আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমেই হবে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমেই হবে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরে দেশটির সঙ্গে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে, তাতে আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ লাভবান হবে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তারা তাদের উত্পাদিত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে পাবেন বিশেষ সহযোগিতা। এমন ধরনের সকল বিষয় ওঠে আসে ‘আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে জানাচ্ছেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক

 

গত ৯ জুন উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) এর উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয। রাজধানীর ব্র্যাক-ইন-সেন্টারে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি বলেন ভারতের সাথে আমাদের যে সকল যুক্তি হয়েছে সব গুলোতেই বাংলাদেশ বেশী লাভবান হবে। একাধিক  বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তারা তাদের উত্পাদিত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে পাবেন বিশেষ সহযোগিতা। এলক্ষ্যে  হয়রানি কমিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের সহায়ক পরিবেশ তৈরির স্বার্তে চেম্বার অব কর্মাসে নারী কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে। একইভাবে ভারতীয় চেম্বার অব কর্মাসেও নারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি। এতে নারীদের বানিজ্য করতে সুবিধে হবে। তাছাড়া আঞ্চলিক সহযোগিতার উন্নতি মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তা অগ্রগতিতে   যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এমিয়া অঞ্চলে আন্তসীমান্ত সুবিধা ,বাণিজ্য সুবিধা মাধ্যমে নারী উন্নয়ন উদ্যোক্তাদের উন্নত করতে সরকার যতাযথ কাজ করে যাচ্ছে।

অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি বিজয় সিলভারাজ ও এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ হাসান এম মজুমদার। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন বিডবিসি উসিসিআইর সভাপতি সেলিমা আহমাদ।

বিডবিসি উসিসিআইর সভাপতি সেলিমা আহমাদ ,নারী উদ্যোক্তাদের অসংখ্য বিড়ম্বনার কথা নিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুই কাস্টমসেই কর্মকর্তাদের উপঢোকন দিতে হয়। ভারতে বাণিজ্যিক সফরে ভিসা পেতে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কাগজপত্রকে ভারতীয় দূতাবাস মূল্যায়ন করে না। কাস্টমসে নারী উদ্যোক্তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়। নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে শোভন আচরণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের কোনো নির্দেশনা বা তদারকি নেই। তাদের অন্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছেথ বন্দর ও সীমান্তের দুর্বল অবকাঠামো সংকট এবং বিদেশে মেলায় অংশ নিতে ৫০০ ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য নিতে না দেওয়া। যা আমাদেও জন্য ভয়বহ অশোভন।তবে এসবের কোন কিছুই যদি না হয় তাহলে আমরা অতিসহজ্য বানিজ্য সুবিধা ভুগ করতে পারবো।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি বিজয় সিলভারাজ, ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। স্থলবন্দর এবং সড়কে ভারত অংশে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। এতে সীমান্ত বাণিজ্যে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা সুবিধা পাবে। তখন থেকে উদ্যোক্তারা সহজে তারা তাদের কাজ সমাধান করতে পারবে। আর তাছাড়া ভারত সবসময়ই বাংলাদেশের বন্ধু প্রতিম দেশ। সে দিক থেকে অবশ্যই ভারত বাংলাদেশের সমস্যাগুলো দেখা একান্ত কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

এফবিসিসিআইর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ভারতের ভিসা জটিলতা এড়াতে ব্যবসায়ীদের জন্য পাঁচ বছরের মাল্টিপল ভিসা দিলে ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো হয়।এতে করে সহজে ব্যবসায়ীরা আসা যাওয়া করতে পারে কিন্তু বর্তমান যে অবস্থা ব্যবাসয়ী আসা যাওয়া করতেই নানান ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় যার কারণে সকল ব্যবসায়ীদেও মাঝে সবসময় একটি হতাশা কাজ করে।এই ব্যপার গুলো ভারত সরকারের একটু ভালো চোখে দেখার দরকার।পরে তিনি বাণিজ্য প্রতিনিধি দলে ৩০ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রাখাসহ নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন ।

অন্যদিকে এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ হাসান এম মজুমদার বলেন, একটি দেশ তার আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারে। আর না হয় সেই ভাবে ব্যবসায় সফল হওয়া সম্ভব নয়। তবে এ ক্ষেত্রে দুই পক্ষই তাদের আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো উচিত। ফলে দুই দেশেই দারুন উপকৃত হবে। ব্যবসা,বানিজ্য থেকে শুরু সকল ধরনের যোগাযোগে কারণে পারস্পরিব বোঝাপরাটাও ভালো হবে।

উল্লেখ্য, এই সেমিনারে বিডবিসি উসিসিআইর সাবেক ও বর্তমান পরিচালকসহ  নারী উদ্যোক্তারা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন