খুলনায় চলতি বছরই পানি সরবরাহ প্রকল্পের উদ্বোধন
আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি চালু হলে নগরীতে প্রতিদিন ১১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে
এনামুল হক, খুলনা অফিস২৬ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
খুলনা মহানগরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ৪৫ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৬ হাজার গ্রাহকের বাড়িতে পানির লাইনের সংযোগ দেওয়ার কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধাপে প্রকল্পের গড় অগ্রগতি হয়েছে শতকরা ৯০ ভাগ। এ অবস্থায় চলতি বছর প্রকল্পটি উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি চালু হলে নগরীতে প্রতিদিন ১১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২৭ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় খুলনা ওয়াসার এ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৫৫৮ কোটি ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) ফান্ড থেকে ৭৫০ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)  ৫২৩ কোটি ৭৭ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ১ হাজার ২৮৪ কোটি ১২ লাখ ৭৮ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে খুলনা শহর থেকে ৭১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মধুমতি নদী থেকে পানি সংগ্রহের পর তা পরিশোধনের মাধ্যমে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় সরবরাহ করা হবে। মধুমতি নদী থেকে পাইপের মাধ্যমে অপরিশোধিত এ পানি খুলনা শহর সংলগ্ন রূপসা উপজেলার পাথরঘাটা এলাকায় পরিশোধন করা হবে। সেখানে গড়ে দৈনিক ১১ কোটি লিটার পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি শোধনাগারের পাশাপাশি অপরিশোধিত পানি সংরক্ষণের জন্য ৭ লাখ ৭৫ হাজার কিউবিক মিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জলাধার নির্মাণ করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে এক থেকে দুই সপ্তাহ মধুমতির পানি কিছুটা লবণাক্ত হয়ে পড়ে। সে সময় জলাধারের পানি পরিশোধন করে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করা হবে।

সূত্র জানায়, এডিবি’র অর্থায়নে ৩টি ইন্টারন্যাশনাল কন্ট্রাক্ট বিডি-আইসিবি প্যাকেজ ও ২টি ন্যাশনাল কন্ট্রাক্ট বিডি-এনসিবি প্যাকেজ ৭টি ডিস্ট্রিবিউশন রিজার্ভার এবং ১০টি ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণের মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। এদিকে পানি শোধনাগার থেকে রূপসা নদীর তলদেশ হয়ে খুলনা শহরের বিভিন্ন স্থানে ৭টি রিজার্ভার পর্যন্ত সরবরাহ করতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন ব্যাসের প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো শেষ  হয়েছে যার মাধ্যমে সকল গ্রাহককে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ইতোমধ্যেই নগরীর সাত নম্বর ঘাট এলাকায় রেলওয়ের জমিতে পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতাধীন খুলনা ওয়াসার ১০ তলা ফাউন্ডেশনবিশিষ্ট (প্রথম পর্যায়ে ৬ তলা) প্রধান ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ওই ভবনে বর্তমানে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া চার কোটি টাকা ব্যয়ে মহেশ্বরপাশা ও চরেরহাট এলাকায় ২টি জোনাল বিল্ডিং নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। অপরদিকে, জাইকার অর্থায়নে ‘ইমপাউন্ডিং রিজার্ভার অ্যান্ড সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ প্যাকেজের আওতায় রূপসা উপজেলার তিলক ও পাথরঘাটা নামক স্থানে ১১০ লাখ লিটার (এমএলডি) ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার এবং ইমপাউন্ডিং রিজার্ভার নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া মোল্লাহাট ব্রিজ সংলগ্ন মধুমতি নদীর পাড়ে ‘ইনটেক স্ট্রাকচার অ্যান্ড পাম্প হাউজ’-এর নির্মাণ কাজও প্রায় শেষের পথে। প্রকল্প ব্যবস্থাপক খান সেলিম আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজে গড়ে ৯০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ পিইঞ্জ বলেন, চলতি বছরের মধ্যে প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। টার্গেটকৃত ৪৫ হাজারের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৬ হাজার বাড়িতে সংযোগ দেয়ার কাজ সমাপ্ত হয়েছে। বাকি  ২৯ হাজার বাড়ির সংযোগ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। প্রকল্পের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পরীক্ষামূলক চালু করা হবে সেপ্টেম্বরে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি চালু হলে চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন ১১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বাকি ১১ কোটি ৯০ লাখ লিটার পানির সংকট নিরসনে ফের আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজাল (ডিপিপি) তৈরির কাজ শুরু হয়েছে যা চলতি বছর মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৬ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৬
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২১
পড়ুন