এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন্স
নারী শিক্ষায় অনন্য
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
নারী শিক্ষায় অনন্য
যদি নারী এগিয়ে যায় তবে এগিয়ে যাবে সমাজ। এই রবে মুখরিত যখন উন্নত বিশ্ব, এরই মধ্যে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি বীজ একটি সুস্থ চারা হয়ে জন্ম নিয়েছে আমাদের দেশেই। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কোলে প্রয়োজনীয় সব নির্যাস নিয়ে চারাটি বাড়ছে একটু একটু করে। চারাটি হল বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন্স। জানাচ্ছেন শাকিরুল হক তরু

স্বপ্নের পথে যার যাত্রা শুরু হয়েছে আজ থেকে ৭ বছর আগে ২০০৮ সালে। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া যদি আজ বেঁচে থাকতেন নিশ্চিত তিনি অনেক খুশি হতেন। তার সুলতানার স্বপ্ন এবার পূরণ হবেই। শিক্ষা, উত্সাহ ও ক্ষমতায়ন এই তিনটি প্রতিপাদ্যকে ভিত্তি করে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন্সের পথচলা। বিল গেটস ফাউন্ডেশন, আমেরিকা, আয়ারল্যান্ড, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইতালি, জাপান, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশের সহায়তায় হয়েছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনের সহায়তায় শেরী ব্লে­য়ারের নেতৃত্বে ২০০৮ সাল থেকে নগরীর দামপাড়া এমএম আলী রোডে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এশিয়ার নারীশিক্ষা ক্ষেত্রে স্বপ্নের বীজ বোনা এই বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশ, ভিন্ন সংস্কৃতি। বেশ চমকে গেলাম।

শুরুতে ঝাল খাবার-দাবারে নিজেকে মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছিল। এখানে নতুন অনেক কিছু দেখা ও শেখার সুযোগ হয়েছে যা আমার জীবনের বিশাল অর্জন। আফগান তরুণী হাকিমা মেহেনা তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এভাবে। মেহেনা উচ্চশিক্ষার জন্য নিজ দেশ ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন বাংলাদেশে। তাঁর স্বপ্ন আফগানিস্তানে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার। আর এ প্রতিষ্ঠানটি সত্যিকার অর্থে বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা ও সেই সাথে কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার তুলে ধরছে। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লে­য়ারের পত্নী শেরী ব্লে­য়ার এশিয়ান উইমেন্স ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. ফাহিমা আজিজ। তিনি বলেন, নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

লেখাপড়ার ধরন বিশ্বমানের। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শিক্ষার্থীরা স্বাধীন। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের মেয়েরা।

২০০৮ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, কম্বোডিয়া এই ছয়টি দেশের ১৩০ জন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১৬টি দেশের ৫০১ জন ছাত্রী লেখাপড়া করছেন। ৫০১ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৩৪ জনই বাংলাদেশি। বাকি ২৬৭ জনের মধ্যে ভারতের ২৯ জন, মিয়ানমারের ৯ জন, ভুটানের ২৫ জন, নেপালের ৪৪ জন, পাকিস্তানের ২৬ জন, আফগানিস্তানের ৪৬ জন, চীনের ৬ জন, কম্বোডিয়ার ৭ জন, ভিয়েতনামের ৩৪ জন, শ্রীলংকার ৩০ জন, ফিলিস্তিনের ৫ জন, কানাডার ১ জন, ইন্দোনেশিয়ার ২ জন, মালয়েশিয়ার ১ জন ও সিরিয়ার ২ জন ছাত্রী রয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি ছাত্রী আফরিদা মারুফ। তিনি পড়াশুনা করছেন অর্থনীতি বিষয়ে। তিনি তার অনুভূতিটা ব্যক্ত করলেন এভাবে, আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পাই, বিশ্বের অন্যান্য উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতই।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন