নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক যুগান্তকারী রায়
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান
০৮ জুন, ২০১৫ ইং
n দিদারুল আলম

 

নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দেয়া যুগান্তকারী রায় নিয়ে একটি সংকলন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটির নাম দেয়া হয়েছে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক যুগান্তকারী রায়: বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান’। এর আগে বইটির প্রথম খণ্ড প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ করল মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। এতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন যুগান্তকারী রায় সংযুক্ত হয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সময়কালে সর্বোচ্চ আদালত যেসব রায় দিয়েছে তা স্থান পেয়েছে এই বইটিতে। বইটিতে যেসব রায় স্থান পেয়েছে তাতে নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ে বিচারিক ব্যাখ্যার বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং কীভাবে বিচার ব্যবস্থার এই ইস্যুটিকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করেছে তার বিশ্লেষণ রয়েছে।

এছাড়া বিচারকরা তাদের দেয়া পূর্বের সিদ্ধান্তগুলোকে সময়ের প্রয়োজনে কীভাবে পরিবর্তন করেছেন সেটাও রায়ে উঠে এসেছে। সময়ের পরিক্রমায় অপরাধ ও অপরাধ সংঘটনের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। এরকম বেশ কিছু মামলার ক্ষেত্রে বিচারকরা তাদের নিজস্ব চিন্তা-চেতনা থেকে এসব মামলার ফয়সালা করেছেন।

‘নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক যুগান্তকারী রায়: বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান’ এই বইটি প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করে ২০০৪ সালে। কারণ বইটি বিচার বিভাগ ও আইন চর্চার সাথে যুক্ত প্রতিটি মানুষকে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে রেফারেন্স বই হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করবে। বইটির প্রথম খণ্ডে ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৫ সালের রায়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীকালে বিচারক ও আইনজীবীদের সুপারিশের ভিত্তিতে বইটির দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ করা হলো। বইটির প্রথমে ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলায় যেসব যুগান্তকারী রায় দেয়া হয়েছে তা স্থান পেয়েছে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে যৌতুক, বিবাহ, হত্যা এবং বিশেষ প্রকৃতির মামলা নিয়ে দেয়া রায়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। এসব রায়ের মধ্যে বাংলাদেশের ১৮টি, ভারতের ৩৪টি ও পাকিস্তানের ১৩টি রায় স্থান পেয়েছে। এসব রায়গুলো থেকে ধারণা করা যায়, বিচার বিভাগ তাদের যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে কীভাবে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে? নারীর অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে এসব রায়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যেসব মামলায় কিছু কিছু সহিংসতা আইনের দৃষ্টিতে সহিংসতা নয় সেইসব সহিংসতাকে সামাজিক পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে রায়ে তুলে এনে নারীর সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন বিচারকরা।

বইটির রায় সংকলনের দায়িত্ব পালন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। সমন্বয়ক ছিলেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রীনা রায়। সম্প্রতি এই বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেন, বইয়ে স্থান পাওয়া রায়গুলো যদি বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করা হতো তাহলে গণমানুষের বিশেষ করে স্বল্প শিক্ষিত নারীরা উপকৃত হতেন। যদি ভবিষ্যতে এটা না করা হয় তাহলে গুটিকয়েক ব্যক্তি ছাড়া গণমানুষ এই বইয়ের মর্মার্থ বুঝতে পারবেন না। বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষায় রায় প্রদান প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইচ্ছে থাকলেও বাংলায় রায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। দু-একটি রায় যে বাংলায় দেয়া হয়নি তা তো নয়। মূলত অভ্যস্ত হওয়ার কারণে বাংলার চেয়ে ইংরেজিতে রায় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বেশি। এছাড়া যারা ডিকটেশন নেন তারাও সময়ের বিষয়টি মাথায় রেখে ইংরেজিতে ডিকটেশন নিয়ে থাকেন। ফলে সময়ও বেঁচে যায় অনেক।

বইটির মূল্যায়ন করতে গিয়ে আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, এই অঞ্চলে নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ে বেশ কিছু যুগান্তকারী রায় রয়েছে। তার মধ্যে কিছু রায় এই বইটিতে স্থান পেয়েছে। আশা করি বইটি বিচারক, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের সহায়ক হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩৮
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন