স্বপ্নের সাথে এগিয়ে যাওয়া
স্বপ্নের সাথে এগিয়ে যাওয়া
 

 

২০১০ সালে প্রথম সন্তান ধারণ করেন স্বপ্না বেগম, তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। দুই বাচ্চার মা, বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করণ, বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা, ১৮ বছরে বিয়ে হওয়া অতি দরিদ্র মা এমন শর্তগুলো পূরণ হলেই স্বপ্না পায় দারিদ্র্য বিমোচনে মাতৃত্বকালীন ভাতা। তারপর তাদেরই দেয়া হয় মা’দের জন্য ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’। পাঁচটি ভিত্তি সম্বলিত সোস্যাল এসিসট্যান্স প্রোগ্রাম ফর নন-এ্যাসেটার্স বা স্বপ্ন প্যাকেজ এ স্বপ্নাসহ দরিদ্র মা ও তার সন্তানকে পাঁচটি বিশেষ সুবিধা- স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ কার্ড, শিক্ষা ও বিনোদন কার্ড, স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানাসহ একটি ঘর, জীবিকায়ন সামগ্রী এবং কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে উন্নয়ন ঋণ (্ক্ষুদ্রঋণ) প্রদান করা হয়। পাঁচ বছর আগের কথা মনে করে স্বপ্না হাসতে হাসতে বলেন, এখন তাদের সংসারের অবস্থা অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তার হাতে টাকা আছে। সেই টাকা জমা করে সেসহ মা সংসদের সকলে ব্যাংকে একটি একাউন্ট করে আর একধাপ এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ও ভাল কথা স্বপ্ন প্যাকেজের আওতায় নয়জন মা নিয়ে গঠন করা হয়েছে মায়েদের সংসদ। এই সংসদে একজন স্পিকার ও দুইজন ডেপুটি স্পিকারসহ সাতজন ভোকাল আছেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি বিনোদন, সার্বিক ব্যবস্থাপনা সমন্বয়, সঞ্চয় ও ক্ষুদ্রঋণ, জীবিকায়ন, স্বাস্থ্য পুষ্টি ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন প্রভৃতি বিষয়ে ভোকালরা কাজ করেন। তাদের সংসদের স্পিকার অর্পিতা রাণী সরকার জানান, তারা নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছেন। অর্থনৈতিক মুক্তিই নারীর ক্ষমতায়নে মূল চালিকা শক্তি। তাদের পাওয়া ঘরে যেমন পুরো পরিবার বাস করছে, তেমন যে গরুটি তাদের দেয়া হয়েছিল সেই গরুর দুধ তাদের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে দুধ বিক্রি করে কিছু মূলধনও করেছেন। কিভাবে অবস্থার পরিবর্তন করা যায় সে সকল বিষয় নিয়েই তারা আলোচনা করেন। তার দুই ডেপুটি স্পিকার বিউটি রানী এবং মুক্তা বেগম তাকে সহযোগিতা করে। আর ভোকালরা যে বিষয়ের দায়িত্বে আছেন সেই বিষয়গুলো তারাই দেখেন। এর জন্য তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেয়া হয়। ব্যাস এভাবেই স্বপ্নের সাথে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। তারা যে শুধু এগিয়ে যাচ্ছেন তা নয় অন্যদের পথও সুগম করছেন । তাইতো এবছরই সরকার স্বপ্ন প্যাকেজকে বাজেটে গ্রহণ করেছেন। ৩১ মে প্যাকেজ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম এনডিসি। স্বপ্ন প্যাকেজ মডেলের উদ্ভাবক ও ডর্প এর প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক এ.বি.এম. জাকির হোসাইন, স্বপ্ন প্যাকেজ কর্মসূচির পরিচালক পারভীন সুলতানা প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দারিদ্র্য বিমোচন, দরিদ্রদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য গঠন, শিক্ষা, বাসস্থান নিশ্চিতকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, মা ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস করণে “দারিদ্র্য বিমোচনে মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রাপ্ত মা’দের জন্য ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাঁচটি ভিত্তি সম্বলিত সোস্যাল এসিসট্যান্স প্রোগ্রাম ফর নন-এ্যাসেটার্স (স্বপ্ন) প্যাকেজ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডর্প উদ্ভাবিত এ উন্নয়ন মডেলটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর দেশের সাতটি বিভাগের ১০টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করেছে। ডর্প এ কাজের সমন্বয় ও সহযোগিতার দায়িত্ব পালন করছে।

উল্লেখ্য, স্প্যানিশ ভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সাহায্য সংস্থা ‘আয়েসিদ’ এর সহযোগিতায় ডর্প ২০০৮-০৯ সালে ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ কার্যক্রমটি পাইলট আকারে বাস্তবায়ন করে। ওই সময়ে দেশের উপকূলীয় চর এলাকা লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি, কমলনগর ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা, নোয়াখালী জেলার চাটখিল, গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রায় নয় শত মা ও তার পরিবারকে স্বপ্ন প্যাকেজের আওতায় এসব সুবিধা প্রদান করা হয়। এবারে সরকারি ভাবে সারাদেশে এই ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তার আগে ডর্প ২০০৫ সালে দেশের দরিদ্র্য গর্ভবতী মায়েদের জন্যে ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা’ প্রদান কার্যক্রম শুরু করে। পরে ২০০৭-০৮ সালে মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান কার্যক্রমটিও সরকার জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করে। বর্তমানে দেশে দুই লক্ষাধিক মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী মাসে ৫০০ টাকা হারে মোট ২৪ মাস এ ভাতা পাচ্ছেন।

 

 


 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩৮
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন