লাস্ট ধানের একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এটি নতুন কোন রোগ নয়। প্রতি বছরই বোরো ও আমন মওসুমে বিভিন্ন এলাকায় কম বেশি এ রোগটি হয়ে থাকে। নেক ব্লাস্ট রোগের কারণ অনুসন্ধান ও কৃষকদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রি জানিয়েছে, গত ২৬ থেকে ২৯ মার্চ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছিল এবং এসময় যেসব মাঠের ধান ফুল আসা পর্যায়ে ছিল সেসব গাছে শীষ ব্লাস্ট হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মহসিন ইত্তেফাককে বলেন, ব্লাস্টের আক্রমণ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটা বোরোর মোট উত্পাদনে কোন প্রভাব ফেলবে না।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর বলেন, ধান পেকে গেলে ব্লাস্ট আক্রমণ করলেও তাতে কোন ক্ষতি হয় না। এবারে যে ক্ষতি হয়েছে তা খুবই নগণ্য পরিমাণে। পূর্ব থেকেই আমরা নানামুখী প্রতিরোধী ব্যবস্থা নিয়েছিলাম।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন