এক মাসেও পায়েল হত্যার চার্জশিট হয়নি
ঈদের দিন ‘সোমা মঞ্জিলে’ শোকের মাতম
২৬ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
 শামীম হামিদ, চট্টগ্রাম অফিস

বাড়ির নাম ‘সোমা মঞ্জিল’। হালিশহর আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১৩ নম্বর লেনের একেবারে শেষের বাড়ি এটি। এ বাড়ির চতুর্থ তলায় সপরিবারে থাকতেন সাইদুর রহমান পায়েল। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পঞ্চম সেমিস্টারে পড়তেন তিনি। পড়াশুনার সুবাদে ঢাকা থাকলেও ছুটি পেলে চট্টগ্রামে চলে আসতেন পায়েল। এ বাড়িতেই কোরবানির ঈদ করার কথা ছিল তার। ঢাকা যাওয়ার আগে মা কোহিনুর বেগমকে পায়েল বলে গিয়েছিলেন যেন তিনি ঢাকা থেকে আসার পর কোরবানির জন্য গরু কেনা হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে আর আসা হয়নি পায়েলের। গত ২১ জুলাই রাতে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পরদিন ভোরে বাসটি নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় পৌঁছালে রাস্তায় জ্যামে পড়ে। এসময় প্রশ্রাব করার কথা বলে গাড়ি থেকে নামেন পায়েল। এরপর আবার গাড়িতে উঠতে গেলে দরজার সাথে ধাক্কা লেগে আহত হন তিনি। আহত পায়েলকে চিকিত্সার জন্য কাছাকাছি কোনো হাসপাতালে না নিয়ে মৃত ভেবে তাকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। এই পৈশাচিক কাজটি করেন হানিফ পরিবহনেরই সুপারভাইজার জনি, চালক জামাল হোসেন ও তার সহকারি ফয়সাল হোসেন। পরদিন মুন্সীগঞ্জের ভবেরচর খাল থেকে পায়েলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এভাবে গাড়ির স্টাফদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন একজন মেধাবী ছাত্র। এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে পরিবার। মামলার তিন আসামিকেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হওয়া জনি ঘটনা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তবে এক মাস পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এই হত্যা মামলার চার্জশিট দেয়া হয়নি।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, এ মাসের মধ্যেই পায়েল হত্যা মামলার চার্জশিট দেয়া হবে। তিনি বলেন, পায়েল হত্যা মামলা আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তদন্ত করেছি যাতে আইনগত কোনো ফাঁকফোকর না থাকে এবং আসামিরা তার সুযোগ নিতে পারে। তদন্ত শেষ হয়েছে।

সোমা মঞ্জিলে শোকের মাতম

এদিকে পুত্রকে হারানোর এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিন ঈদ হওয়ায় পায়েলের পরিবারে ঈদ এসেছে শোকের বার্তা নিয়ে। ছেলের শোকে এবার আর গরুই কেনা হয়নি পায়েলদের। ঈদের দিন তাদের ঘরে রান্না হয়নি কোন মাংস। ঈদের দিন সরেজমিনে পায়েলদের বাসায় গিয়ে দেখা যায় ছেলের ছবি ও পোশাক নিয়ে অঝোরে কাঁদছেন পায়েলের স্বজনরা। হালিশহরের বাসায় ছোট্ট একটি কক্ষ আছে পায়েলের। সেই কক্ষে আছে একটি ওয়ারড্রোব। তিন তাকের এ ওয়ারড্রোবের প্রতিটিতেই কাপড় রাখতেন তিনি। একেবারে শেষের ড্রয়ারটিতে রাখতেন প্যান্ট ও শার্ট। এক মাস আগে হানিফ পরিবহনের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারের নির্মমভাবে পায়েলকে খুন করলেও বাসার সেই ওয়ারড্রোবে এখনো থরেথরে সাজানো আছে তার জামা কাপড়। তার পড়ার টেবিলে গোছানো আছে বইও। পায়েলের মা কোহিনুর বেগম ও বাবা গোলাম মাওলার শোক বাড়াচ্ছে এসব কাপড় ও বই। মা বাবার সাথে থাকা ছবিও কষ্ট বাড়াচ্ছে তাদের। স্বজনরা এগুলোর মাঝে খুঁজছেন পায়েলকে। আর কাঁদছেন অঝোরে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৬ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৬
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২১
পড়ুন