সেলিনা হোসেনের জন্মদিন
ঊনসত্তরে পা, শুভেচ্ছা
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
n মোবাশ্বেরা জাহান ফাতিমা

 

১৪ জুন। কথাশিল্পী সেলিনা হোসেনের জন্মদিন। বাংলাদেশের তথা বাংলা ভাষার সাহিত্য জগতের অন্যতম এক নক্ষত্র তিনি। অনবদ্য লেখনী দিয়ে কেবল দেশের নয়, দেশের বাইরের পাঠকের মনও জয় করেছেন। তার একাধিক গ্রন্থ অনূদিত হয়েছে বিদেশি ভাষাতেও। শুধু তাই নয়, তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক। তার লেখায় প্রতিফলিত হয় সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সংকটের সামগ্রিকতা। বাঙালির অহংকার ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তার লেখায় নতুনমাত্রা যোগ করেছে।

সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন, রাজশাহী শহরে। তার পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রাম। বাবা এ কে মোশাররফ হোসেন এবং মা মরিয়মন্নেসা বকুল। তিনি পিতা-মাতার চতুর্থ সন্তান।

ঊনসত্তরে পা দিয়েছেন সেলিনা হোসেন। জীবনের এই সময়ে সাহিত্যের সঙ্গেই আছেন প্রায় একান্ন বছর। পেছনে ফিরে তাকালে কী দেখতে পান? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ এত দিন পর পেছনের দিকে তাকালেই দেখতে পাই, আমার একটা অসাধারণ সোনালি শৈশব ছিল। সেই শৈশবে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, শিক্ষার জায়গা—এ সবকিছু ছিল। সব মিলিয়ে আমার লেখালেখির অনুপ্রেরণার জায়গাও সেটা। শুরু থেকে আমার লেখালেখি এবং এ সূত্রে যে সুন্দর বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, লেখালেখির জায়গাটাকে যেভাবে পেয়েছি, আমাদের দেশে এই একবিংশ শতাব্দীর মেয়েরা এখন যারা লিখছে, অনেক সময় তারাও হয়তো সেভাবে পায় না। লিখতে এসে নারী হিসেবে প্রতিকূল কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি আমাকে। এদিক দিয়ে আমি সৌভাগ্যবান।

কখনো কি মনে হয়েছে, সামাজিক দায়িত্ব পালনের কারণে লেখালেখি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? তিনি বলেন, সামাজিক কাজকর্মে অংশ নিয়ে মানুষের মাঝে থেকেছি বলেই অভিজ্ঞতা পেয়েছি। শুধু ঘরের মধ্যে বসে আমি কী করতে পারতাম? সামাজিক দায়িত্ব পালন না করে যদি কেবল লেখালেখি করতাম; মনে হয় পারতামই না। মানুষের মধ্যে না গেলে আমি নিজেকেও বুঝতাম না। আমার শিক্ষক অধ্যাপক আবদুল হাফিজ বলেছিলেন, মেয়ে হয়েছ বলে চার দেয়ালে বন্দী রেখো না নিজেকে, দুই চোখে বিশ্ব দেখো। কথাটি আমি ভুলিনি কখনো। লেখালেখির শুরুর পর থেকে এই একান্ন বছর এক হাতে লেখালেখি, অন্য হাতে নানা বিষয়-আশয় সামলেছি। লেখা থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হইনি।

নিজের লেখালেখি নিয়ে মূল্যায়ন করতে বললে সেলিনা হোসেন বলেন, আমার নিজের কোনো মূল্যায়ন নেই। যা সাধ্য ছিল, করেছি। এখন ভবিষ্যতে মূল্যায়ন করে কেউ যদি বলে, পারিনি; মেনে নেব। যদি বলে কিছু পেরেছি; তা-ও মেনে নেব। কারণ আমি যা করেছি, আমার শ্রম ও সততা থেকেই করেছি। যতটুকু পেরেছি, ততটুকুই আমার সামর্থ্য।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন