সিলেট বিভাগের ৫ জয়িতার গল্প
০৮ জুন, ২০১৫ ইং
সিলেট বিভাগের ৫ জয়িতার গল্প
তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল নারী উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দিতে ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিলেট বিভাগের চার জেলার ২০ সফল নারী উদ্যোক্তারা এসেছেন। এর মধ্য থেকে চূড়ান্ত নির্বাচনে  ৫ জনকে

বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হয়। জানাচ্ছেন হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী

হাতে তুলে দেয়া হয় ১০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট ও অংশগ্রহণকারী অপর ১৫ জন নারীকেও পুরস্কৃত করা হয় তখন করতালিতে মুখরিত হয় জেলা পরিষদ হল। বুকের চাপা দুঃখ কিছুটা হলেও প্রশমিত হয় তাদের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী রোকসানা। ‘হূদয় লেডিস টেইলার্স ফ্যাশন এন্ড বুটিক হাউস’ প্রতিষ্ঠানটি ১৪ বছর অতিক্রম করেছে সুনামের সাথে। রোকসানা গতবছর অর্থাত্ ২০১৪ সালে ‘জননী ফার্নিচার’ নামে আরো একটি ব্যবসা শুরু করছেন।  যেখানে আর, এফ,এল  ব্র্যান্ডের রিগ্যাল ফার্নিচার বিক্রয় ও বিপণন করা হয়। 

অজপাড়া গাঁয়ের এক সফল জননীর নাম হাজেরা খাতুন। একে একে পাঁচ সন্তানের জননী হন হাজেরা। গ্রামের আরো দশ-পাঁচজন গৃহস্থ পরিবারের মতই হাজেরা। ছেলেদের কৃষিকাজের জন্য চাপ দিতেন। হাজেরা অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন তার সন্তানরা যে পড়া-লেখা শিখেছে ও পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে তাতে তারা খুব খুশি। তিনি বলেন- তার সন্তানরা যেন দেশের কাজে লাগে এটাই তার দোয়া।

শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হোসনে আরা বেগম। হ্যারিকেন বা মোমবাতির আলোতে তাকে কষ্ট করে পড়াশুনা করতে হয়েছে। সেই সময় কে জানতো শ্রীমঙ্গলের ভুনবীর দশরথ উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ছাত্রী একসময় সমাজের জন্য একজন মডেল হবেন। অনেক প্রতিকূল অবস্থার মধ্যদিয়ে তিনি তার জীবন সংগ্রাম চালিয়ে  গেছেন।

সিলেট জাহানারা বেগম  সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার ঢেউনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে নানা অত্যাচার সহ্য করে তিনি এইচ.এস.সি পাস করেন। তারপর তিনি মহিলাদেরকে নিয়ে একটি সমিতি গড়ে তোলেন যেখানে সেলাই, বাঁশ, বেতের কাজ করে মহিলাদেরকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৫ দিনের প্রশিক্ষণের জন্য সমিতির সভানেত্রী ও সম্পাদিকা হিসেবে সাভারের বিআরসি ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। জাহানারা ১৩০ জন মহিলাকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি কৃষি অফিসের আওতায় ৬০ জন মহিলাকে বসতবাড়ির আঙ্গিনায় শাক-সবজি চাষ, বিনামূল্যে ফলদ ও ঔষধি চারা রোপণের কাজে মহিলাদের আত্মনির্ভরশীল করতে উত্সাহ প্রদান করেন।

সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন শেফালী রানী দাশ। ২০০২ সালে প্রথমবার সংরক্ষিত নারী আসনের ইউপি  মেম্বার নির্বাচিত হন। ইউপি মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সমাজের জন্য কিছু করতে তিনি দায়বদ্ধ হন। শুরু করেন সমাজ উন্নয়নের কর্মকাণ্ড। প্রথমেই বাল্যবিবাহ বন্ধে উদ্যোগী হন। গ্রামের নারী সমাজকে একত্রিত করে এলাকায় অনেক বাল্যবিবাহ ও যৌতুক বন্ধ করতে সফল হয়েছেন তিনি। তাঁর প্রচেষ্টায় এলাকায় বাল্যবিবাহ অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া সমাজে নারী নির্যাতনের ব্যাপারেও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩৮
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন