কালি ও কলম সাহিত্য পুরস্কার পেলেন দুই নারী
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
কালি ও কলম সাহিত্য পুরস্কার পেলেন দুই নারী
সম্প্রতি রাজধানীর বেঙ্গল শিল্পালয়ে কালি ও কলম সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হয় তিন কবি ও সাহিত্যিককে। পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে দুইজনই নারী। দেশের নবীন কবি-লেখকদের সাহিত্যচর্চা ও সাধনাকে অনুপ্রেরণা দিতে এ পুরস্কার দিয়েছে মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘কালি ও কলম’
জানাচ্ছেন মোহামদ  ওমর ফারুক

২০১৪ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের জন্য তিনটি শাখায় এ পুরস্কার দেয়া হয়। পুরস্কার পেয়েছেন কবিতা বিভাগে সাকিরা পারভীন, ছোট গল্প ও উপন্যাস বিভাগে ফাতিমা রুমি এবং প্রবন্ধ, গবেষণা ও নাটক বিভাগে এম আবদুল আলীম। রাজধানীর বেঙ্গল শিল্পালয়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ও লেখকদের হাতে চেক, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। আমরা আজ কথা বলেছি কালি ও কলম পুরস্কার প্রাপ্ত দুই নারীর সাথে।

পরিবার আমাকে সহযোগিতা করেছে

ফাতিমা রুমি

ছোটগল্প ও উপন্যাস (আমি অনিন্দিতা)

 

আমার পরিবার আমাকে কখনো মেয়ে হিসেবে দেখেনি। তারা একজন সন্তানকে যেভাবে দেখার দরকার তারা আমাকে সেই ভাবেই দেখেছেন। আমার সাহিত্য চর্চা থেকে শুরু কোন কাজে মেয়ে বলে তারা আমাকে বাধা দেয়নি। বরং আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। মেয়েরা সুযোগ পেলে কিছু করে দেখাতে পারে তার প্রমাণ বাংলাদেশের নারীরা। কিন্তু এখনো কিছু পরিবার তাদের মেয়ে সন্তানদের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটাতে দেয় না। সে ক্ষেত্রে পরিবারকে আরো উদার হতে হবে। আর যদি দেশের নারী সাহিত্যিকদের এগিয়ে চলার কথা বলি তাহলে এক কথায় বলবো তা দুর্বার গতিতে এগোচ্ছে। রক্ষণশীল পরিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ থেকে এখন নারীরা সমাজ চিকিত্সা, শিল্প, বিজ্ঞান, গবেষণা, অধ্যাপনা, রাজনীতি ও সমাজসেবার সাথে সাথে সাহিত্য চর্চায় এগিয়ে এসেছেন আলোকবর্তিকা হয়ে। এমনি করে ক্রমান্বয়ে সাহিত্য সংস্কৃতিতে সম্পৃক্ত হচ্ছে লেখকদের সফল পদচারণার উজ্জ্বল ইতিহাস। এক সময় হাতেগোনা কয়েক জন নারী লেখক ছিল এই দেশে। শুধু এই দেশের কথা বলতে গেলে ভুল হবে পুরো উপমহাদেশে নারী সাহিত্যিকের সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু এখন দেখেন, একুশে বই মেলাসহ বিভিন্ন বই মেলায় শত শত নারী লেখকের বই প্রকাশিত হচ্ছে। বই মেলা ছাড়াও অহরহ বই প্রকাশ হচ্ছে। তাহলে বুঝতে হবে এ দেশের নারীরা সাহিত্য চর্চায় অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধারাকে এগিয়ে নিতে দেশে-বিদেশে নারী লেখকরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন একাগ্রচিত্তে।

সাহিত্য চর্চায় নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে

সাকিরা পারভীন

কবিতা (বৃষ্টির মাতলামি)

পুরুষ শাসিত এই সমাজ ব্যবস্থায় একটা শিশু জন্মলগ্নের শুরু থেকেই লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকে। জন্মের পর পরই লিঙ্গ ভেদে শিশুটির বেড়ে ওঠার প্রতিটা পদক্ষেপে চাপিয়ে দেয়া হয় সমাজের নানারকম নিয়ম-কানুন। তার হাতে পায়ে সুকৌশলে পরিয়ে দেয়া হয় লিঙ্গ বৈষম্যের কঠিন শিকল।

প্রকৃতির সঙ্গে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা এই শিশুটি একদিন হঠাত্ বুঝতে পারে, সে ছেলে না মেয়ে। যে শিশু মেয়ে অর্থাত্ নারী হয়ে জন্ম নেয়; সেই শিশুটির চাল-চলনে, আচার-আচরণে, হাসি-ঠাট্টায়, চিন্তায় সর্বক্ষণ পুরুষ সমাজ লাগাম পরিয়ে দেয়। তাকে টিপ পরিয়ে, পুতুল খেলিয়ে প্রমাণ করা হয়, সে নারী। ইচ্ছে করলেই সে পুরুষের মতো বেড়ে উঠতে পারবে না। ছেলে শিশুর মতো জোরে কথা বলতে তাকে বারণ করা হয়। তার পোশাক ভিন্ন, খেলনাও ভিন্ন। বাঙালি মুসলমান সমাজের এই যে নারী-পুরুষের অসঙ্গতি- এর বিরুদ্ধে প্রথম যে কণ্ঠটি আওয়াজ করেছিলো সেটি বেগম রোকেয়া।

নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরও বেগম রোকেয়াকেই আমরা গণ্য করতে পারি। তিনি বাঙালি মুসলমানদের নব জাগরণের সূচনা লগ্নে নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণে নেতৃত্ব দেন। তার পর আর নারীদের পিছনের দিকে তাকাতে হয়নি। নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে তার সূত্র ধরেই। সকল জায়গার পাশাপাশি সাহিত্যেও তারা রাখছে দারুণ অবদান। সত্যি বলতে কি, নারীরা এখনো পুরুষতান্ত্রিকতার পাতানো ফাঁদে আটকা পড়ে আছে। শিক্ষিত হয়েও নারীরা নিজেদের আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে না।

পুরষতান্ত্রিকতার গোলক ধাঁধার মধ্যে আটকে আছে তাদের জীবন। নারী নিজেও জানে না, কিসে তার মুক্তি? নারীবাদ বলতে পুরুষরা নারীকে এটাই বোঝাতে পেরেছে যে, ‘তুমি স্বাধীন, তুমি মুক্ত, তুমি ইচ্ছে করলেই আমার সাথে বিছানায় যেতে পারো’। আর এই ফাঁদে আটকা পড়ে যায় অসংখ্য নারী। আজকে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতেও এসবই হচ্ছে। অজস্র মেয়ে অল্পতেই জালে আটকা পড়ে। তবে এ থেকে বের হতেও শুরু করেছে নারীরা। তার প্রমাণ নারীরাই।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন