নৌকা প্রতীকে ১৫ ও ধানের শীষে ভোট করবে ১০টি দল
ইত্তেফাক রিপোর্ট
১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং

নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) ভোটে নিবন্ধিত দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে যেকোনো একটি দলের প্রতীক ব্যবহার করতে চাইলে তা তফসিল ঘোষণার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে ইসিকে জানানোর বিধান রয়েছে। গতকাল রবিবার সে সময় শেষ হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৫টি দল এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১০টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়। তবে জাতীয় পার্টি-জাপা তাদের নিজস্ব লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে।

প্রসঙ্গত, জোটের ভেতরে যেসব অনিবন্ধিত দল রয়েছে তারা জোটের নেতৃত্বাধীন দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে অনিবন্ধিত দলের প্রার্থীরা   নিবন্ধিত যে দলের প্রতীক নিয়ে ভোট করবেন, সেই দলের প্রার্থী হিসাবে গণ্য হবেন।

জোটগতভাবে নির্বাচন করার তথ্য বিভিন্ন দল সাংবাদিকদের কাছে উন্মুক্ত করলেও গোপনীয়তা রক্ষা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল বিকেলে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল গিয়ে জোটবদ্ধ নির্বাচনে প্রতীক ব্যবহার সংক্রান্ত চিঠি ইসি সচিবকে দিয়ে আসেন। তবে কোনো কোনো দল তাদের জোটে থাকছে এবং নৌকা প্রতীক নিচ্ছে তা তারা স্পষ্ট করেনি। তবে প্রতিনিধিদলের একজন সদস্য ইত্তেফাককে বলেন, তারা ১৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার কথা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। তবে এই ১৫টি দলের সবকয়টি নিবন্ধিত নয়, বলে জানানো হয়েছে।

ইসি সচিবকে চিঠি দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সাংবাদিকদের বলেন, তারা আরপিওর বিধান অনুযায়ী চিঠি দিয়ে জোটবদ্ধ নির্বাচন করার বিষয়ে জানিয়েছেন। যারা নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবে তার একটি তালিকা তারা দিয়েছেন। ১৪ দল ও ‘অন্যান্য যারা আছেন’ তাদের সঙ্গে নির্বাচন করার একটা রাজনৈতিক পরিকল্পনা আছে। সেটা ইসিকে জানানো হয়েছে। কোন কোন দল নৌকা প্রতীক নিচ্ছে- জানতে চাইলে মুহিবুল বলেন, এটা একটা গোপনীয় তথ্য। এটা ইসি ও আওয়ামী লীগ এই দু’পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। এটা নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের একাধিক দল নির্বাচন কমিশনে আলাদাভাবে চিঠি দিয়ে জোটগতভাবে ভোট করার কথা জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক জাতীয় পার্টি (জেপি) জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) জানিয়েছে। গত শনিবার সকালে দলটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জেপি) ১৪ দলীয় জোটের শরীক দল হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) জানিয়েছে, তারা ১৪ দলের শরিক হিসেবে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত প্রতীক ‘নৌকা’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে। এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের শরীক বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চিঠি দিয়ে বলেছে, দলীয় প্রতীক মোমবাতি নিয়ে তারা নির্বাচনে অংশ নিবে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটে ইসিতে নিবন্ধিত দল আছে আটটি। গতকাল বিএনপির মহাসচিব স্বাক্ষরিত চিঠি দিয়ে ইসিকে জানানো হয়েছে, শরীক আটটি দল নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে। এই দলগুলো হলো- বিএনপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি (বিজেপি), খেলাফত মজলিশ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও জমিয়তে ওলামা ইসলাম বাংলাদেশ। এরমধ্যে এলডিপি আলাদা চিঠি দিয়ে বলেছে, জোটের মনোনীত প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে আর দলীয়ভাবে মনোনীত প্রার্থীরা ছাতা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করবে।

ঐক্যফ্রন্টের শরিক ও সরকার বিরোধী এই জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে গণফোরাম বলেছে, গণফোরাম যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক হিসেবে অংশ নেবে। তারা দলীয় প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে।

ঐক্যফ্রন্টের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) চিঠি দিয়ে বলেছে, জেএসডি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় ঐক্যফ্রন্টের শরীক হিসেবে যৌথভাবে মনোনীত প্রার্থীরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেবে আর দলীয়ভাবে মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ‘তারা’ নিয়ে নির্বাচন করবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরীক কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সিইসিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরীক দল হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। দলীয় প্রতীক গামছা অথবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রতীক ব্যবহার করা হবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন