সব পেশাতেই নারী
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
সব পেশাতেই নারী
জাহাজের নাবিক থেকে বিমানের পাইলট, ব্যাংক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সমস্ত কিছুতে আজ নারীদের উদ্যম পদচারণা। আজকের নারীরা সব পেশাতেই যোগ্যতা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রেখে চলেছেন। সমাজের সকল অংশে নারীর ক্ষমতায়নের যে চিত্র, সেটা যেন গোটা বিশ্বের জন্য রোলমডেল হয়ে উঠছে প্রতিনিয়ত। জানাচ্ছেন নাসিমূল আহসান

এটার পুরস্কারও যেন হাতেনাতে পাচ্ছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত নারীদের সাফল্যে খুশি হয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আরো নারী কর্মকর্তা চেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি রাজধানীর মহাখালীর ব্রাক সেন্টারে ‘প্রমোটিং উইমেন এনট্রাপ্রেনরশিপ থ্রু ইমপ্রোভিং রিজিয়নাল কো-অপারেশন’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবু হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশে নারীদের জাগরণ এসেছে। ভারত, মায়ানমার থেকে বাংলাদেশের নারীদের কাজের দক্ষতা অনেক বেশি। নারীদের কাজের উত্সাহ দিয়ে মাহমুদ আলী বলেন, কাজ করলে সমস্যা আসবে। তাই পিছিয়ে গেলে চলবে না। সমস্যা মোকাবেলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনাদের সমস্যাগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে লিখে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোতে জমা দিবেন এবং একটি কপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দিবেন। আমি সেগুলো দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। বর্তমানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেয়েদের সংখ্যা বেশি বলে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটাই প্রমাণ করে বাংলাদেশে নারীদের অনেক পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া বর্তমান সরকার বিভিন্ন সরকারি কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৪০টি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার সেন্সেটিভ বাজেট প্রণয়ন করছে, যা নারীর অগ্রযাত্রা ও অংশগ্রহণকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

পুলিশে নারী

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে নারীরা প্রথম পুলিশ হিসেবে নিয়োগ পান। সে সময় সাদা পোশাক পরে ১৪ জন নারী স্পেশাল ব্রাঞ্চে কাজ করতেন। এরপর ১৯৭৬ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে নিয়োগ পান নারীরা। ডাক্তার, শিক্ষকতা, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকিং, ব্যবসাসহ বিভিন্ন পেশায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নারী এখন কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে। পরিবার সামলানোর পাশাপাশি দেশসেবার এই মহান পেশা বেছে নিচ্ছেন তারা। সফলতার সঙ্গে পালন করছেন চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা। দেশে বর্তমানে কর্মরত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা এক লাখ ৪৬ হাজার ৩৬৫ জন, যার মধ্যে মহিলা পুলিশ সদস্য মাত্র সাত হাজার ৫৬২ জন। পুলিশের চাকরিতে নারীদের ১৫ ভাগ কোটা থাকলেও এখন পর্যন্ত কর্মরত আছে ৫ দশমিক ১৭ ভাগ। একসময় পুলিশ বাহিনীতে যেখানে শতকরা এক ভাগও ছিলো না, আজ সেখানে শতকরা পাঁচ ভাগের বেশি হয়েছে। চ্যালিঞ্জিং এ পেশায় নারীরা যেমন এগিয়ে আসছে, তেমনি পুলিশ প্রশাসনও নারীর নিশ্চিত অংশগ্রহণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

সামরিক বাহিনীতে নারী

সামরিক পেশাতে গত এক দশকে বাংলাদেশে নারীরা উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রসর হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কোরে নারী অফিসার থাকলেও ছিলো না নারী সৈনিক। আর এ বছরের শুরুর দিকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নারী সৈনিক যুক্ত হয়। এটি নারী অগ্রযাত্রা ও ক্ষমতায়নে একটি মাইলফলক ঘটনা। এছাড়া গতবছর বাংলাদেশের বিমান বাহিনীতে প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশে উড়ছিলো দু’জন নারী। এ বছরই বাংলাদেশের নারীরা বাণিজ্যিক জাহাজে নাবিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সামরিক বাহিনীতে নারীর এ অংশগ্রহণ দেশকে যেমন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তেমনি পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত করছে।

সাংবাদিকতায় নারী

সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও। কিন্তু এ পেশাতেও নারীর সরব উপস্থিতি এখন হরহামেশা দেখা যায়। সংবাদ উপস্থাপনা থেকে রিপোর্টিং, সবখানেই নারীরা যোগ্যতা আর মেধা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মেয়ে সাংবাদিকতায় আসছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগেও পুরুষ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি প্রায় সমান সংখ্যক নারী শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে।

চালকের পেশায় নারী

শুধু শখের বশে নয়, জীবিকা অর্জনের জন্য গাড়ি চালানোকে এখন পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন নারী। কর্মসংস্থানের তাগিদ এ পেশা থেকেও পিছিয়ে রাখতে পারেনি তাদের। বর্তমানে অনেক নারীই ব্যক্তিগত বা অফিসিয়াল গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করছেন। রাজপথে তাদের দেখা যাচ্ছে স্টিয়ারিং হাতে। দক্ষ নারী চালক তৈরিতে ব্র্যাক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বুয়েট, নিরাপদ সড়ক চাই ও নিটোল-টাটা গ্রুপ কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এ কাজে সহযোগিতা করছে। নারীদের এই অগ্রগতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। যত বেশিসংখ্যক নারী স্টিয়ারিং ধরছে ততই দুর্ঘটনার হার কমে আসছে। নারী চালকদের বিষয়ে ঢাকা মহানগরির পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) তারেক বলেন, পুরুষ চালকদের সংখ্যার তুলনায় নারী চালকদের সংখ্যা খুবই কম। তবুও আনুপাতিকভাবে পুরুষদের তুলনায় নারী চালকরা খুব কম দুর্ঘটনা ঘটান, আর পুরুষদের তুলনায় তাদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ঘটনাও অনেক কম। তাছাড়া নারী চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বেশি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন