মেয়েসন্তান কি এখনো অনাকাঙ্ক্ষিত?
১০ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
আমরা একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বে বাস করছি। নারী অনেক দূর এগিয়ে গেছে। নারীর অবস্থার এই উন্নয়ন শুধু উন্নত বিশ্বেই নয়, তৃতীয় বিশ্বের অনগ্রসর দেশগুলোতেও দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশেও নারী আজ সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তাই বলে কি সত্যিকার অর্থে নারীর মুক্তি সাধিত হয়েছে? অবশ্যই নয়। আজো সে সমাজে, পরিবারে লাঞ্ছিত ও নিগৃহীত। নারী শিক্ষিত হলেই মুক্তি সম্ভব? বাস্তবে দেখা যায়, একটি শিক্ষিত মেয়ের জীবনও নানা প্রতিকূলতায় রুদ্ধ। নারীর এই অবস্থার জন্য দায়ী পুরুষতান্ত্রিক সামাজের কিছু বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণা। কিন্তু নারীই যখন নারীকে অসম্মান করে, নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন ভীষণ কষ্ট হয়। কিছু বাস্তব উদাহরণ দেই— ক’দিন আগে আমার বোনের একটি মেয়েসন্তান হলো। ওর শাশুড়ি কথার ফাঁকে উষ্মা প্রকাশ করলেন। জানালেন, প্রথম সন্তান ছেলে হলে তাঁরা নিশ্চিত হতেন। প্রথম মেয়েসন্তান শুনে প্রতিবেশী এক ভদ্রমহিলা বললেন, অসুবিধা নেই। মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে বড় করতে পারলে ভালো। আরেক উচ্চশিক্ষিত ভদ্রমহিলা বললেন, প্রথম সন্তান তো, যা-ই হোক চলবে। কিছুদিন আগে কথা হচ্ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স পড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে। সে জানাল তার ছেলেসন্তান-প্রীতির কথা। বলল, মেয়ে দিয়ে কী হয়? শুধু বাবা-মায়ের বোঝা। আশ্চর্য  লাগছে এরা প্রত্যেকেই শিক্ষিত! কিন্তু এদের যা নেই তা হলো সচেতনতা। সচেতনতার অভাবে তারা নিজের অজান্তেই নিজেকে করল চরম অপমান। তাই বলা যায়, শুধু শিক্ষিত হলেই চলবে না। শিক্ষার পাশাপাশি নারীকে তার অবস্থান ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে; সমাজ-সংসারে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর এজন্য সবার আগে প্রয়োজন নারীকে তার নিজের মূল্যায়ন, নিজেকে সম্মান করতে শেখা।

জয়নব চামেলী

প্রভাষক, মুড়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ,

 রুপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১০ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৭
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
পড়ুন