মুক্তিযুদ্ধ জাতির পিতা জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে
রটনায় ১০ বছর কারাদণ্ড ডিজিটাল মাধ্যমে অপরাধের বিচার
দিদারুল আলম০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা (রটনা) চালানোর অপরাধে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি দশ বছর কারাদণ্ড বা কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়া হ্যাকিংয়ের জন্য ১৪ বছর কারাদণ্ড ও কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে । এই আইনে দায়েরকৃত মামলার বিচার ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের তারিখ হতে এই সময় গণনা হবে। এছাড়া মামলার তদন্ত ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তের দায়িত্ব প্রাপ্তির দিন থেকে এই সময় গণনা হবে। তবে কোনো তদন্ত কর্মকর্তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে না পারলে নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে তদন্তের সময় ১৫ দিন বৃদ্ধি করতে পারবেন।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এই আইনটি পাস হয়। ইতোমধ্যে সম্পাদক পরিষদ আইনটির বেশ কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেছে, এটা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে। আইনটি বাতিলের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই আইন তো শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়। সারাদেশের মানুষের জন্য। এছাড়া সাংবাদিকরা যেসব ধারার কথা বলছেন সেগুলো অনেক আগে থেকেই দণ্ডবিধিতে ছিল।

আইনের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা এতে মদদ প্রদান করেন তাহলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হবে একটি অপরাধ। যদি কোনো ব্যক্তি এই ধারায় অপরাধ দ্বিতীয় বার বা বারবার সংঘটন করেন তাহলে যাবজ্জীবন দণ্ডের পাশাপাশি তিন কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এছাড়া কোনো ব্যাংক, বীমা বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হতে কোনো ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে আইননানুগ কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে ই-ট্রানজেকশন করার শাস্তি হিসেবে ৫ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে আইনে।

৩৪ ধারায় বলা হয়েছে, কম্পিউটার তথ্য ভান্ডারের কোনো তথ্য বিনাশ, বাতিল, পরিবর্তন বা এর মূল্য বা উপযোগিতা হ্রাস বা অন্য কোনোভাবে ক্ষতিসাধন করা, নিজ মালিকানা বা দখলবিহীন কোনো কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশের মাধ্যমে ক্ষতিসাধন করা হলে তা হ্যাকিং হিসেবে গণ্য হবে। এর আগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে হ্যাকিংকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। সেখানে এই অপরাধের সাজা হিসেবে অনধিক ১৪ বছর এবং অন্যূন সাত বছর কারাদণ্ড বা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিতের বিধান রাখা হয়েছিল। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ ধারা সংযোজন করায় তথ্য প্রযুক্তি আইন থেকে সংশ্লিষ্ট ধারাটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

৫২ ধারায় বলা হয়েছে, ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে না পারলে যথাযথ কারণ লিপিবদ্ধ করে ৯০ কার্যদিবস বৃদ্ধি করা যাবে।

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন