সংস্কৃতি দুই বাংলাকে এক সুতোয় বেঁধেছে
শিল্পকলায় গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উত্সব শুরু
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
সংস্কৃতি দুই বাংলাকে এক সুতোয় বেঁধেছে

বাংলাদেশ ও ভারতের আড়াই হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণে গতকাল শুক্রবার থেকে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে ১১ দিনের গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উত্সব। উত্সবে প্রতিদিন নাট্য মঞ্চায়নের পাশাপাশি থাকছে অন্যান্য সাংস্কৃতিক আয়োজন।

বিকেলে একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে উত্সবের উদ্বোধন করেন দুই বাংলার দুই নাট্যজন মামুনুর রশীদ ও বিভাস চক্রবর্তী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। মন্ত্রী বলেন, দুই বাংলার আত্মীয়তা শুধুমাত্র ভাষার কারণে নয়, সংস্কৃতির শেকড়ের কারণে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, নাটক, গান, নাচ দুই বাংলাকে এক সুঁতোয় বেঁধেছে। এ ধরনের সাংস্কৃতিক উত্সব দুই দেশের সংস্কৃতির আদান-প্রদানে সহায়তা করবে। এসময় মন্ত্রী এ উত্সবকে ঢাকার বাইরে আয়োজন করতে আয়োজকদের অনুরোধ করেন।

সপ্তমবারের মতো এ উত্সবের আয়োজন করেছে গঙ্গা-যমুনা নাট্যোত্সব পর্ষদ। সহযোগিতায় রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, শিল্পকলা একাডেমি এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড।  উদ্বোধনী পর্বে সম্মানিত অতিথি ছিলেন নাট্যজন আতাউর রহমান, নাসির উদ্দিন ইউসুফ ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। উত্সব পর্ষদের আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পর্ষদের সদস্য সচিব আকতারুজ্জামান। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা।

উত্সব উদ্বোধক মামুনুর রশীদ বলেন, ভৌগোলিকভাবে আমরা আলাদা হলেও বাঙালি হিসেবে আমরা একই সংস্কৃতির মানুষ। এ ধরনের উত্সব সেই একই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিভাস চক্রবর্তী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন সংস্কৃতিকে অবলম্বন করে দুই বাংলার মানুষকে এক করতে। দুই বাংলার মানুষের মাঝে সেই ইচ্ছাটা প্রবল থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় স্তরে তা খুব একটা এগিয়ে যাচ্ছে না।

গোলাম কুদ্দুছ জানান, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তন, পরীক্ষণ থিয়েটার হল ও স্টুডিও থিয়েটার হলে ভারতের চারটি দলের পাশাপাশি ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ২৬টি নাট্যদল অংশ নিচ্ছে। এছাড়া আগামী ১২ অক্টোবর সকাল ১০টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে ‘গঙ্গা-যমুনা পাড়ের সংস্কৃতি ও একটি অনুসন্ধান’ শীর্ষক সেমিনার।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে ভারতের ড্যান্সার্স গিল্ড পরিবেশন করে জোনাকী সরকারের নির্দেশনায় ও ড. মঞ্জুশ্রী চাকীর পরিচালনায় নৃত্যনাট্য ‘তোমারই মাটির কন্যা’ এবং স্টুডিও থিয়েটার হলে পরিবেশিত হয় চন্দ্রকলা থিয়েটারের নাটক ‘তন্ত্রমন্ত্র’। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন এইচ আর অনিক। আজ শনিবার জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে ভারতের নাট্যদল অনীক মঞ্চস্থ করবে ‘বিষঘুম’ এবং পরীক্ষণ থিয়েটার হলে থিয়েটার মঞ্চস্থ করবে ‘মেরাজ ফকিরের মা’।

আবৃত্তির আসর ‘কবিতার কথা’:আবৃত্তি সংগঠন বাকশিল্পাঙ্গন গতকাল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজন করে আবৃত্তির আসর ‘কবিতার কথা’। দলের তিন নিয়মিত বাচিকশিল্পী ইমরুন নাহার ইমু, নুত্ফা বিনতে রব্বানী ও ডলি দাসের সঙ্গে এই আসরে অতিথি হিসেবে আবৃত্তি করেন সৈয়দ শহীদুল ইসলাম নাজু ও মাহফুজ মাসুম।

রবিরশ্মির দুই দশক:পথচলার দুই দশক পূর্ণ করেছে সঙ্গীত সংগঠন ‘রবিরশ্মি’। এ উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে সংগঠনটি আয়োজন করে ‘প্রেমের জোয়ারে ভাসাবে দোঁহারে’ শিরোনামে সঙ্গীতসন্ধ্যার। যাতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুপ ভট্টাচার্য্য। সূচনা বক্তব্য রাখেন রবিরশ্মি’র পরিচালক শিল্পী মহাদেব ঘোষ। অনুষ্ঠানে সংগঠনের শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথের পূজা, প্রেম, প্রকৃতি পর্যায়ের গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

মুখোমুখী আলাপনে মামুনুর রশীদ ও নাসিরউদ্দিন ইউসুফ:স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্যচর্চাকে গত ৪৭ বছর ধরে যারা এগিয়ে নিয়ে গেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম মামুনুর রশীদ ও নাসিরউদ্দিন ইউসুফ। দেশের এই দুই অগ্রজ নাট্যব্যক্তিত্বকে মঞ্চে নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো নাটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মুখোমুখি আলাপন। শুক্রবার নাটক সরণির (বেইলি রোড) মহিলা সমিতির আইভি রহমান মিলনায়তনে ব্যতিক্রমধর্মী এই আলাপন অনুষ্ঠিত হয়। মঞ্চ নাটকের নির্দেশকদের সংগঠন ‘থিয়েটার ডিরেক্টরস ইউনিটি’ প্রথমবারের মতো এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 বহু বছর পর মঞ্চে আসাদুজ্জামান নূর ও আলী যাকের:বিশ বছর পর ঢাকার মঞ্চে ফিরলেন আসাদুজ্জামান নূর। সংস্কৃতিজন আসাদুজ্জামান নূর রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর মঞ্চ থেকে দূরে ছিলেন। এরপর সংস্কৃতি মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর দূরত্ব আরো বেড়েছে। ২০ বছর পর সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে মঞ্চে ফিরলেন ‘গ্যালিলিও’ নাটক নিয়ে। অপর নাট্যজন আলী যাকেরও এই একই নাটক দিয়েই দশ বছর পর মঞ্চে ফিরলেন। এই দুই মঞ্চ মহারথীর আগমনে গতকাল মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তন উপচে পড়েছিল দর্শকে ।

ত্রিশ বছর আগে ঢাকার মঞ্চে যোগ হয় নতুন নাটক ‘গ্যালিলিও’। নবরূপে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের এ নাটকটির প্রথম প্রদর্শনী হয়েছে গতকাল। নাটকটির নবরূপায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন পান্থ শাহরিয়ার। বার্টল্ট ব্রেখটের ‘দ্য লাইফ অব গ্যালিলিও গ্যালিলি’ অবলম্বনে ‘গ্যালিলিও’ নাটকটির অনুবাদ করেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, অভিনয় সবসময়ই টানলেও রাজনৈতিক ব্যস্ততায় অভিনয় করা হয়ে উঠে না। এখন থেকে নিয়মিত নাটকে অভিনয় করার চেষ্টা করবো। আলী যাকের বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে মঞ্চে অভিনয় করতে বা নির্দেশনা দিতে পারছি না। তবে শরীর যদি সায় দেয়, তবে এ নাটকের মধ্য দিয়েই নিয়মিত অভিনয় করবো।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন