এলএনজি পাইপের মেরামত কাজ শুরু
মাহবুব রনি১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
সমুদ্রের তলদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পাইপলাইনের ত্রুটি মেরামতে কাজ শুরু করেছে বিশেষজ্ঞ দল। তবে তীব্র সে াতের কারণে টানা কাজ করা যাচ্ছে না। জোয়ার-ভাটার সাথে খাপ খাইয়ে সমুদ্রের তলদেশে পাইপলাইনের ত্রুটি নিরীক্ষা করেছেন তারা। সব মিলিয়ে পাইপলাইনটিকে গ্যাস সরবরাহ উপযোগী করে তুলতে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় লাগবে বলে বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। 

পেট্রোবাংলার অধীনস্থ কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান জানান, সিঙ্গাপুর থেকে আসা কয়েকজন বিশেষজ্ঞসহ ১৫ সদস্যের একটি দল গতকাল রবিবার বঙ্গোপসাগরের তলদেশে এলএনজির পাইপলাইনের ত্রুটিস্থল পরিদর্শন করেছে। সে াতের কারণে টানা কাজ করা যাচ্ছে না। ৬ ঘণ্টার মতো সেখানে অবস্থান করা যাচ্ছে। ত্রুটি সারাতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত মোট আটবার এমন ডুব দেওয়া লাগবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের আগেই পাইপলাইনটি ফের কার্যকর করা যাবে।

এদিকে পাইপলাইনে ত্রুটির কারণে কাতার থেকে আমদানিতব্য এলএনজির একটি কার্গোর পূর্বনির্ধারিত যাত্রা বাতিল করেছে পেট্রোবাংলা। না বলা পর্যন্ত কাতারের রাসগ্যাস কোম্পানিকে জাহাজে এলএনজি ভর্তি করে বাংলাদেশে পাঠাতে নিষেধ করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি মাসে তিনটি কার্গোতে এলএনজি সরবরাহের কথা রাসগ্যাসের। প্রতিটি কার্গোতে থাকে ১ লাখ ৪০ হাজার ঘনমিটার এলএনজি। গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় ভাসমান টার্মিনাল ও সমুদ্র তলদেশের পাইপলাইনের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলের হাইড্রোলিক ভালভটি অকার্যকর হয়ে গেছে। এই ত্রুটি সারানোর অনিশ্চয়তায় চলতি মাসে আসা কার্গোটির যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (উত্পাদন ও বিপণন) মো. কামরুজ্জামান বলেন, অকার্যকর হয়ে যাওয়া হাইড্রোলিক ভালভটি ৪০ মিটার পানির তলদেশের পাইপলাইনে স্থাপিত। ত্রুটি সারানোর কাজ শুরু হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে।

জানা যায়, এলএনজির পাইপলাইনে ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। বিদ্যমান গ্যাস সংকট আরো প্রকট হয়েছে। আবাসিক ও শিল্প গ্যাস সংকটে ভুগছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে বিদ্যুত্ উত্পাদন খরচ বেড়ে গেছে। এলপিজি, কেরোসিন এবং ইলেক্ট্রিক চুলায় রান্নার কাজ সারতে গিয়ে বেড়ে গেছে গৃহস্থালির খরচ। বাসাবাড়িতে গ্যাস না পেয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কেনায় বেড়েছে জীবনযাত্রার খরচ।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। দৈনিক গ্যাস উত্পাদন করা হচ্ছে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। ৩০ কোটি ঘনফুট সমপরিমাণ এলএনজি যুক্ত হওয়ার পর সরবরাহ ৩০০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। এখন ফের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি ১০০ কোটি ঘনফুট ছাড়িয়েছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন